৯ ম্যাচে ৫৪ গোল: বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ১৫ নারী ফুটবল দলের সাফল্যের রহস্য কী?

ছবির উৎস, BANGLADESH FOOTBALL FEDERATION
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশের অনুর্ধ্ব ১৫ নারী ফুটবল দল ভুটানে দক্ষিণ এশিয়ান অনুর্ধ্ব ১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠেছে।
সেমিফাইনালের আগে গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে ১৪-০ ও নেপালকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কিশোরী ফুটবলারদের দলটি।
আট মাস আগে ঢাকায় হওয়া সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, হংকংয়ে আমন্ত্রণমূলক জকি কাপ এবং চলতি দক্ষিণ এশিয়ান আসরে সফলতা পাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
তিনটি আসরে মোট ম্যাচ খেলেছে ৯টি। আর প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়েছে ৫৪টি।
আর গোল হজম করেছে মাত্র ২টি।
এমন গোলবন্যার নেপথ্যে কী আছে? অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার কাছে জানতে চায় বিবিসি বাংলা।
"সাধারণত পরিস্থিতি বুঝে গোল হয়। আমরা মাঠে থাকলে শুধু চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েই ভাবি। গোল হলেই তো জয় হয়, ৪টা বা ৫টা দিলেও জয় পাই ৩টা গোল দিলেও জয় পাই।"
তবে কখনো কখনো পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না। যেমন সোমবার নেপালের বিপক্ষে।
মারিয়া বলেন, "যখন আমরা গোল পাই না তখন আমরা সবাই মিলে বৈঠক করি। আলোচনা করে আবার ভালোভাবে খেলে ৩টি গোল দেই।"
পাকিস্তানের সাথে মূল লক্ষ্য ছিল প্রথম ম্যাচ জয়। কারণ প্রথম ম্যাচ জিতলে গ্রুপ পর্ব পার করা সহজ হয়। তাই গোল দেওয়ার বাড়তি তাড়না ছিল বলে জানান তিনি।
আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, BANGLADESH FOOTBALL FEDERATION
গত সাফ অনুর্ধ্ব ১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন হবার ফলে এবারও চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য খেলছে বাংলাদেশ দল।
মারিয়া মান্ডা মনে করেন, আত্মবিশ্বাসী হয়ে যেভাবে দলটি খেলছে সেভাবে এগুলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশে ফেরাটা সম্ভব হবে।
মূলত প্রস্তুতির দিকে বেশি নজর দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবলের বর্তমান সফলতম দলটি।
নিয়মিত ফুটবল ফেডারেশনের ক্যাম্পে বিশেষায়িত কোচের অধীনে প্রতিদিন তিনবার অনুশীলন করে কিশোরীদের দলটি।
মারিয়া মান্ডা মনে করেন, এই দলটির মূল শক্তি কোনো দলকে দুর্বল না ভাবা।
সেমিফাইনালে ভুটানের মুখোমুখি হবে তারা।
বাংলাদেশের এই কিশোরী ফুটবল দলটির এমন সফলতার পেছনের কারণ জানতে চেয়েছিলাম বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণের কাছে।
তিনি বলেন, "মেয়েদেরকে নিয়মিত রুদ্ধদ্বার অনুশীলন করানো হয়। মূলত তাদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মানসিক ও শারিরীক পরিচর্যা বেশি কাজে লাগছে।"
এভাবেই এই দলটিকে তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মেয়েরা ফুটবলকে পেশা হিসেবে, ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়া শিখছে, এটাকে বড় কারণ মনে করেন মাহফুজা আক্তার কিরণ।









