ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঢালাও শুল্ক 'অবৈধ' ঘোষণা করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপ বা গ্লোবাল ট্যারিফ নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন "প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না"।
রায়ে বলা হয়েছে জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইনকে ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প তার কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করেছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে। তিনি তা করতে পারেন না।
এপ্রিল মাসে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মি. ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় একে 'অপমানজনক' বলে অভিহিত করেছেন। সরাসরি হোয়াইট হাউজ থেকে প্রতিক্রিয়া না এলেও, গভর্নরদের সাথে এক বৈঠকে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে জানাচ্ছেন হোয়াইট হাউজ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা।

ছবির উৎস, Getty Images
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রতি রিপাবলিকানদের সমর্থন বা চিন্তাভাবনা একরকম ছিল না। অনেকেই নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের চাপের মুখে পড়েছেন, যারা শুল্কের প্রভাবের মুখে পড়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রতীকীভাবে কিছু রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা করেছেন।
যেমন কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মিচ ম্যাকওনেল গত বছর প্রকাশ্যে শুল্কের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, "বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার প্রকৃত খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ে, ফলে তারা সবক্ষেত্রেই বেশি দাম দিচ্ছেন।"
এই রায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হলেও প্রশাসন অন্য আইনও ব্যবহার করতে পারে এবং হোয়াইট হাউস থেকে বড় নীতিগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
এমন বিশ্লেষণ করছেন বিবিসির আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ক সংবাদদাতা থিও লেগেট। কিন্তু অন্য পদ্ধতিতে শুল্ক আরোপ করতে গেলে কংগ্রেসের অনুমোদন বা বাণিজ্য দপ্তরের তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে, যা বেশি সময় নিতে পারে।
ফলে এই রায় একদিকে নিশ্চিত করেছে যে, প্রেসিডেন্ট এই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে শুল্ক আরোপ করতে পারবেন না।
অন্যদিকে নতুন অনিশ্চয়তাও সৃষ্টি করেছে। কারণ মার্কিন আমদানিকারকরা ইতিমধ্যে যে শুল্ক পরিশোধ করে ফেলেছেন, তা ফেরতের ক্ষেত্রে কী হবে- তা এখনও স্পষ্ট নয়। সে শুল্ক ফেরত দিতে হলে মার্কিন সরকারের জন্য বিশাল অর্থ খরচ হতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের কিছু বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল করার আগেই, কিছু বড় মার্কিন কোম্পানি ইতিমধ্যে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত পেতে মামলা করেছিল।
সুপ্রিম কোর্টের রায় কীভাবে কার্যকর হবে, সেটাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
আইন প্রতিষ্ঠান পিলসবারি-এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের প্রধান স্টিভ বেকার বিবিসিকে বলেন, আদালতের রায় কীভাবে কার্যকর হবে- তা নির্ধারণের দায়িত্ব থাকবে কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের ওপর।
আবার ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অন্য আইনের মাধ্যমে শুল্ক আরোপের বিকল্প পরিকল্পনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করছেন মি. বেকার।
তিনি উদাহরণ দেন, এখন তিনি এমন একটি আইন ব্যবহার করতে পারেন, যা প্রেসিডেন্টকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়। সেক্ষেত্রে তিনি নির্দিষ্ট দেশ বা খাতকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন।
আদালত আবার কিছু শুল্ক বহালও রেখেছে, যেগুলো নির্দিষ্ট দেশ থেকে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছিল। এতে প্রশাসনের সামনে শুল্ক নীতি পুনর্গঠনের একটি সম্ভাব্য পথ রয়ে গেছে।
যাই হোক, ট্রাম্প এই ইস্যু সহজে ছেড়ে দেবেন—এমন সম্ভাবনা কম। হোয়াইট হাউসে প্রার্থী হওয়ার অনেক আগ থেকেই তিনি শুল্ক নিয়ে সোচ্চার।
সুপ্রিম কোর্ট তার এককভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করলেও, তিনি এই অবস্থান সহজে ত্যাগ করবেন না বলে ধারণা দিচ্ছেন বিবিসির ওয়াশিংটন সংবাদদাতা ড্যানিয়েল বুশ।








