ইরান-ইরাক সীমান্তের ভূমিকম্পটি চলতি বছরের ভয়াবহতম

ধসে পড়া ভবনের ভেতর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে কর্মীরা।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, ধসে পড়া ভবনের ভেতর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে কর্মীরা।

ইরানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে চারশোরো বেশি মানুষ নিহত এবং ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হবার পর এখন সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

ভেঙে পড়া ভবনের নীচে বা ধ্বংসস্তুপের ভেতর কোনো মানুষ চাপা পড়ে আছে কিনা সেটিই এখন সবার আগে খতিয়ে দেখছে উদ্ধারকারী দলগুলো।

এ বছর পৃথিবীতে যত ভূমিকম্প হয়েছে তার মধ্যে ভয়াবহতম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে ইরান-ইরাক সীমান্তে ঘটে যাওয়া এই ভূমিকম্পটিকে।

গতকাল সোমবারের এই ভূমিকম্পে যত মানুষ নিহত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই ইরানের সীমান্ত থেকে মাত্র দশ মাইল দূরে অবস্থিত পশ্চিমাঞ্চলের শহর সারপোল-এ-জাহাব এবং কেরমানশাহ প্রদেশের বাসিন্দা।

সারপোল-এ-জাহাব শহরের প্রধান হাসপাতালটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দিতে এটি হিমশিম খাচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে বলা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ব্যাপক ভূমিধ্বস হওয়ায় উদ্ধার কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এবং গ্রামীন এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছে।

ভূমিকম্পে ওই এলাকার ভবনগুলো ধসে পড়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ

ছবির উৎস, REUTERS/TASNIM NEWS AGENCY

ছবির ক্যাপশান, ভূমিকম্পে ওই এলাকার ভবনগুলো ধসে পড়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ

ভূমিকম্পে একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি হয়তো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং বাঁধের আশপাশে বসবাসরত মানুষদের অন্যত্র সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

নানান জায়গায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর প্রচুর ভবন ভেঙে পড়ায় শহরের অসংখ্য মানুষ ঠান্ডার মধ্যে পার্কে ও রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

একটি ত্রাণ সংস্থা জানাচ্ছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত ৭০ হাজার মানুষ এখন আশ্রয়প্রার্থী।

ইরানের সরকারি হিসেব জানাচ্ছে, এই ঘটনায় ৪১৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সেই তালিকায় এমনকি কিছু সৈন্য এবং কিছু সীমান্তরক্ষীও রয়েছে বলে জানিয়েছে, দেশটির আর্মি কমান্ডার-ইন-চিফ।

এই ভূমিকম্পে ইরাকে ৯জন নিহত হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্টের এক মুখপাত্র।

বিবিসি বাংলার আরো খবর:

যেখানে ভূমিকম্প হয়েছে
ছবির ক্যাপশান, যেখানে ভূমিকম্প হয়েছে