আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জুমার নামাজের সময় একটি শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মসজিদটি ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত, এর নাম 'ইমামবারগাহ খাদিজাতুল কুবরা'।
পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণে প্রায় ১৭০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ বলছে, এটি আত্মঘাতী হামলা। তাদের ভাষ্য, মসজিদের প্রবেশমুখে হামলাকারীকে থামানো হলে সে তখনই বিস্ফোরক ফাটিয়ে দেয়।
এই বিস্ফোরণের পর ইসলামাবাদ ও পাশের জেলার রাওয়ালপিন্ডি – এই দুই শহরের প্রধান হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, ইসলামাবাদে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি উর্দু।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
বিস্ফোরণ নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
বিস্ফোরণের যেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা গেছে যে মসজিদ চত্বরের এদিক-সেদিক জুতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। অনেক মানুষ মাটিতে পড়ে আছেন কিংবা বসে আছেন। অনেকে আবার সাহায্যের জন্য হাত বাড়াচ্ছেন।
তবে ওই মসজিদের কেয়ারটেকার, যিনি প্রত্যক্ষদর্শীও, সৈয়দ আশফাকের সাথে ফোনে কথা হয়েছে বিবিসি'র পাকিস্তান সংবাদদাতা ক্যারোলিন ডেভিসের সাথে।
সৈয়দ বলেছেন, তার বাড়ি ইমামবারগাহ খাদিজাতুল কুবরার ঠিক পাশেই।
"হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে আমি ঘর থেকে দৌড়ে বের হই। ভাবছিলাম হয়তো কোনো ঝামেলা হয়েছে"।
তিনি আরও বলেন, "আমি পৌঁছানোর আগেই বিস্ফোরণ হয়ে যায়। চারদিকে তখন মরদেহ পড়ে ছিল। কারও হাত নেই, কারও পা নেই। যারা গুরুতর আহত হয়েছে, তাদের বেশিরভাগকেই আমরা আমাদের নিজেদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছি"।
এই ঘটনায় আহত হয়েছেন জাহিদ আলী, তিনি আজ সেখানে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।
ভাগ্যক্রমে তার গুরুতর কিছু হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি প্রথম রাকাত শেষ করে সিজদায় ছিলাম, ঠিক তখনই বিস্ফোরণ হয়। এটা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে চারদিকে চিৎকার আর আর্তনাদ শুরু হয়ে যায়। পুরো জায়গা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এই অবস্থা অনেকক্ষণ চলতে থাকে"।
"আমি একদম শেষ কাতারের এক কোণে নামাজে দাঁড়িয়েছিলাম আজ। আমার পাশে যারা নামাজ পড়ছিলেন, তারা সম্ভবত বেঁচে নেই। আমিও অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম"।
জাহিদ আলীর চাচাতো ভাই জাওয়াদ খানও ঘটনাস্থলে ছিলেন।
তিনি বলেন, তাদের দুই ভাইয়ের একসাথে নামাজ পড়ার কথা ছিল। তবে তার নিজের ওজু করতে দেরি হওয়ায় তিনি একটু পরে মসজিদে প্রবেশ করেন।
"এসে দেখি সবাই সিজদায়। ঠিক তখনই দেখি একজন আত্মঘাতী হামলাকারী পাহারাদারের ওপর গুলি চালায়, এরপর ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং নিজেকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়।"
ওইসময় আরও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিলো বলে জানিয়েছেন জাওয়াদ খান।
আজকের বিস্ফোরণে আরেক আহত ব্যক্তি জহির আব্বাস।
তিনি বিবিসিকে বলেন যে তিনি যখন প্রথম রাকাতে যান, তখন দু'টো গুলির শব্দ শোনেন।
"এরপর আমরা প্রথমে রুকুতে, তারপর সিজদায় যাই এবং তখনই হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়"।
বিস্ফোরণে তীব্র নিন্দা সরকার প্রধানের
বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি।
তিনি বলেন, "নিরীহ মানুষের ওপর হামলা করা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।"
এছাড়া, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং আহতদের চিকিৎসা কার্যক্রম সরাসরি তদারক করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই হামলার জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেছেন, তিনি কাউকে দেশে ঘৃণা ও অস্থিরতা ছড়াতে দিবেন না।
বিস্ফোরণের কারণে আহতদেরকে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস), পলিক্লিনিকসহ অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পাকিস্তানের পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে আহতদের সহায়তায় ২৫টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে ইসলামাবাদে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি জেলার সব হাসপাতালকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছেন।
উল্লেখ্য, রাওয়ালপিন্ডি জেলাটি ইসলামাবাদের ঠিক পাশেই অবস্থিত ইসলামাবাদের।