যার কৈশোর কেটেছে ইউটিউবে

১৯ বছরের লুইস একজন ইউটিউবার
ছবির ক্যাপশান, ১৯ বছরের লুইস শৈশব থেকে একজন ইউটিউবার

ব্রিটেনে সবচেয়ে বড় অনলাইন ভিডিও ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে ইউটিউব তারকা এবং তাদের ভক্তরা জড়ো হচ্ছেন লন্ডনে।

ইউটিউবকে যারা নিজেদের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে তেমনই একজন লুইস বল।

১৯ বছরের এই তরুণ ইউটিউবার এর মেকআপ সংক্রান্ত টিউটোরিয়াল এবং ছাত্র হিসেবে তার জীবনের প্রতিদিনকার ঘটনা নিয়ে ভিডিও ব্লগ বা ভ্লগ তাকে ৩ লাখের বেশি অনুসারী এনে দিয়েছে।

"অনলাইনে বেড়ে ওঠা"

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সে এসব ভিডিও পোস্ট করে আসছে। বিবিসিকে সে জানায় নিজের টিন-এজ সময়টাকে অনলাইনে তুলে ধরা নিয়ে তার কোন অনুশোচনা নেই।

"আমি আমার টিন-এজ বয়সটা অর্থাৎ ১৩ থেকে ১৯ বছরের প্রতিটি মুহূর্ত অনলাইনে প্রকাশ করেছি। আমি জানি অনেক মানুষই এই বিষয়টাকে ঘৃণা করে কিন্তু আমি পেছনে ফিরে ১৪ বছর বয়সী আমাকে দেখতে ভালবাসি।"

"খুব অল্প বয়স থেকে সামাজিক মাধ্যম নিয়ে আমার অবসেশন ছিল। আমার বয়স যখন ৮ কি ৯ বছর তখন একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে আমি আমার পোষা প্রাণীর ছবি তাৎক্ষণিকভাবে তুলে দিতাম।"

এরপর প্রাথমিক স্কুলের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভিডিও ব্লগে।

লুইসের ভিডিও যা সম্মিলিতভাবে ১৬ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে যেসব ভিডিওতে তার জামাকাপড় থেকে মেকআপ কিংবা ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া সবকিছুই স্থান পায়।

"ফলাফল না ভেবেই যা খুশি মন্তব্য"

এভাবে একটি কিশোরের 'অনলাইনে বেড়ে ওঠা' অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হলেও এই তরুণ বলছে তার অভিজ্ঞতা ছিল ইতিবাচক।

"অনলাইনে ভিডিও পোস্টিং একজন ব্যক্তি হিসেবে আমার পরিচয় খুঁজে বের করতে সাহায্য করেছে এবং আমার ব্যক্তিত্বের সেরাটা বের করে এনেছে।"

আরো পড়তে পারেন:

অনলাইনে সব ইউটিউবারদের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হতে হয়-বলেন এই ইউটিউবার

ছবির উৎস, Lewys Ball

ছবির ক্যাপশান, অনলাইনে সব ইউটিউবারদের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হতে হয়-বলেন এই ইউটিউবার

আরও অনেক ইউটিউবারের মত লুইসও সোশ্যাল মিডিয়াতে ট্রলিং এবং লোকজনের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য থেকে বাদ পড়েনি।

"অনলাইনে লোকই আমার কাজকে সমর্থন দিয়ে আসছে কিন্তু আরও বহু মানুষ আছে যারা শুধু আমাকেই নয় অন্য ইউটিউবারদেরকেও নিচে নামাতে তৎপর।"

লুইস বলেন ইউটিউবারদের সবাইকেই এ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। "এমন কোন ইউটিউবারের কথা আমি শুনিনি যাকে এ ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হতে হয়নি।"

এই তরুণ আরও যোগ করেন, " ইউটিউবে লোকজন ফলাফল চিন্তা না করেই যা খুশি তাই বলে বসে।"

"ইউটিউবের ভিন্ন চেহারা"

নিজের পোস্ট করা ভিডিওগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সম্পাদনা করেন লুইস। কারণ ভিউয়ারের সাথে কথোপকথনের মতো মনে হলে সেই ভিডিও দিতেই সে পছন্দ করে।

"আমি মনে করি ইউটিউবের যে আন-গ্ল্যামারাস দিকটি আছে সে দেখানো জরুরি কারণ তা আপনাকে দর্শকের কাছাকাছি আনবে ।"

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের জীবনের প্রকৃত চিত্রই তুলে ধরতে চায় সে। আর ইউটিউবকে সে নিয়েছে একটি "পূর্ণকালীন কাজ" হিসেবে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন: