খাসোগজি হত্যাকান্ড: এরদোয়ান কি সৌদি বা মার্কিন চাপের মুখে?

ছবির উৎস, Getty Images
ইস্তুাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে জামাল খাশোগজি হত্যাকান্ড সম্পর্কে আজ তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান যে বক্তৃতা দিয়েছেন, তাতে তিনি 'কি নগ্ন সত্য উদ্ঘাটন করেন' তা নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল থাকলেও বাস্তবে দেখা গেল - এতে তেমন নতুন তথ্য ছিল খুবই কম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হয়তো তিনি সৌদি আরবের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে চান না - আর এর পেছনে পর্দার অন্তরালে হয়তো মার্কিন চাপ বা অন্য কিছু কাজ করে থাকতে পারে।
মি এরদোয়ান আজ কী বলেন, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই একটি ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
কারণ তিনি নিজেই কদিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, আজকের বক্তৃতায় তিনি জামাল খাশোগজির হত্যাকান্ড সম্পর্কে 'নগ্ন সত্য' ফাঁস করে দেবেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আজ যা প্রকাশ করলেন - তাতে আসলে ঘটনা সম্পর্কে নতুন তথ্য কমই জানা গেছে।
তুর্কী কর্তৃপক্ষ এর আগে হত্যাকান্ডের ঘটনার যে অডিও রেকর্ডিং থাকার কথা বলেছিল, সেটির কোন উল্লেখও মি. এরদোয়ানের বক্তৃতায় ছিল না।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কোন উল্লেখই মি. এরদোয়ান বক্তৃতায় করেননি, যিনি এই হত্যাকান্ডের নির্দেশ দেন বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।
বিবিসি বাংলায় আরও খবর:

ছবির উৎস, Getty Images
'মি. খাসোগির মৃতদেহ কোথায়, এবং কে তাকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছে' - সৌদি আরবের কাছে তা জানতে চান মি. এরদোয়ান তার ভাষণে।
তবে সৌদি বাদশাহ সালমানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি মি. এরদোয়ান।
তিনি বলেন, এরকম প্রশ্ন তোলার কোন কারণ তিনি দেখছেন না।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, এই হত্যাকান্ড ছিল খুবই একেবারেই পূর্ব পরিকল্পিত, খুব বর্বর এবং সহিংস পদ্ধতিতে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। কিন্তু হত্যাকান্ডের ব্যাপারে যেসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে তা মি. এরদোয়ান প্রকাশ করেন নি।
বিবিসির বিশ্লেষক মার্ক লোয়েন বলছেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সংঘাতে জড়াতে সাধারণত দ্বিধা করেন না।
কিন্তু এক্ষেত্রে মনে হচ্ছে, তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে এখনো কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চান।
"এর কারণ হয়তো পর্দার অন্তরালে ওয়াশিংটনের চাপ বা অন্য কোন কিছু" - বলছেন মার্ক লোয়েন।
ব্যাপারটা যাই হোক, বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জামাল খাশোগজির হত্যাকান্ড সম্পর্কে যতটা প্রশ্নের উত্তর জোগালেন, তার চেয়ে যেন নতুন প্রশ্ন তুললেন অনেক বেশি।








