মিশরের স্কুল থেকে মিকি মাউস কেন বাদ দেয়া হচ্ছে

কায়রোর উত্তরের একটি প্রদেশের স্কুলের শিশুরা নতুন বছর শুরু করবে তাদের প্রিয় ডিজনি চরিত্র মিকি মাউসকে বাদ দিয়ে

ছবির উৎস, KHALED DESOUKI/AFP/GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান, কায়রোর উত্তরের একটি প্রদেশের স্কুলের শিশুরা নতুন বছর শুরু করবে তাদের প্রিয় ডিজনি চরিত্র মিকি মাউসকে বাদ দিয়ে

মিশরের রাজধানী কায়রোর উত্তরের একটি প্রদেশের স্কুলের শিশুরা নতুন বছর শুরু করবে তাদের প্রিয় ডিজনি চরিত্র মিকি মাউসকে বাদ দিয়েই।

কোয়ালিউবিয়া প্রদেশের গভর্নর ডিক্রি জারি করেছেন যার ফলে জনপ্রিয় কার্টুন ক্যারেকটার মিকি মাউস এবং তার বন্ধুদের ইমেজের পরিবর্তে প্রি স্কুলের দেয়ালে "সেনাবাহিনীর নায়কদের" ছবি লাগাতে হবে।

গভর্নর আলা আব্দুল হালিম মোহাম্মদ মারজুক সংবাদদাতাদের বলেছেন "মিকি মাউস এবং ডোনাল্ড ডাকের ইমেজ পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর যারা বীরত্ব দেখিয়ে নিহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের ছবি দেয়া প্রয়োজন। যাতে করে শিশুরা তাদেরকে রোল মডেল হিসেবে দেখে"।

তিনি আরো বলেন, এই কার্টুন চরিত্রগুলো আমেরিকার তৈরি। যেখানে আমাদের দেশেই বিখ্যাত ব্যক্তিরা রয়েছেন, তাদেরকে দেখলে শিশুদের দেশপ্রেম আরো বাড়বে।

শিক্ষা-মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, একটা কমিটি পর্যবেক্ষণ করবে কীভাবে পুরো প্রদেশে গভর্নরের এই আদেশ কার্যকর করা হচ্ছে।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি যিনি নিজেও সামরিক বাহিনীর সাবেক জেনারেল ছিলেন, তিনি সব সময়ই সেনাবাহিনী জীবন, সাধারণ মানুষের মাঝে বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিতর্ক

ডিজনি চরিত্র মিকি মাউস
ছবির ক্যাপশান, ডিজনি চরিত্র মিকি মাউস

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এত অল্প বয়সের শিশুদের জন্য এটার কি প্রয়োজন ছিল?

গভর্নরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন।

তারা বলছেন কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল মিকি মাউসের দিকে নজর না দিয়ে ভাঙ্গাচোরা ক্লাসরুম এবং পুরোনো ধাঁচের শিক্ষা পদ্ধতির দিকে নজর দিতে।

একজন টুইট করেছেন "আমি জানি না কি বলা উচিত। আমি স্কুলে যাওয়ার আগেই পড়তে শিখেছি আর সেটা শিখেছি মিকি ম্যাগাজিনের জন্য। যেটা আমি এখনো পড়ি"।

সাংবাদিক মোহামেদ রাগাব লিখেছেন "কেউ একজন মাননীয় গভর্নরকে বলবেন তার এই সিদ্ধান্ত তাকে একটা কার্টুন ক্যারেক্টারে পরিণত করবে"।

কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন "মৃত-ব্যক্তিদের ছবি স্কুলের দেয়ালে টাঙ্গানোর দরকার কি? আমাদের শিশুরা কি করেছে যে এটা তাদেরকে নিতে হবে?"

কিন্তু অল্প কিছু মানুষ আবার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

একজন লিখেছেন "এটা একটা ভালো দিক যে আমাদের শিশুরা আমাদের শহীদদের সম্পর্কে যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের সম্পর্কে জানতে পারবে"।

২০১৫ সালে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মিকি মাউসের কানের সাথে প্রেসিডেন্ট সিসির ছবি ফটোশপ করার জন্য তিন বছরের জেল হয়েছিল।

অনেকেই বলছেন সামনের বছরে তাই মিকি মাউস মিশরে একটা বড় বিতর্কের বিষয় হলেও হতে পারে।