‘সংসদ নির্বাচন: বিএনপির সমমনারা মত বদলাচ্ছে’

পত্রিকা

বিএনপির সমমনাদের নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ নিয়ে কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, ‘সংসদ নির্বাচন: বিএনপির সমমনারা মত বদলাচ্ছে’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে নানা মেরুকরণ হচ্ছে।

সরকার পতন চেয়ে আন্দোলনরত দলগুলোর অনেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহী।

এত দিন বিএনপির সঙ্গে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে থাকা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের কল্যাণ পার্টির নেতৃত্বে তিন দলের জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’ বুধবার নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আরো কয়েকটি দলকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। আন্দোলনের এই পর্যায়ে সরকারবিরোধী হিসেবে পরিচিত দলগুলোর নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণায় রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বেশ পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।

সমমনা দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদল ও নির্বাচনে জিতে আসার সম্ভাবনা থাকায় তারা মত পাল্টেছেন। এত দিন ধরে ৩৬টি রাজনৈতিক দল নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করছিল বিএনপি।

এখন কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা আন্দোলনের মাঠে অনুপস্থিত, কারো কারো হঠাত্ আড়াল হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও নানা আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

কালের কণ্ঠ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির নানা কর্মসূচি ও চ্যালেঞ্জকে ঘিরে সমকালের প্রধান শিরোনাম, ‘কঠিন পরীক্ষা মোকাবিলার পথ খুঁজছে বিএনপি’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সরকার পতনের এক দফা দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলন করতে গিয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

এরিমধ্যে নাশকতার মামলায় দলের শীর্ষ নেতাসহ অনেকেই কারাগারে, কেউ আত্মগোপনে, আবার কেউবা নিশ্চুপ। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। গণগ্রেপ্তারের পাশাপাশি পুরোনো মামলায় গণহারে সাজা হয়েছে।

হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়ে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকাতেই নেতাকর্মীরা বেশ ঢিলেঢালা মেজাজে আছেন।

দলের বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও সমমনা দলের কেউ কেউ নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কেউ কেউ যোগ দিয়েছেন বিএনপির সাবেক নেতাদের নিয়ে ‘সরকারের সহযোগিতা’য় গঠিত কিংস পার্টি উপাধি পাওয়া সংগঠনে।

যুগান্তর

আওয়ামী লীগে মনোনয়ন বাছাই নিয়ে যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই শুরু আজ, মনোনয়নে থাকবে চমক,’। খবরে বলা হচ্ছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক আসনে আসবে আওয়ামী লীগের নতুন মুখ।

প্রার্থী তালিকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সাবেক আমলা, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তি স্থান পেতে পারেন।

পাশাপাশি দলের জনপ্রিয় ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতারা মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

অন্যদিকে বিতর্কিত মন্ত্রী-এমপিসহ স্থানীয়ভাবে জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের প্রার্থী হিসাবে বিবেচনা না করার বিষয়ে দেওয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব। পাশাপাশি বয়সের কারণে বাদ পড়বেন বেশ কয়েকজন বর্তমান এমপি।

সব মিলিয়ে বিভিন্ন সংস্থার জরিপ, দলের সাংগঠনিক রিপোর্ট, অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূলে দল ও সাধারণ ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাসহ নানা বিষয় বিবেচনায় মনোনয়ন দেয়া হবে।

দ্য ডেইলি স্টার

নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার খবর, ‘JP finally decides to join election’ অর্থাৎ ‘অবশেষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপা’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় পার্টি আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে আশ্বাস রয়েছে।

বুধবার দলের চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এ ঘোষণা দেন। তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথাও জানায়।

তারা কোনো নির্বাচনী জোটে যোগ দেবে না এবং ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবেন। তিনি বলেন, পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

এদিকে, গত তিন দিনে মোট এক হাজার ৫১০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে জাপা। সোমবার মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে দলটি।

প্রথম আলো
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

নির্বাচনে ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, ‘ছোট ছোট দল ভোটে আসছে’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তফ্রন্ট নামে নতুন জোট গঠন করে বুধবার দুপুরে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

বিকেলে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে আগামী দুই তিন দিন এভাবে অনেক দল তাদের অবস্থান পাল্টাবে।

আরও কিছু দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোটে আসতে পারে ছোট দলগুলোর মধ্যে ইসলামপন্থী একাধিক দলের নাম রয়েছে।

দলগুলো শিগগিরই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে, তবে বিএনপির আলোচিত ও পরিচিত নেতাসহ অনেকেই দল ছেড়ে নতুন দুটি দল তৃণমূল বিএনপি ও বিএনএম-এ যুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে যে আলোচনা ছিল তাতে এখন পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো ফল আসেনি।

এ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অসন্তুষ্টি রয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ একটু পিছিয়ে হলেও বিএনপি'র আরো কিছু নেতা এবং আরো কিছু দলকে নির্বাচনে আনার কথা ভাবা হচ্ছে বলে বলছে ওই প্রতিবেদন।

সংবাদ

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সংবাদের প্রধান শিরোনাম, ‘নির্বাচন ‘একতরফা’ হবে না, ‘শতফুল’ ফুটবে’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিএনপি ভোটে না এলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ‘একতরফা হবে না’ বলে মনে করেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তার দাবি, অনেক দল এবং ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। তার মতে, একটি দল নির্বাচন বর্জন করলে নির্বাচনকে একতরফা বলার সুযোগ নেই।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেয়ার বাকি আছে সাত দিন। আওয়ামী লীগ ও তার জোট শরিকদের পাশপাশি জাতীয় পার্টিও মনোনয়ন জমার কাজ গুছিয়ে আনছে।

তবে নির্বাচনে না আসার সিদ্ধান্তে অটল বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কি দশম সংসদের পথে হাঁটছে, এমন আলোচনাও চলছে।

ইত্তেফাক

নির্বাচনে নাশকতা প্রসঙ্গে ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম, ‘নির্বাচন ঘিরে নাশকতার শঙ্কা, টার্গেট নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, এটিকে কেন্দ্র করে নাশকতামূলক তৎপরতার শঙ্কাও তত বাড়ছে।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোও বাড়িয়েছে তৎপরতা। দুষ্কৃতকারীদের টার্গেট দেশি-বিদেশি নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সেইসাথে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও পূর্বশত্রুতার জেরে টার্গেট কিলিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

যারা নাশকতা করতে পারে, তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে বিভিন্ন সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রতিটি নির্বাচনি আসনের খোঁজখবর নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে তা শীর্ষ প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে। এক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সব জায়গায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বণিক বার্তা

গ্যাসের যোগান নিয়ে বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, ‘গ্যাসের চাপ কমছে বিবিয়ানায়, বিতরণ কোম্পানিকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে পেট্রোবাংলা’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্র বিবিয়ানায় উত্তোলনযোগ্য মজুদের প্রায় ৯৮ শতাংশ এরই মধ্যে তুলে ফেলা হয়েছে। উত্তোলনকৃত গ্যাসের চাপও এখন কমে আসছে।

এ বিষয়টি নিয়ে বিতরণ কোম্পানি জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেডকে (জেজিটিডিসিএল) পেট্রোবাংলা এক চিঠিতে জানিয়েছে, তারা যেন গ্রাহক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত চাপে গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখার প্রস্তুতি নেয়।

জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহকৃত গ্যাসের ৪০ শতাংশের বেশি আসে মার্কিন কোম্পানি শেভরন পরিচালিত এই গ্যাস ক্ষেত্রটি থেকে।

দেশের জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ও চাপ কমে যাওয়ার বিষয়টি জ্বালানি খাতে সংকটময় ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

দেশের জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ও চাপ কমে যাওয়ার বিষয়টি জ্বালানি খাতে সংকটময় ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

নিউ এইজ

বিদ্যুৎ খাত নিয়ে নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, ‘Power sale to industries declines’ অর্থাৎ ‘শিল্প কারখানার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি কমেছে’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শিল্প খাতে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুতের বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে।

বর্তমান সরকারের ১৫ বছরের মেয়াদে এই বিদ্যুৎ বিক্রি ১০ পয়েন্ট কমেছে, যা প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতিকে ইঙ্গিত করে।

প্রকৃতপক্ষে, ১৯৯৪ সাল থেকে বিগত তিন দশকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিদ্যুত বিক্রি ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এ নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে এই কারণে যে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ শিল্পের চাহিদা মেটাতে একটি পাওয়ার সিস্টেম তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

‘অনির্ভরযোগ্য এবং নিম্নমানের বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে সরকারের শিল্পায়নের আশা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

এছাড়া ক্যাপটিভ পাওয়ার প্রবর্তন হওয়ায় শিল্পগুলো জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করার ব্যাপারে আরও উৎসাহিত হচ্ছে।

ক্যাপটিভ পাওয়ার বলতে শিল্পগুলো তাদের নিজস্ব প্রাঙ্গনে স্থাপিত প্ল্যান্ট থেকে উত্পাদিত বিদ্যুৎকে বোঝায়।

একটি ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টে গ্যাস ব্যবহার করে এক ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড় সাড়ে চার টাকা, যেখানে জাতীয় গ্রিড থেকে এক ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ৮ টাকা।

সমকাল