বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংসদ কার্যকরী হলেই ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য কমবে?

ছাত্রলীগ

ছবির উৎস, BBC BANGLA

ছবির ক্যাপশান, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে সমাবেশ করছে বামপন্থী সংগঠনগুলো

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের দ্বারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করা নতুন কিছু নয়।

গত প্রায় নয় বছর ধরে যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে সেজন্য তাদের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশি।

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছে।

এই সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা ভিন্ন মতাবলম্বী প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনগুলোর উপরও মাঝে-মধ্যে চড়াও হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে সোমবার বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল।

অনেকে মনে করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকায় অনেক বছর ধরে ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে নিজেদের মতো করে আধিপত্য তৈরি করছে।

ছাত্র সংসদ কার্যকরী করার পক্ষে সবচেয়ে বেশি জোরালো দাবী তোলে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো।

তাঁদের ধারণা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যদি ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হতো তাহলে হল দখল, ক্যান্টিনের নিয়ন্ত্রণ কিংবা টেন্ডারবাজির মতো ঘটনা ঘটতো না।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা লিটন নন্দী বলেন, "যখন আপনি শিক্ষার্থীদের ভোটের কথা চিন্তা করবেন, তখন আপনার মাঝে এমন কিছু গুণাবলী থাকতে হবে যার কারণে শিক্ষার্থীরা আপনাকে নির্বাচিত করবে।"

গত প্রায় ৩০ বছর ধরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদের কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

লিটন নন্দী, সভাপতি, ছাত্র ইউনিয়ন

ছবির উৎস, BBC BANGLA

ছবির ক্যাপশান, লিটন নন্দী, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন

ফলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনেকের কোন ধারণাই নেই যে ছাত্র সংসদ কীভাবে কাজ করে।

কিন্তু তারপরও অনেকে মনে করেন, ছাত্র সংসদ কার্যকরী থাকা উচিত। ছাত্র সংসদ কার্যকরী থাকলে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একাধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তো বলে তাদের ধারণা।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কথা বলা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বরাবরই নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে অনীহা দেখিয়ে আসছে।

ছাত্র সংসদ কার্যকরী হলে প্রকৃতপক্ষে কতটা লাভ হবে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝেও অবশ্য মতভিন্নতা রয়েছে।

ছাত্র সংসদ কার্যকরী হলে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে অনেক শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ধারণা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গিয়াস শামীম মনে করেন, ছাত্র সংসদ কার্যকরী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটো দিকই আছে।

"হয়তো ডাকসু নির্বাচন হলে মঙ্গল হতে পারে। পরীক্ষামূলকভাবে এটি হতে পারে। কিন্তু কতটুকু ভালো হবে, এটি একটু ভাববার বিষয় আমাদের। ইতিবাচক দিক হয়তো আছে, কিন্তু সেটি স্বাধীনতা পরবর্তীকালে আমার কাছে খুব দৃশ্যমান নয়," বলছিলেন অধ্যাপক শামীম।

অধ্যাপক গিয়াস শামীম, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছবির উৎস, BBC BANGLA

ছবির ক্যাপশান, অধ্যাপক গিয়াস শামীম

অভিযোগ রয়েছে যে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন যাতে ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য তৈরি করতে পারে, সেজন্য সরকারের মনোভাব অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ কার্যকরী করতে চায় না।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এ ধরনের বক্তব্য মানতে নারাজ।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে। তার ধারণা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ছাত্রলীগ জয়লাভ করবে।

সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, "ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রলীগ। আজকে সব ক্যাম্পাসের দেখভাল করে ছাত্রলীগ। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা দেখভাল করে ছাত্রলীগ।"

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন, ছাত্র সংসদ কার্যকরী হলেও সেখানে যদি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করে, তাহলে শিক্ষার্থীদের কতটা লাভ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন: