ইরাকে বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মার্কিন সেনা আহত

ছবির উৎস, Getty Images
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আল আসাদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছে।
এছাড়া একজন ইরাকি সৈন্যও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী শনিবার সন্ধ্যায় ঐ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও রকেট বোমা নিক্ষেপ করে।
এসময় ঘাঁটিতে অবস্থান করা বেশ কয়েক জন মার্কিন সৈন্য আহত হন। তাদেরকে এখন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সৈন্যদের আরও অনেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা মস্তিষ্কে আঘাত পেয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলায় আহত ইরাকি সৈন্যটিকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামে একটি গোষ্ঠী বিমানঘাঁটিতে হামলার এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি’ জানিয়েছে যে, এই গোষ্ঠীটি ২০২৩ সালের শেষের দিকে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে।
তারা ইরাকে ইরান সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশে মার্কিন সৈন্যদেরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটছে। ইরাকের এই হামলাটি সেগুলোরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শনিবার সন্ধ্যায় তাদেরকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে ঘাঁটিতে আঘাত করেছে।
হামলায় কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে ইরান সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাক ও সিরিয়ার মার্কিন অবস্থানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করার চেষ্টা করছে।
এরই অংশ হিসেবে, শনিবার হুথিদের বিরুদ্ধে আরও একটি বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশই ইরান সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, তারা হুথিদের একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছিল, যেটি ছোঁড়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সম্ভাব্য ঐ হামলা ঠেকাতেই হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি সিরিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানের বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে দেখা গেছে ইরানকে।
এর আগে শনিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বিমান হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে।
ঐ হামলায় ইরানের সামরিক উপদেষ্টাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত পাঁচজন সদস্য নিহত হয়।
সিরিয়ায় হামলার জবাব দেওয়া হবে: ইরান
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
গত শনিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে যে হামলা চালানো হয়েছে, তার 'সমুচিত জবাব' দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করেছের ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি।
হামলার ঘটনাকে 'কাপুরুষোচিত' বলেও আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
"এর সমুচিত জবাব দেওয়া হবে" এক বিবৃতিতে বলেন মি. রাইসি।
এর আগে, ঐ হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছিল দেশটি।
ইসরায়েল অবশ্য এ বিষয়ে এখনও কোন মন্তব্য করেনি।
তবে ইরানের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে, বহু বছর ধরে সিরিয়ায় এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।
গত বছরের সাতই অক্টোবর থেকে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এরকম হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ড বাহিনীর সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ সরকারকে সহায়তা করতে কাজ করে আসছেন।
শনিবারের হামলা ঘটেছে দামেস্কের দক্ষিণ-পশ্চিমের মাজ্জেহ এলাকায়, যেখানে একটি সামরিক বিমানবন্দর রয়েছে এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তর, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও রেস্তোরাঁ রয়েছে।
ঘটনার পর বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, তিনি বড় ধরনের ‘বিস্ফোরণ’ দেখতে পেয়েছেন এবং সেখানে ‘বিশাল ধোঁয়ায়’ ঢেকে যেতে দেখেন।
‘’শব্দটা শুনে আমার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছে। কয়েক মিনিট পরেই আমি অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যাওয়ার আওয়াজ শুনতে পাই,’’ তিনি বলেন।

ছবির উৎস, Getty Images
ইরানের আধা-সরকারি মেহের বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ওই হামলায় সিরিয়ায় রেভ্যুলশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান, উপ-প্রধান এবং আরও দুইজন গার্ড কমান্ডার নিহত হন।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ধোঁয়ার বিশাল স্তরের তৈরি হয়েছে এবং ভবন বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। তবে এই ভিডিওটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি বিবিসি।
গতমাসেই দামেস্কের বাইরে একটি সন্দেহজনক ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিপ্লবী গার্ডের একজন কমান্ডার নিহত হয়েছিলেন।
চারদিন আগে ইরান দাবি করেছিল যে, তার ইরাকের আধা স্বায়ত্বশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সেই ঘটনার দায়িত্ব স্বীকার করেছিল রেভ্যুলশনারি গার্ডস।
সাতই অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েল।
হামাসের হামলায় ১৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৪০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে এখনো অন্তত ১৩২ জিম্মি রয়েছেন।
অন্যদিকে গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় গাজাতে ২৪ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে তারা ভূমি এবং আকাশপথে হামলা চালাচ্ছে, যে গোষ্ঠীটির মূল সমর্থক ইরান।
এরপর থেকে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। যুদ্ধ আশেপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ছবির উৎস, AFP
এর মধ্যেই হেজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে।
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলা করছে। হুথিদের দমন করতে ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।
এই সপ্তাহে উত্তেজনা আরও বেড়েছে যখন পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে, যাদের দুটি শিশুর মৃত্যু হয়।
ইরানের দাবি, তারা ইরানি সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এরপর পাল্টা জবাব হিসাবে ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় হামলা করে পাকিস্তান, যাতে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, তারাও সন্ত্রাসী ঘাটিতে হামলা করেছে।
উভয় দেশই তাদের রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করে নেয়। আলোচনার পরে অবশ্য তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার স্বাভাবিকও হয়ে গেছে।











