পত্রিকা: 'জামায়াত-এনসিপি আলোচনার মাঝে আট দলে টানাপোড়েন'

প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে নানা খবর রয়েছে আজ শুক্রবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোর পাতাজুড়ে।
সমকালের দ্বিতীয় প্রধান খবর— জামায়াত-এনসিপি আলোচনার মাঝে আট দলে টানাপোড়েন।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত ও এনসিপি নির্বাচনী সমঝোতার পথে অনেকটাই এগিয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
দলগুলোর সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে দুই দফা এবং গতকাল বৃহস্পতিবার এক দফা বৈঠক হয়েছে দুই দলের।
তবে এনসিপির কয়েকজন নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোট করার বিরোধী। এর মধ্যে রয়েছেন সম্প্রতি পদত্যাগ করা দুই ছাত্র উপদেষ্টা ও তাদের সমর্থকরা। তারা বিএনপির সঙ্গে জোট করার পক্ষে।
এদিকে, জামায়াত ও এনসিপির আলোচনার মধ্যেই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে আট দলে।
প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পেয়ে ক্ষোভ জানাচ্ছে জামায়াতের মিত্র ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
দল দুইটির প্রস্তাব, জামায়াত ১৩৫ আসনে, এনসিপির জোট ৩০ আসনে এবং বাকি সাত দল ১৩৫ আসনে নির্বাচন করবে।
তবে দলগুলোর সূত্রে জানা যাচ্ছে, জামায়াত একাই দুই শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চায়।
এনসিপি ও এবি পার্টিকে ৩০ আসন ছাড়তে চায়। তবে দল দুইটির গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট ৫০ আসন চায়।
বাকি আসন ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, জাগপা ও বিডিপির মধ্যে বণ্টন করতে চায়।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
প্রত্যাবর্তনের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য— প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি।
এতে বলা হয়েছে, প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সপরিবার দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই তিনি খালি পায়ে শিশিরভেজা ঘাসে দাঁড়িয়ে ১৭ বছর পর প্রথম দেশের মাটির স্পর্শ নেন।
ঢাকার বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফুটে সংবর্ধনা মঞ্চ— রাস্তার দুই ধারে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সারি, মানুষের ঢল নেমেছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। সাড়ে ছয় কিলোমিটারের এই পথ লোকারণ্য হয়ে ওঠেছিল।
জনজোয়ার ঠেলে বিকেল প্রায় চারটায় তারেক রহমান পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনা মঞ্চে ওঠেন, ১৬ মিনিট বক্তব্য দেন।
তিনি সকলের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
নারী, পুরুষ, শিশু এমনকি সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদে থাকে সেটাই তাদের চাওয়া বলে জানান।
বক্তব্য শেষ করে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা।
এদিকে, দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান ফোনে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে।
নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপি নেতা।

ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা— যুগান্তরের শেষের পাতার পাতার সংবাদ এটি।
এই খবরে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ছিল। স্মরণকালের সর্বোচ্চ ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকেই মাঠে ছিলেন আট হাজার সদস্য। ছিলেন সেনাবাহিনীর দুই হাজার এবং বিজিবির পাঁচ শতাধিক সদস্য।
এছাড়া, বিপুলসংখ্যক আনসার ও র্যাব সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকেও ছিল পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট-তিন জোনে ভাগ করে সাজানো হয় নিরাপত্তা ছক।
কেবল তিনশ ফিটের সংবর্ধনাস্থলই নয়, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়।
মোড়ে মোড়ে ছিল চেকপোস্ট। তল্লাশি করা হয় সন্দেহভাজন গাড়ি। নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয় বেশকিছু সড়কে যান চলাচল।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— তারেক রহমানকে স্বাগত জানাল জামায়াত-এনসিপি।
এতে বলা হচ্ছে, ১৭ বছরের বেশি নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান।
তাকে দেশে স্বাগত জানিয়েছেন জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
জামায়াাতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঐক্যের ব্যাপারে তারেক রহমান কী ভূমিকা রাখেন, অথবা কী পরিকল্পনা আছে তার এবং বাস্তবায়ন কীভাবে করবেন— এসব বিষয়ে নজর রাখবে জামায়াত।
অন্যদিকে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

৫ আগস্টের পর বড় সমাবেশের কোনোটিতেই বিশৃঙ্খলার ছাপ নেই— বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর এটি।
এতে বলা হচ্ছে, চব্বিশের পাঁচই অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় সারাদেশে খুন, গণপিটুনি, মব সহিংসতা, অপহরণ, দখল ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকায় অন্তত সাতটি বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
যেগুলো সমাপ্ত হয়েছে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে।
এগুলোতে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজকদের তৎপরতায় কোনো বিশৃঙ্খলার ছাপ এ ধরনের কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব— এটা তারই প্রমাণ।

তীব্র শীতে শুরু হবে নতুন বছর— দেশ রূপান্তরের শেষের পাতার খবর এটি।
এই খবরে বলা হচ্ছে, চলতি মাসে তেঁতুলিয়ায় বিক্ষিপ্তভাবে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলেও আশপাশের কোনো এলাকায় তাপমাত্রা কমেনি। তাই শৈত্যপ্রবাহ হয়নি।
তবে ভারতের উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড ও বিহার থেকে আসা কুয়াশার চাদর দেশের উত্তরবঙ্গ, সিলেট, ঢাকার উত্তরাংশ হয়ে কুমিল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া কুয়াশায় সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারছে না। এতে দিনের তাপমাত্রা বাড়ছে না বলে শীতের অনুভূতি বাড়ছে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বললেন, 'চলতি মাসে আর শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।'
আগামী দুই থেকে তিন দিন ঘন কুয়াশা থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

ব্যক্তিখাতের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে সুদ-চাপ বাড়ছে— নয়া দিগন্তের শেষের পাতার সংবাদ এটি।
এই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইডি ব্যবস্থাপনা সেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যক্তিখাতের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ কাঠামোতে সুদের অংশ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
২০২৫ সালে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যক্তিখাতের বৈদেশিক ঋণ ড্রয়িং এক দশমিক ডলারে নেমে এলেও এই সময়ে সুদ দিতে হয় ৮৭০ মিলিয়ন ডলার,আর কমিশন দিতে হয় ৩৫২ মিলিয়ন ডলার।
এতে বোঝা যাচ্ছে, নতুন ঋণ গ্রহণ কমলেও পুরনো ঋণের বোঝা এখনও অর্থনীতিকে চেপে ধরছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ব্যক্তিখাতের ঋণ ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এইডেটা তিনটি বড় ঝুঁকির কথা বলছে বলে মনে করেন তারা।
প্রথমত, ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ সক্ষমতা সঙ্কুচিত হচ্ছে; দ্বিতীয়ত, ডলার আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধ ব্যয় দ্রুত বাড়ছে;
তৃতীয়ত, ব্যাংকিং ও রফতানি খাতে ক্যাশ-ফ্লো চাপ বাড়ছে।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের প্রধান খবর— সংস্কারে ধীর গতিতে হতাশ অংশীজনরা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। তারা সকলেই গত এপ্রিলের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেয়।
চলতি বছরের শুরুতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের বিষয়ে প্রত্যাশা ছিল বেশ, কিন্তু বছর শেষ হতে চললেও এক্ষেত্রে অগ্রগতি খুব হয়নি।
এদিকে, কমিশনগুলোর সংস্কার প্রস্তাবকে মূলত দুইটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন।
সুপারিশ অনুযায়ী, সাংবিধানিক সংস্কারে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির জন্য সরকার গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে, পরবর্তীতে তারা জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া তৈরি করে।
এর মধ্যে সংবিধান সংশোধনের বেশিরভাগ সুপারিশের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে।

দ্য ডেইলি স্টারের শেষের পাতার সংবাদ— Law and order failure led to Khuda Baksh's resignation; অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে খোদা বখসের পদত্যাগ।
এই খবরে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভেতরে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খুদা বখশ চৌধুরী।
সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিশেষ করে পুলিশের মধ্যে শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে চব্বিশের ডিসেম্বরে তাকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
প্রত্যাশিত সফলতা এবং সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখাতে না পারায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।









