বিশ্বকাপ ফুটবল, বিএনপির সমাবেশ আর ১০০ নারী নিয়ে কথা

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
গত মাস থেকেই আমাদের শ্রোতা পাঠকদের অনেকেই মেতে আছেন কাতারে চলমান পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে।
আজ তাই শুরু করছি এই বিশ্বকাপ সংক্রান্ত ছোট একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন সুনামগঞ্জ থেকে সাদিয়া আফরিন:
‘’বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?’’
ছোট প্রশ্ন, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন মিস আফরিন। কাতারের মত ছোট একটি দেশ, যেখানে পেশাদারী ফুটবলের তেমন কোন ঐতিহ্য নেই, তারা কীভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পেল, তা নিয়ে বিতর্ক তো কম হচ্ছে না।
যাই হোক, বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয় কোন দেশে পরবর্তী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এই প্রক্রিয়া নির্ধারিত বিশ্বকাপের সাত থেকে দশ বছর আগেই শুরু হয়। যে কোন দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে ব্যাপক অবকাঠামো, আর্থিক এবং বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়, প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের এ’ধরনের কাজ হাতে নেবার সামর্থ্য নেই।
ফিফা প্রস্তাব আহ্বান করে তার ২১১টি সদস্য রাষ্ট্রকে ফর্ম পাঠায়। যেসব দেশ এই প্রতিযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তারা ফর্ম পূরণ করে তাদের প্রস্তাব ফিফাকে পাঠায়।
প্রাথমিক বাছাই-এর পর যারা টিকে থাকে, তাদের প্রস্তাব ফিফার কংগ্রেস বা সম্মেলনে ভোটের জন্য পাঠানো হয়। যাদের প্রস্তাব ৫০ শতাংশর বেশি ভোট পায়, তাদেরকেই বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
ফুটবল প্রেমীদের উন্মাদনা?
বিশ্বকাপ নিয়ে আরো লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মাদ ইলিয়াস হোসেন:
‘’বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশে ফুটবল প্রেমীদের উন্মাদনার শেষ নেই। কেউ ব্রাজিল আবার কেউ আর্জেন্টিনার সমর্থনে উড়াচ্ছে বড় বড় পতাকা।
''কিন্তু খেলার হার-জিতকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষ, আত্মহত্যা, টিভি ভাংচুর, কিংবা অন্য কোন দুঃখজনক ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয় ।
''তাই আসুন আমরা খেলাকে বিনোদন হিসেবে মেনে নিয়ে আবেগপ্রবণ না হয়ে সহনশীল,ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে সমস্ত অপকর্ম হতে বিরত থাকি।‘’
ঠিক কথাই বলেছেন মি. হোসেন। ফুটবল, সেটা পাড়ার রাস্তায় হোক বা বিশ্বকাপের মঞ্চে হোক, শুধুমাত্র একটি খেলাই। এটাকে জীবন-মরণ বিষয় হিসেবে দেখা বোকামি মাত্র।
কিন্তু আমি এ’পর্যন্ত বাংলাদেশে চলমান বিশ্বকাপ নিয়ে বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে গুরুতর কোন সংঘর্ষের খবর শুনি নি। আত্মহত্যার কথাও কানে আসে নি।
আমি যা দেখছি, সমর্থকরা আবেগপ্রবণ হচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু তার ফলে কোন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন না।

ছবির উৎস, Getty Images
ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা
এ’বিষয়ে আরো লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
‘’চার বছর পর পর ফিরে আসা ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই উচ্ছ্বাস সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।
''বিশেষ করে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে পারস্পরিক কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি, সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত বাজে ভাষায় আক্রমণ করা কিম্বা গভীর রাতে বিজয় মিছিল করে সাধারণ মানুষের ঘুম নষ্ট করা ইত্যাদি।
''এসব ঘটনা বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি বলেই মনে হয়।‘’
ফুটবল সমর্থকরা তাদের পছন্দের দলের প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে অনেক কিছুই করতে পারেন মি. সরদার। তার জন্য অনেকে বিরক্ত হতে পারেন, খেপেও যেতে পারেন।
কিন্তু ফুটবলকে যেমন শুধু একটি খেলা, একটি বিনোদন হিসেবে দেখা উচিত, তেমনি সাপোর্টারদের কীর্তি-কাণ্ডকেও তাদের উচ্ছ্বাসের প্রতিফলন হিসেবেই সহ্য করা উচিত।
তবে হ্যাঁ, উচ্ছ্বাস যদি তাণ্ডবে পরিণত হয়, তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না, এবং যেকোনো সহিংস ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই।
বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপি ঢাকায় যে সমাবেশ করতে যাচ্ছে, তা নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
‘’প্রত্যেক দলের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলো দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবে, এমনটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু কোনোভাবেই সংঘাত ও সহিংসতার মতো ঘটনা ঠিক নয়।
''একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
''ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশকে ঘিরে যে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে, তা আমলে নিতে হবে, এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি উন্নত হোক।‘’
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. ইসলাম। সব দলেরই অধিকার আছে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার।
একই সাথে, সব দলেরই দায়িত্ব আছে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করার, যাতে তাদের কর্মসূচির কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কোনভাবে ব্যাহত না হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
সানজিদার সংগ্রাম
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। তিনি লিখেছেন এ’বছর বিবিসির ১০০ নারী তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশি কিশোরী সানজিদা ইসলামের কাজ নিয়ে:
‘’বিবিসি ১০০ নারী শিরোনামে কিশোরগঞ্জের সানজিদা ইসলাম ছোঁয়াকে নিয়ে ভিডিওটি দেখলাম। সানজিদা ইসলাম ছোঁয়া তার সহপাঠীদের নিয়ে ঘাসফড়িঙ সংগঠনের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে থামাতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক।
''বাংলাদেশ সরকার নানাভাবে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারও করছে। বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।
''কিন্তু এতদসত্ত্বেও কার্যকরভাবে বাল্যবিবাহের ছোবল রোধ করা যাচ্ছে না। বাল্যবিবাহ রোধে সর্বপ্রথম দরকার পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অগ্রসর ভূমিকা।
''সানজিদা ইসলাম ছোঁয়া ও তার সহপাঠীদের মতো অন্যরা যদি এভাবে এগিয়ে আসতো, তবে বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও আমার বিশ্বাস বহুলাংশে হ্রাস করা সম্ভব।‘’
সানজিদা ইসলামের যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি. রহমান।
আশা করা যায়, বিবিসি ১০০ নারী তালিকায় স্থান পাওয়ার স্বীকৃতি সানজিদা এবং তার সহপাঠীদের বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে আরো অনুপ্রেরণা যোগাবে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post
সব শেষে, আমাদের রেডিও অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চেয়ে লিখেছেন নওগাঁর সাপাহার থেকে আলী আহাম্মেদ আরিফ:
‘’আগামী ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে বিবিসি শ্রোতাদের জন্য নতুন কী অনুষ্ঠান উপহার দিচ্ছে, জানতে চাই।‘’
এ’বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে আমরা বিশেষ কিছু করছি না মি. আহাম্মেদ। এর একটি কারণ হচ্ছে, গত বছর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আমরা অনেক কিছু করেছিলাম।
তবে আরেকটি কারণ হচ্ছে, এ’মাসের ৩১ তারিখে বিবিসি বাংলার রেডিও সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সে উপলক্ষে আমরা ১৬ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত কিছু স্মৃতিচারণ আর কিছু পুরনো দিনের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবো।








