চোখের সামনেই জন্ম হলো নতুন প্রজাতির পাখি

নতুন প্রজাতির পাখি- বিগ বার্ড

ছবির উৎস, P R Grant

ছবির ক্যাপশান, নতুন প্রজাতির পাখি- বিগ বার্ড

(রেডিওতে বিস্তারিত শুনতে পাবেন বিজ্ঞানের আসরে, মঙ্গলবার ২৮শে নভেম্বর রাত সাড়ে দশটায়, পরিক্রমা অনুষ্ঠানে)

আমরা প্রায়শই শুনি- পৃথিবী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটি খবর এসেছে চমকে যাওয়ার মতো। খবরটি হলো- চোখের সামনেই নতুন প্রজাতির এক পাখির জন্ম হয়েছে।

বলা হচ্ছে, আটলান্টিক মহাসাগরের গ্যালাপাগোস দ্বীপে বিজ্ঞানীরা এই প্রথম নতুন প্রজাতির একটি পাখিকে মাঠেই সরাসরি দেখতে পেলেন।

গবেষকরা এই পাখিটির উপর বহু বছর ধরেই নজর রেখে আসছিলেন। তারা দেখতে পেলেন কিভাবে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নতুন এই প্রজাতিটির জন্ম হলো। এর নাম দেওয়া হয়েছে বিগ বার্ড।

ব্রিটেনে বিজ্ঞান বিষয় সাময়িকী সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্রাকৃতির এই পাখির গ্রুপকে বলা হয় ডারউইনের ফিঞ্চ। এই পাখিটি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনকে সাহায্য করেছিলো প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তনবাদের তত্ত্বে পৌঁছাতে।

বিজ্ঞানীরা ১৯৮১ সালে দেখতে পান যে একটি পুরুষ প্রজাতির পাখি বাইরে থেকে গ্যালাপাগোসে গিয়ে পৌঁছায়। ওটা ছিলো ক্যাকটাস ফিঞ্চ প্রজাতির।

গবেষক প্রফেসর রোজম্যারি এবং পিটার গ্র্যান্ট তখন দেখতে পান ওই পুরুষ প্রজাতিটি স্থানীয় একটি নারী প্রজাতির পাখির সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হচ্ছে। তারপর নতুন এক পাখির জন্ম হয়েছে।

এর প্রায় ৪০ বছর পরেও ওই বংশধরের ওপর নজর রাখা হচ্ছে যারা এই প্রজাতির পাখির বংশবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এদের সংখ্যা এখন ৩০টির মতো।

গবেষকরা এই পাখিটির উপর বহু বছর ধরে নজর রাখছিলেন

ছবির উৎস, B R Grant

ছবির ক্যাপশান, গবেষকরা এই পাখিটির উপর বহু বছর ধরে নজর রাখছিলেন

নতুন এই পাখিটি স্থানীয় পাখির চেয়ে আলাদা- আকার আকৃতি ও স্বভাবের দিক থেকেও। এসব কারণেই কি কাউকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে ধরা যেতে পারে? প্রজাতির সংজ্ঞা কি?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞানী ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলছেন, একটি দলের সদস্যরা যদি মিলন ঘটিয়ে তাদের মতো আরো একটি প্রাণীর জন্ম দিতে পারে এবং নতুন প্রাণীটিও যৌন মিলনের মাধ্যমে আবারও এই ধরনের প্রাণীর জন্ম দিতে পারে তখনই তাকে প্রজাতি বলা হয়।

মি. ইসলাম বলেন, প্রাণীটির জন্মের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই শুধু তাকে প্রজাতি বলা যাবে, অন্যথায় নয়।

ব্রিটিশ গবেষকরা ধারণা করছেন, আসল পুরুষ পাখিটি ৬৫ মাইল দূরের এসপানোলা দ্বীপ থেকে উড়ে গ্যালাপাগোস দ্বীপে এসেছে। উড়ার জন্যে এখন নতুন প্রজাতির এই ছোট্ট পাখিটির পক্ষে এতো লম্বা পথ উড়ে যাওয়া খুব কঠিন।

ফলে নতুন প্রজাতির পাখিটি যে সেখানে ফিরে যেতে পারবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।