বাংলাদেশে গৃহকর্মে নিযুক্ত শ্রমিক বা নির্মাণ শিল্পে মজদুরদের কে দেখবে?

ছবির উৎস, AFP
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেয়া হলেও ভবন নির্মাণসহ ঝুঁকিপূর্ণ অনেক খাতের শ্রমিকরা এখনও অবহেলিতই রয়ে গেছে।
তাদের অনেকে বলেছেন, প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও তাদের সমস্যা বা উদ্বেগ তুলে ধরার কোন জায়গা নেই। গৃহকর্মে নিয়োজিত শ্রমিকদেরও চোখবুঁজে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোতে ৮৫% শ্রমিক কাজ করলেও নূন্যতম অধিকারটা তাঁরা পাননা।
মঙ্গলবার শ্রমিক দিবসে ঢাকার রাজপথ ছিল শ্রমিকদের মিছিল, শোভাযাত্রা বা সমাবেশের মতো কর্মসূচির দখলে।
এসব কর্মসূচিতে পরিবহণ এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল। তবে এবার গৃহকর্মী বা ভবন নির্মাণের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদেরও তাদের দাবি নিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়।
নির্মাণ খাতে পরিবহনের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন সংগঠনের পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে।
শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করে, এমন একটি সংগঠন বিল্স বলছে, নির্মাণ খাতে গত বছর ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
আরও দেখুন:
ঢাকার কাকরাইল এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বহুতল ভবনটির সাত তলায় রশিতে ঝোলানো একটি মাচায় দাঁড়িয়ে দু'জন শ্রমিক কাজ করছেন।
এত উঁচুতে ঝুঁকির মধ্যে তাদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তাদের কয়েকজন বলছিলেন, মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করলেও তাদের সমস্যা দেখার কেউ নেই।
এখন নির্মাণ শ্রমিকদের শ্রম আইনের আওতায় এনে তাদের মজুরি নির্ধারণ করা হলেও ভবন নির্মাতারা সেটুকুও মানেন না।
গৃহকর্মীদেরতো শ্রমিক হিসেবেই স্বীকৃতি মেলেনি। তাদের অধিকার নিয়ে দু'একটি সংগঠন এখন কাজ করছে।
যে গৃহকর্মীরা কোন পরিবারের সাথে থাকেন, তাদের অনেকের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ।
গৃহকর্মীরা যেহেতু সংগঠিত নয়। ফলে তাদের অনেকের উপর নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ হয়না।
কখনও চরম অবস্থায় পৌঁছুলে বা মৃত্যু হলে, তখন দু'একটি ঘটনা প্রকাশ হলে ব্যবস্থা নেয়ার প্রশ্ন আসে।

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
বিল্স-এর সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, গৃহকর্মী, জাহাজ ভাঙ্গার কাজ বা নির্মাণ খাতের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের সমস্যা নিয়ে নজর দেয়ার কেউ নেই।
গৃহকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য একটি নীতিমালা করা হয়েছে বলে সরকার বলছে।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বলছিলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোকে ৪৩টি ভাগে ভাগ করে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে সরকারের এসব বক্তব্যের বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে শ্রমিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের।








