ফেসবুক লাইভে গণধর্ষণের ভিডিও, সুইডেনে গ্রেফতার ৩

ছবির উৎস, AFP
সুইডেনে এক নারীকে গণধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য ফেসবুক লাইভে সম্প্রচারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সুইডেনের আপসালা শহরে গত রোববার এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ বলছে , সকালে এক নারী এসে তাদের জানায় একটি নারীকে গণধর্ষণের 'লাইভ ভিডিও' ফেসবুকের একটি ক্লোজড গ্রুপে সম্প্রচারিত হয়েছে।
ফেসবুকে যারা এ ভিডিও দেখেছেন তারা বলছেন ধর্ষকদের একজন শেষদিকে বলে 'তুমি এখন ধর্ষিত নারী' এবং এরপর হাসিতে ফেটে পড়ে ওই ব্যক্তি।
জোসেফাইন লুদগ্রেন নামে ২১ বছরের এক নারী পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করার পেই পুলিশ সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
যে গ্রুপটিতে ভিডিওটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় সেটার সদস্য হাজারখানেক।
মিস লুদগ্রেন সুইডিশ একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা এক্সপ্রেসেনকে বলছিলেন তিনি কী দেখেছেন। ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে কিভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হেনস্থা করা হয়েছে সেই বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি।
ধর্ষকদের একজনের কাছে বন্দুক ছিল বলেও জানান জোসেফাইন লুদগ্রেন।
ফেসবুক লাইভে ওই ভিডিওটি অনেকে দেখেছেন এবং মিস লুদগ্রেন বলছেন তিনি দেখেছেন অন্তত ৬০ জনকে ওই ভিডিওটি দেখছে।
"একজনের জন্য তিনজন! হাহাহাহা"-লাইভ ভিডিও নীচে এমন মন্তব্যও করেছেন একজন, বলছিলেন মিস লুদগ্রেন।

স্থানীয় একটি এপার্টমেন্ট থেকে পুলিশ সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এদের বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এ ছাড়াও আটক করা হয়েছে এক নারীকে।
অনলাইনের দর্শকরা সুইডিশ মিডিয়াকে বলেছেন, তারা একই রকম দ্বিতীয় আরও একটি ভিডিও দেখতে পেয়েছেন। তাতেও ধর্ষণ করা হচ্ছে ওই একই নারীকে। এতে সন্দেহ করা হচ্ছে, ওই নারী কি স্বেচ্ছায় এমন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করছেন?
তবে প্রথম ভিডিওটি সম্পর্কে সুইডেনের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম এসভিটি বলছে, ওই নারীকে ধর্ষণ করে যখন ফেসবুকে এ দৃশ্য প্রচার করা হচ্ছিল তখন সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়।
ফেসবুক লাইভ-এঅপরাধমূলক কর্মকান্ড
২০১৫ সালের শেষের দিকে ফেসবুক লাইভ-সম্প্রচার ব্যবস্থা চালু করে।
এখন ঘটনাস্থল থেকে খবর প্রচারের জন্য এ মাধ্যমটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকে সংবাদ মাধ্যমগুলো।
কেউ বা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি সম্প্রচারে এসে আড্ডা দেন। কেউবা মজা করেন।
তবে এ ফেসবুক লাইভে অপরাধমূলক কর্মকান্ড ও সহিংসতার চিত্রও ধরা পড়েছে। কিন্তু ফেসবুকে ধর্ষণ দৃশ্য সরাসরি প্রচারের ঘটনা সম্ভবত এর আগে কখনো শোনা যায়নি।
তবে এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে মানসিক ভারসাম্য হারানো এক ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। সেই দৃশ্য সরাসরি ফেসবুকে প্রচার করা হয়। এ অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে চারজনকে।
এছাড়া ২০১৬ সালের জুন মাসে শিকাগোর অ্যান্তোনিও পার্কিন্স, যার বয়স ছিল ২৮ বছর -তিনি গুলি করে আত্মহত্যা করেন। আর আত্মহত্যারএ ঘটনাটি ফেসবুক লাইভে ধারণ করেছিলেন পার্কিন্স।

ছবির উৎস, Getty Images
আর ফেসবুকে লাইভ ভিডিওর কারণে 'হেইট ক্রাইম'ও বেড়ে যাচ্ছে বলে অনেক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন।
বিভিন্ন ঘটনা আলোচনা-সমালোচনার পর এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কটি লাইভ স্ট্রিমিং পলিসি চালু করে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে ভিডিওটিতে শুধুমাত্র সহিংসতার ঘটনা আছে এ কারণে এটি মুছে ফেলা হবে না। তবে এমন ভিডিও যদি নির্যাতিত বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে আরও বিপদে ফেলার জন্য ছড়ানো হতে থাকে বা ছড়িয়ে যায় অথবা কোনও সহিংস ভিডিও নিয়ে যদি আনন্দ করা হয় তাহলে সেটি তুলে নেয়া হবে।
লাইভ ভিডিও থামিয়ে দেয়ার জন্য একটি চব্বিশ ঘন্টাই একটি দল কাজ করে। যদি কোনও অপ্রীতিকর কিছু এ দলকে জানানো হয় তাহলে সেই লাইভ স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেয়া সম্ভব।








