আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এক বছর পর বাংলাদেশের কক্সবাজারের শিবিরের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাঠানো হবে নোয়াখালীর ভাসান চরে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম
- Author, মীর সাব্বির
- Role, বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশ সরকার বলছে, মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারে আসা রোহিঙ্গাদের যদি এক বছরের মধ্যে ফিরিয়ে নেয়া না হয়, তবে তাদেরকে মধ্য মেয়াদে নোয়াখালীর ভাসান চরে রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেন, সম্প্রতি আসা রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের ওপর যে চাপ পড়েছে তাতে তাদের এক বছরের বেশি সময় সেখানে রাখা যাবে না বলে সরকার মনে করছে।
এর আগে বাংলাদেশ থেকে সম্প্রতি ফিরে যাওয়া জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বলেন, এখনো পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং ত্রাণের বিষয়ে যা কাজ হয়েছে তা সাময়িক এবং মধ্যমেয়াদে এর একটি সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, "সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে যে , মানুষকে এমন স্থানে নিয়ে যাওয়া যেখানে তাদেরকে আরো সহজে সহায়তা দেয়া যাবে। তবে সেটাও একটি সাময়িক সমাধান। কারণ এটা ধরে নেয়া যায় যে তাদের ফিরে যেতে বেশ সময় লাগবে। যদি সহিংসতা থামে, তাহলেই সেটি হতে পারে।"
"বাংলাদেশে যারা আছেন তাদের জন্য একটি মধ্যমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি বাংলাদেশের সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি একটি কারিগরি কমিটি করার জন্য, যারা এই সমাধান কী হতে পারে সেটি নিয়ে কাজ করবে।"
আরো দেখুন:
বাংলাদেশ সফর শেষে সুইটজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে মি. গ্রান্ডি বলেন, গত এক মাসে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা সাড়ে চার লাখ বলে যে হিসেব এসেছে, সেটিও একটি রক্ষণশীল সংখ্যা এবং প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে আরো বেশি হবে।
অল্প সময়ের মধ্যে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষ কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য এরই মধ্যে ২০০০ একর একটি স্থানে এই রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে।
তবে এই আশ্রয়কেন্দ্র যে দীর্ঘমেয়াদী কোন সমাধান নয়, সেটিও উল্লেখ করেন মি. গ্রান্ডি।
তবে মধ্যমেয়াদী সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নোয়াখালীর ভাসানচরে তাদেরকে স্থানান্তরের বিষয়ে এরই মধ্যে একটি প্রাথমিক জরিপ করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলছেন, তারা আরেকটি জরিপ করে পুরো পরিকল্পনাটি তৈরি করবেন।
তিনি বলেন, তারা এই রোহিঙ্গাদের এক বছরের বেশি কক্সবাজারে রাখতে চান না।
"সত্যি কথা বলতে কক্সবাজার শেষ হয়ে গেল। পাহাড়-জঙ্গল, মানুষ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুর ওপর একটি সাঙ্ঘাতিক চাপ পড়েছে। কাজেই তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে। আমরা ভেবেছি তাদেরকে কক্সবাজারে হয়তো বছর-খানেক পর্যন্ত থাকতে হতে পারে"।
মি. ইমাম বলেন, এই সময়ের মধ্যেও তাদেরকে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরেই রাখতে হবে এবং তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে।
এই পুরো কাজটি শেষ হলে বছরখানেকের মাথায় তাদেরকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে বলে সরকারের পরিকল্পনা করছে।
সাম্প্রতিক সঙ্কটের আগেও এই চরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। তখন চরটি ঠ্যাঙ্গার চর নামেই বেশি পরিচিতি পেয়েছিল। তবে এখন সরকার সেটিকে ভাসান চর বলছে।
মি. ইমাম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করার আগে সেখানে ব্যাপকভাবে ভৌত অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন হবে এবং দ্রুতই তারা সেই উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করবেন।
তবে এটিও দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা নয়। বাংলাদেশ সরকার এবং ইউএনএইচসিআর উভয়েই বলছে, রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।