শহিদুল আলমের গ্রেফতারে ক্ষুব্ধ ব্রিটিশ টিভি তারকা কনি হক

কনি হক: 'বাংলাদেশকে নিয়ে আর গর্ব করি না'

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কনি হক: 'বাংলাদেশকে নিয়ে আর গর্ব করি না'

বাংলাদেশি ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গ্রেফতারের ঘটনায় ব্রিটিশ টেলিভিশন তারকা কনি হক বাংলাদেশকে নিয়ে তার গর্ব হারিয়ে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে এক বিক্ষোভে অংশ নেন কনি হক।

এক ভিডিও বার্তায় কনি হক বলেছেন, শহিদুল আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে যে আচরণ করা হয়েছে তাতে তিনি স্তম্ভিত।

কনি হক

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নব্বুই এর দশকে ব্রিটেনে জনপ্রিয় টিএনএজ টিভি তারকাদের একজন ছিলেন কনি হক

"কারও বিশ্বাসের জন্য তাকে জোর করে ধরে নিয়ে কারাগারে আটকে রাখার মতো কাজ যে বাংলাদেশ সরকার করতে পারে তার আমি ভাবিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটা বোঝা যাচ্ছে এই ভাবনা মোটেই ঠিক ছিল না। আমার দেশ, যাকে নিয়ে আমি এত গর্ব করতাম, লোকে এখন মনে করে সেদেশে এখন খুবই আপত্তিকর এক সরকার ক্ষমতায় আছে।"

কনি হক আরও বলেছেন, তিনি করেন শহিদুল আলম মুক্তি পাবেন এবং ন্যায় বিচার পাবেন।

শহিদুল আলমের মুক্তির ব্যাপারে কনি হক সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব। এর আগেও তিনি শহিদুল আলমের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে টুইট করেছেন।

ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের গ্রেফতার নিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের গ্রেফতার নিয়ে তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার

কনি হক ব্রিটেনে খুবই সুপরিচিত এক টেলিভিশন তারকা।

নব্বুই এর দশকে তিনি বিবিসি টেলিভিশনের জনপ্রিয় এক অনুষ্ঠান ব্লু পিটারের উপস্থাপক ছিলেন। লেবার পার্টির এমপি রূপা হক তার বোন।

আরও পড়ুন:

শহিদুল আলমের মুক্তির দাবি জানিয়ে রূপা হকও বিবৃতি দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের ওপর চাপ দেয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ৫ই আগস্ট শহিদুল আলমকে বাংলাদেশের পুলিশ আটক করে। তার বিরুদ্ধে ইন্টারনেটে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে 'অসত্য এবং উস্কানিমূলক তথ্য' ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়।

বাংলাদেশে যখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর-তরুণরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছিল তখন আল জাজিরা টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছিলেন শহিদুল আলম। তারপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।