বাংলাদেশের 'প্রস্তুতির অভাব এক্সপোজ' করে জিতলো ভারত

ভারতের শুভমন গিল সেঞ্চুরি করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভারতের শুভমন গিল সেঞ্চুরি করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন।
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট

বাংলাদেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ এর সূচনা করলো ভারত। বাংলাদেশের দেয়া ২২৯ রানের লক্ষ্য ৬ উইকেট হাতে রেখে টপকে গিয়েছে তারা। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ২২৮ রান তোলে, জবাবে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১ বল হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে ভারত।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয় তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন।

ভারতের শুভমন গিল সেঞ্চুরি করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক হাঁকিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ভারতের হয়ে মোহাম্মদ শামি পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।

ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ তবে সমর্থকদের জন্য রেখে গেছে কিছু যদি কিন্তু, যদি তাসকিন আহমেদের করা প্রথম বলটাই রোহিতের ব্যাট হয়ে স্ট্যাম্পের পথে যেত, যদি লোকেশ রাহুলের তুলে দেয়া বলটা লেগ সাইডের বাউন্ডারি লাইনে জাকের আলী অনিক ধরতে পারতেন? যদি রিশাদ হোসেনের মতো করে আর কেউ কঠিন লাইন লেন্থ ধরে রেখে ভারতের ব্যাটারদের সময়টা উইকেটে কঠিন করে তুলতে পারতেন?

তবে এসব 'যদি, হয়তো'র আলাপ এখন কার্যতই অকার্যকর, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ এ-তে ভারত ও নিউজিল্যান্ডেরর পয়েন্ট ২, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ০।

বিবিসি সাউন্ডস প্রোগ্রামে ক্রিকেট বিশ্লেষক রাশান আলম অবাক হয়ে বলেছেন, "বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের আগে যথেষ্ট ওয়ানডে ম্যাচ খেলেনি, এটা অবাক করা বিষয়, তাদের প্রস্ততির অভাব যেন এক্সপোজ করে দিয়েছে ভারত।"

ম্যাচ শেষে জয়ী দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেন, "আমরা চাপে ছিলাম এটা সত্য, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ, চাপ থাকবেই। এখানেই আসলে অভিজ্ঞতার মূল্য টের পাওয়া যায়।"

জাকের ও হৃদয়ের প্রশংসা করেছেন ভারতের অধিনায়ক।

বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্ত বলেন, প্রথম পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ বাংলাদেশের হাত থেকে ছিটকে গেছে।

চাপ ছিল, তবে সহজেই উতরে গেল ভারত

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মাত্র ২২৮ রানের লক্ষ্যে লড়াই করার মতো তেমন কিছু না থাকলেও বাংলাদেশ বোলিং খারাপ করেনি একেবারে।

তবে ভারতের ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমিয়ে এনেছেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা, ৩৬ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে দলকে অনেকটাই নির্ভার করে দিয়েছেন তিনি।

সাথে ছিলেন শুভমন গিল, যিনি ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট র‍্যাঙ্কিংয়ে এখন এক নম্বর ব্যাটার, ইনিংসের শুরু থেকে মেরে খেললেও চাপের মুহূর্তে দারুণভাবে ক্রিজে ছিলেন।

মূলত তার শত রানের ইনিংসেই বাংলাদেশের এই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়া।

ভিরাট কোহলি এদিন নিজের ফর্মহীনতার প্রদর্শনী দেখান আরও একবার, ৩৮ বল তিনি উইকেটে ছিলেন কখনোই মনে হয়নি স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন, মাত্র ২২ রান যোগ করে রিশাদ হোসেনের বলে আউট হন ভিরাট।

শেষ পর্যন্ত রিশাদ হোসেন বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন এই ম্যাচে- ১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি, যেখানে ছিল ৩১টি ডট বল।

মাঝে শ্রেয়াস আইয়ার ও আকসার প্যাটেল ১১ রানের ব্যবধানে প্যাভিলিয়নে ফিরলে খানিকটা আশা জাগে বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে, তবে লোকেশ রাহুলের সহজ ক্যাচ জাকের আলী ফেলে দেয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর সামান্য সম্ভাবনাও আর জাগেনি বাংলাদেশের জন্য।

এটা ছিল তাওহীদ হৃদয়ের প্রথম ওয়ানডে আন্তর্জাতিক শতক।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এটা ছিল তাওহীদ হৃদয়ের প্রথম ওয়ানডে আন্তর্জাতিক শতক।

আদতে প্রথম সেশনেই বাংলাদেশ খেলার বাইরে

সৌম্য সরকার ০, নাজমুল হোসেন শান্ত ০- এই হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দুই টপ অর্ডার ব্যাটারের স্কোর, যখন দলের মোট স্কোর ২।

বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ব্যাটারই আউট হয়েছেন ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে, কখনো সরাসরি ফিল্ডারের হাতে, কখনো শরীর থেকে অনেক দূরের বল খেলতে গিয়ে, কখনো কেবলই ব্যাটে বলে ছোঁয়া লাগাতে গিয়ে।

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দর্শক মাত্রই এমন দৃশ্যে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কথা, ৪০ বা ৫০ রানের ভেতর চার থেকে পাঁচ উইকেট নেই এরপর মিডল অর্ডার বা লোয়ার মিডল অর্ডারের কেউ হাল ধরে সম্মানজনক একটা স্কোরের পথে বাংলাদেশ যাচ্ছে এমনই একটা ম্যাচ আবারো দেখলো বাংলাদেশের দর্শকরা।

শুধু চরিত্রে ভিন্নতা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল কিংবা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নেই সেই জায়গায় উদ্ধার কাজে এসেছেন তাওহীদ হৃদয়, করেছেন একটি লড়াকু শতক।

১১৮ বলে ১০০ রানের ইনিংসটিতে ৬টি চার ও ২টি ছক্কার মারের সাথে ছিল ধৈর্য্য ও লড়াই করার স্পৃহা, যেটা সিনিয়র অনেক ক্রিকেটারই দেখাতে পারেননি।

হৃদয় যখন ক্রিজে নামেন বাংলাদেশের ততক্ষণে ৩ উইকেট নেই, স্কোর কার্ডে ২৬ রান, হৃদয় যখন খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাংসপেশির তীব্র ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন তার নামের পাশে ১০০, বাংলাদেশের খাতায় ২২৮ রান, এতেই বোঝা যায় এই মন্থর উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের সংগ্রামটা কতোখানি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশ দলের জন্য।

মনে করা হচ্ছিল এমন মন্থর উইকেটে মোস্তাফিজুর রহমানের বল ভালো কাজ করবে কিন্তু তিনি অনেক সহজেই রান দিয়েছেন এই ম্যাচে।

বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমান ৯ ওভারে ৬২ রান দিয়েছেন, তানজিম হাসান সাকিব দিয়েছেন ৮.৩ ওভারে ৫৮ রান।

তাওহীদ হৃদয়ের ১১৮ বলে ১০০ রানের ইনিংসটিতে ৬টি চার ও ২টি ছক্কার মারের সাথে ছিল ধৈর্য্য ও লড়াই করার স্পৃহা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, তাওহীদ হৃদয়ের ১১৮ বলে ১০০ রানের ইনিংসটিতে ৬টি চার ও ২টি ছক্কার মারের সাথে ছিল ধৈর্য্য ও লড়াই করার স্পৃহা।

এটা ছিল তাওহীদ হৃদয়ের প্রথম ওয়ানডে আন্তর্জাতিক শতক। তিনি আসলে ৪০ ওভারের পর থেকেই আর দৌড়াতে পারছিলেন না, দুবাইয়ের গরম তার ওপর জেঁকে বসেছিল, এর মাঝেই চালিয়ে গেছেন, করেছেন শতক।

সাথে ছিলেন জাকের আলী অনিক, যদি লোকেশ রাহুলের ক্যাচ ছেড়ে আপাতত অনেকের চোখে 'ভিলেন' হলেও বাংলাদেশের যা কিছু রান এসেছে তার কৃতিত্ব অনিকও পাবেন।

অবশ্য ইনিংসের প্রথম বলেই জীবন পেয়েছিলেন জাকের, স্লিপে বেশ সহজ একটা ক্যাচ ছেড়েছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সেই সাথে ধূলিস্যাৎ করালেন আকসার প্যাটেলের হ্যাটট্রিক।

সেখান থেকেই জাকের-হৃদয়ের ১৫৪ রানের জুটি।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ১১৪ বলে ৬৮ রান করেন জাকের আলী।

ইনিংসের শেষ দিকে ১ ওভারে ২ ছক্কা ও ১টি চার মেরে রিশাদ বাংলাদেশের স্কোরটাকে আরেকটু এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।