লন্ডনে আগুন: নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারও রয়েছে

পশ্চিম লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ার নামে বহুতল ভবনটিতে যখন আগুন লাগে তখন সেখানকার বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। লন্ডন সময় বুধবার প্রথম প্রহর, অর্থাৎ রাত একটার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই জানালা দিয়ে নীচে লাফিয়ে পড়েছেন।
ওই ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। ভবনের অনেকে এখনো নিখোঁজ।
৭০ জনেরও বেশি মানুষকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশংকাজনক।
নিখোঁজদের স্বজনেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে তথ্য দিচ্ছেন, খোঁজ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশের এক পরিবারও নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন লন্ডনের স্থানীয় সাংবাদিক মুনজের আহমেদ চৌধুরী।

ছবির উৎস, ATIKUL HOQUE
বেগম পরিবার
গ্রেনফেল টাওয়ারের ১৮ তলায় থাকতেন হুসনা বেগমের পরিবার। হুসনা বেগম ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। তার পরিবারের সাথে স্বজনদের সবশেষ যোগাযোগ হয়েছিল ব্রিটিশ সময় বুধবার রাত তিনটায়।
মুনজের আহমেদ চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় তাদের বাড়ি। একই জেলার মানুষ সেই সূত্রে পরিবারটির নিখোঁজ হবার খবরটি তাদের স্বজনদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন মি:চৌধুরী।
জানা যাচ্ছে, হুসনা বেগম নামে ওই নারীর বিয়ে ঠিকঠাক ছিল।

ছবির উৎস, ATIKUL HOQUE
জেসিকা উরবানো রামিরেজ
আগুন লাগার পর ১২ বছর বয়সী জেসিকা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাঁর খালা আনা ওসপিনা বলছেন জেসিকার খোঁজ তারা এখনো পাননি। তারা এখনো হাসপাতালে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বজনদের ধারণা, জেসিকাকে হয়তো চিকিৎসার জন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অভিনেতা নোয়েল ক্লার্ক যিনি ওই এলাকায় বেড়ে উঠেছেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আহ্বান জানিয়েছেন জেসিকার কোনো খোঁজ পেলে তা যেন তৎক্ষণাৎ জানানো হয়।

ছবির উৎস, ANA OSPINA
মোহামেদনুর 'মো' টুকু
মো টুকু,এরিত্রিয়ার বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন গ্রেনফেল টাওয়ারে, সেখানে তার বন্ধু বা পরিবারের কারো বাসায় এসেছিলেন।
ইফতারের দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন সেখানে।
রেড পিআর কনসালটেন্সি নামের এক প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন মি: টুকু, তার সহকর্মী জানিয়েছেন কোম্পানিতে তাঁর অবদানের জন্য একটি অ্যাওয়ার্ড পেতে যাচ্ছিলেন মি: টুকু।

ছবির উৎস, RED PR CONSULTANCY
খাদিজা সায়ে ও ম্যারি ম্যান্ডি
২৪ বছর বয়সী চিত্রশিল্পী খাদিজা সায়ে গ্রেনফেল টাওয়ারের ২০ তলার বাসিন্দা ছিলেন।
বিবিসির একটি ডকুমেন্টারিও তৈরি করেছিলেন খাদিজা।
তিনি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। লেবার পার্টির এমপি ডেভিড ল্যামির স্ত্রী-এর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন খাদিজা। সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা নিখোঁজদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন, তথ্য নিচ্ছেন বা দিচ্ছেন তাদেরএকজন ডেভিড ল্যামি, তিনি খাদিজার বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন।
টুইটারে তিনি লিখেছেন "কেউ যদি খাদিজার বিষয়ে কোনো খবর পান দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সে আমাদের ভালো বন্ধু, খাদিজা একজন দারুণ আর্টিস্ট ও চমৎকার হৃদয়ের মানুষ"।
খাদিজার মা ম্যারি ম্যান্ডিও নিখোঁজ।

ছবির উৎস, @NICOLAGREENART
টনি ডাইসন
৬৬ বছর বয়সী টনি ডাইসন একসময় লরি ড্রাইভার ছিলেন। তার পরিবার বিবিসিকে জানিয়েছে, গ্রেনফেল টাওয়ারের ২২ তলায় থাকতেন টনি ডাইসন।
মি: ডাইসন ওই ভবনে আট বছর ধরে বাস করছেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর ছেলেকে ফোন দিয়ে আগুন লাগার খবর জানিয়েছিলেন মি: টাইসনএবং তিনি এও বলেছিলেন যে তাঁকে তাঁর ফ্লাটে থাকতে বলা হয়েছিল।
টনি ডাইসনের তিন ছেলে ও চার নাতি-নাতনি।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে মি: ডাইসনের খোঁজ করছেন।

ছবির উৎস, LEE DISSON
মারিয়াম এলগাভরি
মারিয়াম এলগাভরি, বয়স ২৭। মার্কেটিং ম্যানেজার মারিয়ামের সাথে স্বজনদের শেষ কথা হয়েছে স্থানীয় সময় রাত আড়াইটায়।
তাঁর বন্ধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে বলেছেন "আমাদের নিখোঁজ বন্ধু সম্পর্কে কিছু জানলে প্লীজ জানান। সে ওই ভবনের ১৯ তলায় থাকতো"।

ছবির উৎস, @LOVEAND_MUSIC/TWITTER
আলী বাবর জাফরি
তাঁর বয়স ৮২ বছর। স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন গ্রেনফেল টাওয়ারের ১১ তলায়।
তাঁর ছেলে হামিদ জানান , তাঁর বাবার হার্টের সমস্যা আছে ও হাঁটতেও সমস্যা হয়। তাদেরই আরেক বোন সেদিন গ্রেনফেল টাওয়ারে গিয়েছিল বাবা-মাকে দেখার জন্য। যখন আগুন লাগে তখন বাবাকে নিয়ে তার মেয়ে লিফটে উঠে। কিন্তু ১০ তলাতেই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই সময় থেকে মি:আলীর সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
আলী বাবর জাফরি ১৬ বছর ধরে ওই ভবনে বাস করছেন। তাঁর ছয় ছেলেমেয়ে ও নাতিনাতনির সংখ্যা সাতজন।

ছবির উৎস, HAMID ALI JAFARI








