হাজার কোটি টাকার সবজি নষ্ট হচ্ছে ভারতে

ভারত

ছবির উৎস, NARINDER NANU

ছবির ক্যাপশান, ভারতে প্রতি বছর যে পরিমাণ ফল এবং সবজি উৎপাদিত হয়, তার ৪০ শতাংশই সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়।

পড়ন্ত বিকেলে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর মাদুগিরির একটি ক্ষেতে টমেটো তুলছিলেন পাঁচজন নারী।

এ ক্ষেত থেকে তারা প্রতিদিন ৫০০ কেজি টমেটো উত্তোলন করেন।

এসব টমেটো ম্যাগডোনাল্ডস এবং বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে জোগান দেয়া হয়।

কিন্তু তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এসব টমেটো যখন সাপ্লাই দেয়া হয় তখন সেগুলোকে তাজা রাখা।

কিন্তু তাদের সামনে কোন বিকল্প না থাকায় এসব টমেটো খোলা জায়গায় গরমের মধ্যে রাখা হয়। ফলে অনেক টমেটো নষ্ট হয়ে যায়।

ভারতের অনেক কৃষক এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়।

ভারতে প্রতি বছর যে পরিমাণ ফল এবং সবজি উৎপাদিত হয়, তার ৪০ শতাংশই সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়।

এর বাজারমূল্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে এ ক্ষেতের মালিক মধুসূদন একটি উপায় পেয়েছেন। সেটি হচ্ছে হিমাগার।

মি: মধুসূদন বলেন, " হিমাগারে শস্য রাখলে সেগুলো লম্বা সময় ধরে টিকে থাকে। ফলে বাজারে পৌঁছে দেয়াও সম্ভব হয়। স্বাভাবিকভাবে যে সবজী বা ফল হয়তো তিনদিনের বেশি রাখা যেতো না, কিন্তু হিমাগারে রাখলে সেটি সাতদিন পর্যন্ত তাজা থাকে।"

হিমাগার

ছবির উৎস, INDRANIL MUKHERJEE

ছবির ক্যাপশান, হিমাগারে পণ্য রাখলে দাম বেড়ে যায় বাজারে

মধুসূদনের ক্ষেত থেকে টমেটো তোলার পর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন একটি ট্রাকে করে সেগুলো ব্যাঙ্গালুরু শহরের বড় হিমাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এজন্য প্রতি মাসে তাকে দিতে হয় ১৫ ডলার। একটি বড় আকারের হিমাগার তৈরি করতে ভারতে খরচ হয় প্রায় ৬০ লাখ ডলার।

কিন্তু এ খাতে বিনিয়োগ করা সবার জন্য সহজ নয়। ভারতে প্রায় সাত হাজার কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার রয়েছে।

এদের মধ্যে দশ শতাংশের কম টমেটোর মতো সবজী সংরক্ষণ করতে পারে।

ভারতের সবচেয়ে বড় হিমাগার কোস্পানী স্নোম্যান লজিস্টিকস প্রায় ২০ বছর ধরে এ ব্যবসা করছে।

কোম্পানিটির কর্ণধার সুনীল নায়ার বলছেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো।

ভারত

ছবির উৎস, SAM PANTHAKY

ছবির ক্যাপশান, নষ্ট হবার আগে বাজারে সবজি পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ ভারতে।

মি: নায়ার বলেন, " দেশে প্রচুর পরিমাণে ফল এবং সবজি উৎপাদন হয় এবং এর ব্যবসাও ভালো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, হিমাগারে রাখা সবজিকে ভোক্তারা তাজা হিসেবে মনে করে না। তারা সবসময় হিমাগারে থাকা সবজির সাথে মাঠ থেকে সরাসরি আসা পণ্যের তুলনা করে।"

হিমাগারের পাশে একটি সুপার শপে এনিয়ে ক্রেতাদের মাঝ ভিন্নমত পাওয়া গেল। এখানে টমেটো ক্রয় করতে এসেছেন গৃহিনী মঞ্জিতা।

তিনি বলেন, " আমি এখানে খারাপ কিছু দেখছি না। এখান থেকে টমেটো কিনে আমি সেগুলোকে বাসার ফ্রিজে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করতে পারি। এগুলোর অবস্থাও ভালো থাকে। পচে যায় না।"

কিন্তু আরেকজন ক্রেতা রঘু বলছেন, হিমাগার থেকে আসা টমেটোর দাম বেশি হয়।

ক্ষেত থেকে সরাসরি আসা যেসব টমেটো কাঁচা বাজারে বিক্রি হয়, সেগুলোর চেয়ে এ টমেটো অন্তত ত্রিশ শতাংশ দাম বেশি।

ভারতে মানুষের আয় বৃদ্ধির সাথে-সাথে সুপার মার্কেটের সংখ্যাও বাড়ছে।

ফলে বাজার করার ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হচ্ছে।

ফলে হিমাগার খাতে আরো বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

এ খাতের সাথে সম্পৃক্তরা বলছেন চাহিদা মেটানোর জন্য আগাম পাঁচ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।