নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি

- Author, আকবর হোসেন
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
বাংলাদেশে আগামী ৭ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অংশ নেবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। বুধবার সন্ধ্যায় দলটির মহাসচিব মজিবুল চুন্নু এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তাকে এই ঘোষণা দেবার জন্য বলেছেন।
“নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্নভাবে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে আগামী নির্বাচন ফ্রি এন্ড ফেয়ার হবে। সেখানে কোন রকম হস্তক্ষেপ করা হবে না। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে,” সংবাদ সম্মেলনে বলেন মি. চুন্নু।
“আমি নাম বলবো না, সংশ্লিষ্ট মহল আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতি আমাদের বিশ্বাস হবার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।”
জাতীয় পার্টি মহাসচিব বলেন, তারা কোন জোটের মাধ্যমে নির্বাচন করবেন না। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে এককভাবে প্রার্থী দেবে।
এখনো পর্যন্ত দলটি প্রায় ১৪০০’র মতো মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি করেছে জানিয়ে মি. চুন্নু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় পার্টি কারো সাথে আসন সমঝোতার চিন্তা করবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছিল।
বারবার অবস্থান বদল
প্রায় দুসপ্তাহ আগে ঢাকার বনানীতে জাতীয় পার্টির অফিসে এক অনুষ্ঠানে দলটির সিনিয়র নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
সে অনুষ্ঠানে সরকারকে উদ্দেশ্য করে মুজিবুল হক চুন্নু বলেছিলেন, "তাদের অঙ্গীকার ছিল যে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সবসময় একটা ভালো নির্বাচন হবে সে ব্যবস্থা করবে। সে কথাও রাখে নাই।"
একই অনুষ্ঠানে জাতীয় পাটির সিনিয়র নেতা কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, "এই বুড়ো বয়সে তো রাজাকার হতে চাই না। যথেষ্ট সম্মান আল্লাহ দিছে। রাস্তাঘাটে ঢিল দেবে, মাইনষে রাজাকার কবে। কাউকে বৈধতা দেবার জন্য, উপরে যাওয়ার সিঁড়ি হতে আমরা চাইনা।"
নির্বাচন নিয়ে সমালোচনামুখর ছিলেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
সে অনুষ্ঠানে মি. কাদের বলেন, “যদি নির্বাচনের অর্থ হয় সিলেকশন, সে নির্বাচন তো কেউ চাইতে পারে না। প্রশাসন এবং নির্বাচন যন্ত্রের সাথে যারা জড়িত তারা সরকারের প্রভাবমুক্ত নয় এবং তারা সরকারের নির্দেশ মতো নির্বাচন ব্যবস্থাকে পরিচালিত করছে।”
এর কয়েকদিন পরে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতারা একটি বৈঠক করেন। সেখানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সিনিয়র নেতারা এসেছিলেন।
সেখানে অনেকই জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ না নেবার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবার ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের উপর।

ছবির উৎস, Getty Images
২০১৪ সালের নাটকীয়তা
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল এরশাদের নানা বক্তব্য নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। নির্বাচন যত এগিয়ে আসতে থাকে, জাতীয় এবং দলটির নেতা জেনারেল এরশাদকে নিয়ে নাটকীয়তাও ততই বেড়ে যায়।
কারণ, আওয়ামী লীগ যেভাবে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল সেজন্য জাতীয় পার্টিকে তাদের পাশে প্রয়োজন ছিল। অন্যথায় নির্বাচন বানচালের আশংকা দেখা দেয়।
নির্বাচনের একমাস আগে এরশাদ নির্বাচনের বর্জনের ঘোষণা দিয়ে তার বাসা ছেড়ে সংবাদমাধ্যমের আড়ালে চলে যান। কিন্তু ২৪ঘণ্টা পরেই তিনি আবারো নিজের বাসায় ফিরে আসেন এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং-এর সাথে বৈঠক করেন।
সে বৈঠকের পরে মি. এরশাদ আবারো দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য নির্দেশ দেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ এই মুহূর্তে আমি আমার দলের প্রার্থীদের ঘোষণা দিচ্ছি, তোমরা মনোনয়নপত্র তুলে নাও। তোমাদের জীবনকে বিপন্ন করো না।”
এরশাদ ধারণা করছিলেন যে তার অবস্থানের কারণে তিনি হয়তো যে কোন সময় গ্রেফতার হতে পারেন।
সুজাতা সিংয়ের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গ্রেফতারের চেষ্টা হলে তিনি আত্মহত্যা করবেন।
নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির মধ্যে যখন দোলাচল ছিল তখন বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল এরশাদ বলেছিলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে তার দল নির্বাচন করবে না। তার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এটা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।
জেনারেল এরশাদ আরো বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লে সংকটের সমাধান হতে পারে।
এর কয়েকদিন পরে জেনারেল এরশাদকে তার বারিধারার বাসা থেকে র্যাব নিয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রাখে। র্যাবের তরফ থেকে বলা হয়েছিল যে ‘অসুস্থ বোধ’ করায় মি. এরশাদকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তখন অভিযোগ উঠেছিল, নির্বাচনে অংশ নিতে এরশাদকে চাপ প্রয়োগের জন্য অসুস্থতার অজুহাতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ করা হয়।
মি. এরশাদের একটি বিশেষ বার্তা উদ্ধৃত করে দৈনিক ইত্তেফাক লিখেছিল, “আমি অসুস্থ নই। গ্রেপ্তারের জন্য চিকিৎসার নামে আমাকে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে।”
তবে এমন প্রতিবেদনও তৎকালীন সংবাদমাধ্যমে এসেছিল যে জেনারেল এরশাদ মুখে যদিও বলেছেন তিনি নির্বাচনে নেই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বসেই নির্বাচনে সক্রিয় হয়েছিলেন।
মি. এরশাদকে যখন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন রওশন এরশাদ। তখন জাতীয় পার্টি ঘোষণা করে যে তারা নির্বাচনে যাবে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি একই সাথে সংসদে বিরোধী দল এবং সরকারে তাদের কয়েকজন মন্ত্রীও ছিল।








