বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন থামছে না ইলিশ আহরণ

    • Author, সানজানা চৌধুরী
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

ইলিশের প্রজনন মৌসুমের ২২ দিন সরকার মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করলেও তা মানছেন না জেলেরা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে জাল ফেলছেন তারা।

গত ৭ই অক্টোবর থেকে ৩৭টি জেলার সব ক'টি নদীতে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। যা চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

এই সময়ের মধ্যে ইলিশ ধরা আইনত দণ্ডনীয় হলেও বিবিসির অর্চি অতন্দ্রিলা মুন্সিগঞ্জে সরেজমিনে দেখতে পান যে বাজারে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে তাজা ইলিশ।

আরও পড়তে পারেন:

সেগুলো কিনতে অসংখ্য মানুষকে নদীর তীরে ভিড় করতে দেখা যায়।

বিশেষ করে লৌহজং এলাকায় ঝাউটিয়ার চরে যেতে যে একটিমাত্র ট্রলার লোকজন পারাপার করে সেখানকার যাত্রীদের বেশিরভাগকে এই ইলিশ কেনাবেচা করতে দেখা যায়।

দিনভর পুরোটা সময় জুড়েই নদীর পাড়ে চলে এই ইলিশ কেনা-বেচা।

নারীদের হ্যান্ডব্যাগ থেকে শুরু করে বস্তা, স্কুলব্যাগ বা সুটকেসে ভরে প্রশাসনের চোখের আড়ালে এসব ইলিশ সরিয়ে নিচ্ছেন তারা।

ক্রেতাদের মুখে জানা যায় ৪০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে একেকটি ইলিশ মাছ।

ক্রেতাদের কয়েকজন অভিযোগ করেন যে, পুলিশ তাদের কাছে এসব মাছ পেলে সেগুলো নিয়ে যায়।

তবে এই অবৈধভাবে মাছ ধরার পেছনে প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবকে দুষছেন লৌহজং জেলা সমিতির সভাপতি পরিমল মালো।

তাছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের যে প্রণোদনা দেয়ার কথা ছিল সেটা এখনও কেউ হাতে না পাওয়ায় জেলেরা পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে মাছ ধরছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে জেলেদের একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী লোভে পড়ে মাছ ধরছে বলেও বিবিসিকে জানান পরিমল মালো।

এসব মাছ কৌশলে অস্থায়ী ইলিশের হাঁটে কেনা-বেচা হচ্ছে। তারপর ক্রেতাদের হাতে হাতে মাছগুলো চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে।

তবে মুন্সিগঞ্জ জেলার মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ জানান, তারা অবৈধ ইলিশ আহরণ বন্ধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য নদীগুলোয় টহল দেয়া হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ৫৩ জন জেলেকে জেল জরিমানা করার পাশাপাশি নৌকা ও জাল জব্দ করা এমনকি জাল পোড়ানোর কথাও জানান তিনি।

তবে মেঘনার বিশাল পরিধি জুড়ে প্রতিমুহূর্তে নজরদারি রাখা জেলার কর্মকর্তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব বলেও উল্লেখ করেন নৃপেন্দ্র নাথ।

তিনি বলেন, "একদল অসাধু লোভী জেলে অবৈধভাবে মাছ ধরছে। আমরা তাদেরকে ধরে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করছি। বেশিরভাগ সময় আমরা খবর পেয়ে যখন অভিযানে যাই, তার আগেই তারা পালিয়ে যায়। তবে তারা যে মাছ ধরছে সেগুলো বৈধভাবে কেনাবেচার কোন সুযোগ নেই। যা হচ্ছে সবই চোখের আড়ালে অবৈধভাবে হচ্ছে।"

অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে জেলেদের হামলার মুখে পড়ার কথাও জানান জেলার মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ।

এদিকে, জেলেদের কাছে সাত দিনের মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে যেন কোন প্রকার অনিয়ম না হয় সে বিষয়ে তদারকির কথাও জানান তিনি।