ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অপব্যবহারের অভিযোগ, বার বার শুধু সংশোধনের আশ্বাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ
    • Author, সানজানা চৌধুরী
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

বাংলাদেশের সাংবাদিক, সুশীল সমাজ সেইসঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিরোধিতার মধ্যেই যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছিল সেটার অপপ্রয়োগের অভিযোগ আবার নতুন করে সামনে এসেছে।

সবশেষ প্রথম আলোর সাংবাদিক গ্রেফতার, সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা ও নওগাঁয় ভূমি কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

দু'হাজার আঠারো সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া এই আইনটি ওই বছরের ৮ই অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।

তারপর থেকে গত সাড়ে চার বছর ধরে এই আইনের অপপ্রয়োগের নানা অভিযোগ, উদ্বেগ আর বিতর্ক যেন থামছেই না।

এই আইনটির অপপ্রয়োগের বিষয়টি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্বয়ং একাধিকবার স্বীকার করেছেন।

তিনি আইনটির বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনে বার বার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যত কোন ধরণের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তথ্য ও মত প্রকাশের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন বলেছে, বাংলাদেশে সরকারের সমালোচনা দমনে, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে এবং সর্বোপরি মত প্রকাশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে এই আইনের ক্রমাগত অপপ্রয়োগ হয়েছে।

আগে ‘তুলে নিয়ে যাওয়া’, তারপর মামলা

সম্প্রতি এই আইনে মামলা দায়েরের আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর পরিচয়ে প্রথমে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তারপর দীর্ঘসময় তার কোন খোঁজ পাওয়া যায় না।

পরবর্তীতে অভিযুক্তকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গভীর রাতে বা মাঝ রাস্তা থেকে গ্রেফতার করার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

এ ধরণের ঘটনাকে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় এমনকি নব্বই দশকের সামরিক সরকারের আমলের মধ্যরাতের গ্রেফতারের সঙ্গে তুলনা করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সবশেষ প্রথম আলোর সাংবাদিকের আটক ও গ্রেফতারে একই প্যাটার্ন দেখা গিয়েছে।

অভিযুক্ত নারীদের ক্ষেত্রেও কোন ব্যতিক্রম হয়নি। গত ২২শে মার্চ নওগাঁ থেকে এক নারী ভূমি কর্মচারীকে মাঝ রাস্তা থেকে আটক করে র‍্যাব। ওই নারী র‍্যাবের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিন পর মারা যান।

মৃত্যুর পরদিন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই নারীকে আসামী করা হয়।

অথচ মামলার আগেই কাউকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এরপরও আগে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরে মামলা দায়েরের একের পর ঘটনায় গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার কর্মীরা আইনের অপপ্রয়োগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অথচ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া আছে এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। মামলা দায়েরের পর তদন্ত হবে তারপর গ্রেফতার করা যাবে।

কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া সাম্প্রতিক মামলায় তার এমন বক্তব্যের কোন প্রতিফলন দেখা যায়নি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই অপব্যবহার বাংলাদেশে আইনের শাসনের অভাবকেই স্পষ্ট করে তুলছে বলে জানিয়েছেন আর্টিকেল নাইনটিনের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সল।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “দেশে যদি আইনের শাসন থাকতো তাহলে আইনের এমন অপব্যবহার হতো না। প্রথম আলোর সাংবাদিককে ভোররাতে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে তোলার আগ পর্যন্ত ৩৫ ঘণ্টা তার কোন খোঁজ পাওয়া যায় না। নওগাঁয় এক নারীকে র‍্যাব তুলে নিয়ে যায়, র‍্যাবের হেফাজতে যদি তিনি মারা যাওয়ার পর মামলা হয়। সরকার যদি এসব দেখে না দেখার ভান করে তাহলে বুঝতে হবে আইনের শাসনের অভাব আছে।”

প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামস

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, প্রথম আলোর সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।

সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠলেই মামলা

আর্টিক্যাল নাইনটিনের দেয়া হিসাব অনুযায়ী, এই আইন কার্যকর হওয়ার দিন থেকে অর্থাৎ ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৬৭০টি মামলা দায়ের হয়েছে।

এতে অভিযুক্ত করা হয়েছে ১১৩৬ জনকে। এরমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ৪০৪ জন।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে ১১০টি। যাতে অভিযুক্ত হয়েছেন ২২৩ জন । গ্রেফতার হয়েছেন ৫৪ জন সাংবাদিক।

এরমধ্যে ৪০% মামলাই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পরিবার, মন্ত্রী, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামে কটূক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল টার্গেট হয়েছেন সাংবাদিক না হলে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।

এছাড়া, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, গুজব রটনা বা সরকারের সমালোচনা করা-এমন সব অভিযোগে এনেও আইনের অপপ্রয়োগ করা হচ্ছে বলে সংগঠনটির জরিপে উঠে এসেছে।

আইনটি পাস হওয়ার আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল, আইনটির অনেক ধারায় হয়রানি ও অপব্যবহার হতে পারে। এমন কয়েকটি হয়রানিমূলক ধারা সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল আর্টিকেল নাইনটিন।

সংস্থাটির লন্ডন কার্যালয়ের আইন বিভাগ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিটি ধারা খতিয়ে দেখে ২০১৯ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে।

আইনটির কোন কোন ধারা আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক, প্রতিবেদনে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

সংগঠনটি এই প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়ে সংস্কারের পরামর্শ দিলেও আজ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

পরে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রতিবেদনটির বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী একটি কমিটি করার কথা জানান। যারা আইনের ধারাগুলো রিভিউ করবে।

কিন্তু এখনও কোন রিভিউ হয়নি। আইনমন্ত্রীর একটাই কথা “আলোচনা চলছে”।

কিন্তু এই সময়ের মধ্যে আইনের লাগাতার অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফারুক ফয়সল।

“এই আইনে সংস্কার আনা না হলে এটি ‘কালা কানুন’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এই আইনের কোন ভিত্তি থাকবে না। কিন্তু সরকার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।” তিনি বলেন

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক পাল্টা প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, “বাক স্বাধীনতা বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগ করা হয়নি। কিন্তু কেউ যদি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটা অন্যায় করে জনগণ কি তার বিচার চাইবে না?”

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
ছবির ক্যাপশান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘন

এই আইনের কারণে বাংলাদেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা ও তথ্য জানার অধিকার বিঘ্নিত হবে আখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আইনটি পাস না করতে অনুরোধ জানিয়েছিল।

আইনের বেশিরভাগ ধারা দেশটির সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি

আবার একই আশঙ্কা থেকে শুরু থেকেই আইনটির বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিক ইউনিয়ন।

এই আপত্তির মধ্যেই ২০২০ সালে অন্যতম আলোচিত ঘটনার অবতারণা হয়।

ওই বছরের মে মাসে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনাভাইরাস নিয়ে এবং সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো।

এর মধ্যে লেখক মুশতাক আহমেদ কাশিমপুর কারাগারে আটক থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান।

উল্লেখ্য, এই আইনের ১৪টি ধারায় সংঘটিত অপরাধ অজামিনযোগ্য ।

এ কারণে নয় মাস ধরে আটক থাকা লেখক মুশতাক আহমেদ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছয় বার জামিন আবেদন করেও জামিন পাননি।

ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

সে সময় আইনমন্ত্রী এ আপত্তিগুলোকে যৌক্তিক দাবি করে সংশোধনের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত কোন পরিবর্তন হয়নি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি পাস হয়েছিল গত নির্বাচনের ঠিক আগে।

এবারেও নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে, ওটিটি নিয়ন্ত্রণে এবং তথ্য নিরাপত্তার জন্য আইন করতে যাচ্ছে সরকার।

এই তিনটি আইন সংবিধানকে পুনরায় প্রশ্নের মুখে ফেলবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখক মুশতাক আহমেদ

ছবির উৎস, Jennifer Ajmeri

ছবির ক্যাপশান, লেখক মুশতাক আহমেদ কাশিমপুর কারাগারে আটক থাকা অবস্থাতেই মারা যান।

প্রয়োজনে সংশোধন হবে, কিন্তু কবে?

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী স্বয়ং বলেছিলেন যে নওগাঁর ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হয়েছে।

তিনি বলেন, “ওই নারীকে যখন তুলে নেওয়া হয়, তখন কিন্তু তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ছিল না। তিনি যখন মারা যান, তখনো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ছিল না। মামলা হয়েছে তার পরের দিন। এখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে।”

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে ওই নারীকে ধরা হয়নি বলেও জানান তিনি।

এই অপব্যবহার বন্ধে তিনি বার বার ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও সেটা ‘কী ধরণের ব্যবস্থা’ তার স্পষ্ট কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, “আমি সব সময় বলে আসছি এই আইনের অপব্যবহার কিছু হয়েছে, তার সাথে আমি এটাও বলে আসছি যে এজন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তা তা করবো। আমি সুধী সমাজের বক্তব্য শুনেছি। সামনে আরও আলোচনা হবে। যদি প্রয়োজন হয় কিছু জায়গায় যেখানে খারাপ সেটা সংশোধন করা দরকার, নিশ্চয়ই করবো। যদি সেখানে বিধি দিয়ে এই অব্যবহার বন্ধ করা যায়, সেটা বিধি দিয়ে করবো।”

তবে সংশোধনী কোথায় প্রয়োজন সেটা এখনও আলাপ আলোচনার মধ্যে আছে বলে তিনি জানান।

কিন্তু কবে নাগাদ আইনের এই অপপ্রয়োগ ঠেকাতে কার্যত ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেটার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি মন্ত্রী।

এর আগে ৬ই মার্চ আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সব আইনেরই কিছু কিছু পদ্ধতিগত সমস্যা থাকে। আবার কিছু কিছু বাস্তবায়নের সমস্যা থাকে। যখন বাস্তবায়নে সমস্যা হয়, তখন আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করা হয়।

তবে আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল করা যুক্তিসঙ্গত হবে না বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
ছবির ক্যাপশান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আইনের অপব্যবহার অব্যাহত

বার বার আশ্বাসের কোন বাস্তব প্রতিফলন না থাকায় আইনের অপব্যবহার আজও অব্যাহত রয়েছে এবং এ কারণে অভিযুক্তদের যেসব আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে, তা লঙ্ঘন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।

সবশেষ বুধবার বাংলাদেশ রেলওয়ের দুর্নীতি, জায়গা দখল ও টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

এসব ঘটনাকে দেশের আইনের শাসনের এক মহা বিশৃঙ্খলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মি. ফয়সল।

তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের কোন নাগরিক নিরাপত্তায় থাকবে না। সংবিধান নাগরিকদের যে অধিকার দিয়েছে তা অনবরত লঙ্ঘিত হবে। এই আইনের অপপ্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বিবৃতি দিয়েছে। সরকার বলছে, এতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু এগুলো দেশের জন্য লজ্জাজনক।”

বাংলাদেশ বা বিশ্বের যেকোনো দেশে বসে বাংলাদেশের কোন নাগরিক যদি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন ধারা লঙ্ঘন করেন, তাহলেই তার বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে।

এই আইনের বিচার হয় বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে হয়। তবে এর মধ্যে করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

এদিকে প্রথম আলোর সাংবাদিক ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রসঙ্গে মি. ফয়সল জানান, সাধারণত গণমাধ্যমের কোন খবরে ভুল-ত্রুটি থাকলে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পদ্ধতি রয়েছে।

প্রথমত ওই খবরে যিনি সংক্ষুব্ধ হবেন বা যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তিনি ওই সংবাদ মাধ্যমে একটি প্রতিবাদ-লিপি পাঠাবেন।

সংবাদমাধ্যমটি সেই প্রতিবাদ-লিপি প্রকাশ করবে এবং নিজস্ব ব্যাখ্যা দেবে বা ভুল করে থাকলে ক্ষমা চাইবে।

আবার প্রেস কাউন্সিলের অভিযোগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় তার কোন কিছুই মানা হয়নি।

এ বিষয়ে ফারুক ফয়সল বলেন, “বাংলাদেশ যখন স্বাধীন ছিল না তখনও সাংবাদিকদের ওপর এ ধরণের অত্যাচার হয়নি। এখন যা হচ্ছে তা কালা কানুন।” তিনি বলেন।