সীমান্তের জিরো লাইনে 'গুলি হয়নি', বলছে মিয়ানমার

বাংলাদেশ মিয়ানমার

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাদের কয়েকজন

বাংলাদেশ সীমান্তে জিরো লাইনের ওপাশে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সমাবেশ এবং 'গুলির শব্দ' নিয়ে দু দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে।

বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ির ঘুনধুম সীমান্তে বৈঠকের পর বিজিবির কর্মকর্তা লেফটেন্যাস্ট কর্ণেল মঞ্জুরুল আহসান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, মিয়ানমারের কর্মকর্তারা গুলির কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, "তমরু সীমান্তে জিরো লাইনের কাছাকাছি ফায়ারিং কেন হয়েছে একথা আমরা জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন তারা ফায়ার করেন নি।"

বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ির ঘুনধুম সীমান্তে শ'দুয়েক সেনা সমাবেশ করেছে মিয়ানমার - এ খবর বেরুনোর পর বাংলাদেশ তাদের সরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে।

লেফটেন্যাস্ট কর্ণেল মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, মিয়ানমারের দিকে যারা আছে তারা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইউনিফর্ম পরা - তাই আমরা বলতে পারছি না যে তারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর লোক।

তিনি বলেন তারা মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের বলেছেন যে সীমান্তে যা হচ্ছে তা বাংলাদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলেছেন তারা বিষয়টি দেখবেন।

নাইক্ষংছড়ির ঘুনধুম সীমান্তে এই জায়গাটিতে জিরো লাইনের ওপর প্রায় ৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অনেকদিন ধরে আটকে আছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

বাংলাদেশ মিয়ানমার রোহিঙ্গা

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের একটি দল

ব্যাপারটি নিয়ে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠান, এবং তাকে বলেন যে সৈন্য সমাবেশ বাংলাদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াবে।

পররাষ্ট্র সচিব তাকে এই 'সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম' সীমান্ত থেকে সরিয়ে নেবার কথা মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে বলতে বলেন।

তবে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা জঙ্গীদের চলাচলের তথ্য পাওয়ার কারণেই সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া একজন সাংবাদিক বিবিসিকে জানিয়েছেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্তের ওপার থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে শরণার্থীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলছে।

গত আগস্ট মাসে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক অভিযান শুরু হবার পর থেকে সাত লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরও দেখুন:

ভিডিওর ক্যাপশান, পরিসংখ্যানে রোহিঙ্গা সংকটের ছয় মাস