কারাগারে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দেয়ার আদেশ বহাল

ছবির উৎস, AFP
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেননি চেম্বার বিচারপতি। সোমবার শুনানি শেষে রাষ্ট্রপতিকে লিভ টু আপিল করতে বলেছেন চেম্বার বিচারপতি ইমান আলী।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় কারাগারে থাকা শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দিতে ৫ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত ওই আদেশ দেন।
কিন্তু সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্র পক্ষ আবেদন করেছিল। সোমবার সেই আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন সারা হোসেন। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেননি বিচারপতি। বরং আদালত রাষ্ট্র পক্ষকে লিভ টু আপিল করতে বলেছেন। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকায় কারাগারে শহিদুল আলমের প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা পাবেন।
আরো খবর:

ছবির উৎস, PUNIT PARANJPE
রাষ্ট্র পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
এর আগে ২৭ আগস্ট ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম ডিভিশনের ব্যাপারে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠালেও সেটির অনুমোদন তারা পায়নি। এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি করেন রেহনুমা আহমেদ।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলার সময় গত ৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে তুলে নেয় ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে 'উসকানিমূলক মিথ্যা' প্রচারের অভিযোগে মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে ১২ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরপর তার জামিনের জন্য কয়েক দফা আবেদন করা হলেও সেসব নামঞ্জুর হয়।
সর্বশেষ জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হলে ৪ঠা সেপ্টেম্বর দ্বৈত বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রত বোধ করলে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি বিচারপতি রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোঃ. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সেখানে ১০ সেপ্টেম্বর শহিদুল আলমের জামিনের আবেদন ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি করার আদেশ দেন।
১১ সেপ্টেম্বর মহানগর দায়রা জজ জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।








