নাগাসাকি: ভুলে যাওয়া এক শহর
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের যে দুটি শহরে পারমানবিক বোমার আঘাত হানা হয়েছিল নাগাসাকি তার মধ্যে একটি। অন্যটি হিরোসিমা। হিরোসিমার কথা ইতিহাসে এবং বর্তমান সময়েও বার বার আলোচনায় আসলেও নাগাসাকি হয়ে গেছে ভুলে যাওয়া একটা শহরের মতো।

ছবির উৎস, Getty Images
৭৩ বছরের মধ্যে প্রথম বারের জাতিসংঘের মহাসচিব নাগাসাকিতে আজ পৌছানোর কথা রয়েছে।
৯ই আগস্ট নাগাসাকিতে বোমা হামলা করা হয়, সেই উপলক্ষে তিনি যাবেন সেখানে।
কিন্তু এতদিন পর্যন্ত কেন এটা ভুলে যাওয়া একটা শহর হয়ে আছে?

ছবির উৎস, Getty Images
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুটেরেসের এই সফর অবশ্যই অস্বাভাবিক।
১৯৪৫ সালের ৯ ই আগস্ট পারমানবিক বোমা হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের সফর এটাই প্রথম।
নাগাসাকি বিশ্বের সর্বশেষ শহর যেখানে পারমানবিক বোমা ফেলা হয়েছিল।
২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় আমেরিকা বাহিনী শহরটির ওপর পারমানবিক বোমা ফেলে।
কিন্তু এর তিনদিন আগে হিরোসিমাতে পারমানবিক হামলা হলে নাগাসাকি সবসময় আলোচনায় ততটা আসেনি।
যার ফলে এই শহর ভুলে যাওয়া একটা শহর হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে।
যুদ্ধে ১৪ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করতে রাজী হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
১৯৪৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের ইতি ঘোষণা করা হয়।
বোমায় পুড়ে যাওয়া হিরোসিমা শহরে যত উচ্চ পর্যায়ের সফর হয়েছে, সে পরিমাণ নাগাসাকিতে হয়নি।
এমনকি বারাক ওমাবা ছিলেন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানে যান ২০১৬ সালে।
কিন্তু তাঁর সফর-সূচীতে হিরোসিমা থাকলেও নাগাসাকি ছিল না।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Getty Images
আমেরিকান একজন লেখক গ্রেগ মিটচেল ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন কেউ কখনো নাগাসাকি নামে কোন বেষ্ট সেলার বই বা সিনেমা বানায় নি।
৭৩ বছর আগে সেই বোমা হামলায় ৫০ হাজার লোক নিহত হয়েছিল। হিরোসিমায় যত মানুষ নিহত হয়েছিল, নাগাসাকিতে নিহতের সংখ্যা ছিল সে তুলনায় অর্ধেক।
হিরোসিমাতে এক লক্ষ ৩৫ হাজার লোক নিহত হয়।
নাগাসাকিতে যে বোমাটি ফেলা হয় সেটি ছিল বেশি শক্তিশালী।
'ফ্যাট ম্যান' কোডনামে পরিচিত সেই অ্যাটমিক বোমার শক্তি ছিল ২০ কিলোটন অব টিএনটি।








