ভারতের কেরালায় খ্রিষ্টানদের জমায়েতে বোমা বিস্ফোরণ

ছবির উৎস, Getty Images
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার কোচিতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি কনভেনশন সেন্টারে এদিন বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কম করে একজন নিহত ও জনা চল্লিশেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পেতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, "কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে বিস্ফোরণের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কথা বলেছেন।"
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অবিলম্বে কেরালায় সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী এনএসজি এবং তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র দল পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, কালামাসেরি এলাকায় দুটি বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআইও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বিস্ফোরণে ৩৬ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ছবির উৎস, ANI
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বিস্ফোরণে শোক প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে 'দুর্ভাগ্যজনক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
কখন কোথায় বিস্ফোরণ?
কেরালা পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি) শেখ দারভেশ জানিয়েছেন, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জামরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে খ্রিষ্টানদের একটি সম্মেলন চলাকালীন বিস্ফোরণ ঘটে।
আজ রবিবারই ছিল তাদের ওই কর্মসূচির শেষ দিন।
তিনি বলেন, "এখানে জিহোবা’স উইটনেস সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠান চলছিল। আমাদের পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।“
“পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সব দিক থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদেরও একে একে ধরা হবে এবং কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।"
ডিজিপি আরও বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে বিস্ফোরণটি একটি আইইডি ডিভাইসের দ্বারা ঘটানো হয়েছিল।
তিনি জানান, "আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। আমি শান্তি বজায় রাখার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক পোস্ট না দেওয়ার আবেদন করছি।"
জিহোবা’স উইটনেস খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই একটি ক্ষুদ্র সম্প্রদায় বা সেক্ট।

ছবির উৎস, ANI
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসি হিন্দিকে বলেছেন যে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
কেরালার এডিজিপি (আইন ও শৃঙ্খলা) অজিত কুমার বিবিসির সহযোগী সাংবাদিক ইমরান কুরেশিকে বলেছেন যে কনভেনশন হলটিতে মোট দুটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।
বিস্ফোরণের সময় হলটিতে প্রায় দুই হাজারের মতো মানুষ উপস্থিত ছিল।
কেরালার শিল্পমন্ত্রী পি রাজীব বলেছেন যে বিস্ফোরণের স্থানটি ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং ত্রাণ কাজে দুর্যোগ মোকাবিলা টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ স্বাস্থ্যকর্মীদের যত দ্রুত সম্ভব কাজে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি কালামসেরি মেডিকেল কলেজ, এর্নাকুলাম জেনারেল হাসপাতাল এবং কোট্টায়াম মেডিকেল কলেজকে জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার নিন্দা
কংগ্রেস নেতা এবং কেরালার তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন যে একটি ধর্মীয় সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের খবরে তিনি স্তম্ভিত।
তিনি লিখেছেন, "আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই ঘটনার নিন্দা করছি এবং অবিলম্বে পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।”
এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of X post
“কিন্তু এটিই যথেষ্ট নয়। আমাদের রাষ্ট্রকে হত্যা ও ধ্বংসের মানসিকতার শিকার হতে দেখাটা খুবই দুঃখজনক।"
মি থারুর আরও লিখেছেন, "আমি সমস্ত ধর্মীয় নেতাদের কাছে এই ধরনের ঘটনার নিন্দা করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।“
“সবাইকে বলব যে সহিংসতার মাধ্যমে যদি কিছু অর্জন করা যায় তবে তা আরও বেশি সহিংসতা!"








