ব্রিটিশ নির্বাচন ২০১৭: নারীরা এবার কেমন করবেন?

৮ই জুন ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে ৬৫০টি সংসদীয় আসনের জন্য লড়ছেন তিন হাজার তিনশ'য়ের বেশি প্রার্থী।

এই নির্বাচনী লড়াইয়ে আসনের জন্য যারা লড়ছেন তাদের মধ্যে নারী কতজন?

১. এই নির্বাচনে আগের যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি নারী প্রার্থী লড়ছেন

সার্বিকভাবে, এবার মোট প্রার্থীর প্রায় ৩০ শতাংশ নারী। ২০১৫-র নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ২৬ শতাংশ। তবে প্রকৃত সংখ্যার হিসাবে নারী প্রার্থী এবার দাঁড়িয়েছেন ৯৮৩জন। গত নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ১,০৩৬।

বড় দলগুলোর মধ্যে লেবার পার্টি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাদের নারী প্রার্থী মোট প্রার্থীর ৪১ শতাংশ।

তুলনামূলক হিসাবে গ্রিন পার্টিতে নারী প্রার্থীর হার ৩৬ শতাংশ, স্কটিশ ন্যাশানাল পার্টিতে (এসএনপি) ৩৪ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্রাট দলে (লিব ডেম) ২৯ শতাংশ।

কনজারভেটিভ আর প্লায়িড কামরি এই দুই দলের প্রধান নারী। কিন্তু এই দুই দলেই শতকরা হিসাবে নারী প্রার্থী মাত্র প্রায় ২৮ শতাংশ।

আর সবচেয়ে কম নারী প্রার্থী দিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম ইন্ডিপেনডেন্স পার্টি (ইউকিপ) - ১৩ শতাংশ।

২. লেবার পার্টি থেকেই ২০১৫ সালের নির্বাচনে জিতে আসা সর্বাধিক সংখ্যক নারীতাদের আসনের জন্য আবার লড়ছেন

দু হাজার ১৫ সালের নির্বাচনে যেসব নির্বাচনী কেন্দ্রে লেবারের নারী প্রার্থীরা জিতেছিলেন, তাদের ২০১৭-র নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে লেবার পার্টি।

তবে ২০১৫-য় যেসব নারী প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে এবারের নির্বাচনে ১০ শতাংশেরও কম প্রার্থী দিয়েছে সবচেয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দল- লেবার ও কনজারভেটিভ।

কাজেই লেবার পার্টি যদি দুটি ক্ষেত্রেই ৫ শতাংশ বেশি আসন পায়, তাহলে লেবার ১৬জন বাড়তি নারী এমপি এবং ৩২জন বাড়তি পুরুষ এমপি পাবে।

কনজারভেটিভও যদি ৫ শতাংশ বেশি আসন পায়, তাহলে তাদের নারী এমপি বাড়বে ১৬জন, এবং পুরুষ এমপি বাড়বে ৩০জন।

৩. কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী সংখ্যা এবার অন্য সব দলের থেকে বেশি, কিন্তু ২০১৫-র তুলনায় তা কম।

ব্রিটেনের একটি বাদে প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে কনজারভেটিভ। উত্তর আয়ার্ল্যান্ডের ১৮টি আসনের মধ্যে ৭টিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে কনজারভেটিভ। সে হিসাবে কনজারভেটিভের মোট প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গতবার উত্তর আয়ার্ল্যান্ডে আরও বেশি আসনে তারা প্রার্থী দিয়েছিল।

লেবার এবং লিব ডেম উত্তর আয়ার্ল্যান্ডে প্রার্থী দেয় না।

৪. আগের নির্বাচনে বিজয়ী এমপিদের মধ্যে কতজন সরে দাঁড়াচ্ছেন

যেহেতু বর্তমান সংসদ সদস্যরা মাত্র দু বছর আগেই নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এখনও সংসদ সদস্য পদে তাদের মেয়াদ পূর্ণ করেননি, হয়ত তাই বেশিরভাগ এমপিই আবার ২০১৭-র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকবেন।

লেবার পার্টির মাত্র ১৪ জন এমপি এবং কনজারভেটিভ পার্টির ১২জন এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যারা ২০১৫-য় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এর আগের সাধারণ নির্বাচনগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম। ২০১৫য় যখন নির্বাচন হয়, তখন তার আগের নির্বাচনে জিতে আসা ৩৯জন লেবার এমপি এবং ৩৮জন কনজারভেটিভ এমপি পুর্ননির্বাচনের জন্য প্রার্থী হননি।

১৯৭৯ থেকে ২০১৭র পরিসংখ্যান অনুযায়ী গড়ে প্রায় ৯০জন এমপি পুর্ননির্বাচনের জন্য লড়েন নি।

এবার অর্থাৎ ২০১৭-র নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির যে ১২জন পুর্ননির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তাদের মধ্যে ১১ জনই পুরুষ। এদের মধ্যে ছয়জনের জায়গায় নতুন যারা প্রার্থী হচ্ছেন তারা নারী।

লেবার পার্টিতে ১৪জন পুর্ননির্বাচনের জন্য দাঁড়াচ্ছেন না যাদের মধ্যে ১১জন পুরুষ। ওই ১১টি আসনে নতুন যারা প্রার্থী হচ্ছেন তাদের মধ্যে ১০জনই নারী।