বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া-না-যাওয়া: আজকের তিনটি বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত?

ছবির উৎস, বিএনপি
আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা-না-করা নিয়ে বাংলাদেশের বিরোধীদল বিএনপির নেতারা আজ নিজেদের মধ্যে এবং তাদের মিত্র ও শরিক দলগুলোর সাথে কয়েকটি বৈঠক করতে যাচ্ছেন।
মনে করা হচ্ছে, আজকের এ বৈঠকগুলোর পরই আগামী ২৩শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির সিদ্ধান্তের কথা জানা যাবে।
শনিবার বিকেলে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। এর পর বিএনপি যে দুটি জোটে আছে তার শরিকদের সাথেও বৈঠক করবে। প্রথমে হবে জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সাথে একটি বৈঠক, এবং দিনের শেষ বৈঠকটি হবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে।
"আমরা আমাদের ৭-দফা দাবি অনুযায়ী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই, এবং সে জন্য দাবি করেছিলাম যে তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দেয়া হোক" - বিবিসি বাংলাকে এ কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে.(অব) মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, "কিন্তু যেহেতু তফসিল ঘোষিত হয়ে গেছে, এবং ১৯শে নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে - তাই এই পরিস্থিতিটাও আজকের মিটিংএ আলোচনায় আসবে বলে আমি মনে করি।"
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, পিএমও
নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়ে যাওয়ায় বিএনপি-সহ বিরোধী দলগুলোর জোট তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে একটা দোটানায় পড়েছে।
তফসিল ঘোষণার পর বিএনপিসহ বিশ দলীয় জোটের নেতারা এর মধ্যেই একটি বৈঠক করেছেন কিন্তু তা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
বিএনপি ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা নিয়ে দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সাথে বিভিন্ন সময় বিবিসির সংবাদদাতাদের যে কথা হয়েছে - তাতে তাদের মধ্যে দু-ধরনের মনোভাব কাজ করছে বলে প্রতীয়মান হয়।
বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে ২০১৯ সালের ২৮শে জানুয়ারি পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী সরকার সংসদ বহাল রেখে এই মেয়াদের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে চেয়েছে ।

ছবির উৎস, বিবিসি
তবে বিরোধী রাজনৈতিক জোট, অর্থাৎ বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে মেয়াদ পূর্তির পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। সেজন্য তারা তফসিল পিছানোরও দাবি করেছিল।
কিন্তু তাদের দাবি না মেনে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাদন্ড ভোগ করছেন। খালেদা জিয়ার ছেলে এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একাধিক মামলায় দন্ডিত এবং গত প্রায় এক দশক ধরে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন।








