ইরাকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা দপ্তরে ইরানের মিসাইল হামলা

ইরাকের কুর্দিস্তানে ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত ভবন

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, ইরাকের কুর্দিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন, রাতভর হামলায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে

ইরাকের আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তরে ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সোমবার রাতে এই ঘটনার পর এর দায় স্বীকার করেছে আইআরজিসি।

একই সাথে ইরানের এই এলিট ফোর্স সিরিয়ায় আইএস’র বিরুদ্ধেও হামলা চালিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

ইরাকের উত্তরের ইরবিলের কাছে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। এই হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে।

হামলায় চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হওয়ার খবর দিচ্ছে ইরাকের কুর্দিস্তান নিরাপত্তা পরিষদ।

গত বছরের সাতই অক্টোবর থেকে গাঁজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ক্রমবর্ধমান সংকটের মধ্যেই হামলার এই ঘটনাটি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েন ওয়াটসন জানান, ''আমরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন চালিয়ে যাবো। তবে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে এই হামলাটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত।''

ইরান রেভুলেশ্যনারি গার্ড তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘জায়োনিস্টদের সাম্প্রতিক নৃশংসতা, রেভুলেশ্যনারি গার্ডস ও অ্যাক্সিস কমান্ডারদের হত্যার কারণে ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তর এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, তারা ইরানের সংবাদ সংস্থার পুরো প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি। মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিক ভাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তা সম্ভব হয় নি বলেও জানিয়েছে রয়টার্স।

গত মাসে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের এই এলিট ফোর্সের তিন কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ ছিলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সেই সময়ই ওই ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।

ইরবিলে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরাকের সরকার

ছবির উৎস, ANADOLU

ছবির ক্যাপশান, ইরবিলে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরাকের সরকার
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, আমরা আমাদের জাতিকে আশ্বস্ত করছি, শহিদদের রক্তের শেষ বিন্দুর প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত গার্ডসদের এই সশস্ত্র অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, ‘এই হামলা সাম্প্রতিক ইহুদি বাদী শাসকের নৃশংসতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে করা হয়েছে’।

মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে একটি আবাসিক এলাকায় কুর্দিস্তানের রাজধানী ইরবিলের উত্তর-পূর্বে হামলার পাশাপাশি সিরিয়াতেও বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। বিপ্লবী গার্ডস বলেছে, সিরিয়ায় আইএসকে লক্ষ্য করে তারা এসব হামলা চালিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কেরমান শহরে দুটি বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে আইএস। ওই বিস্ফোরণে প্রায় ১০০ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছিল।

হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, আমরা নজরে রেখেছে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর ইরাক এবং উত্তর সিরিয়ায় আঘাত হেনেছে। তবে কোনও মার্কিন কর্মী বা স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।

ইরাকি কুর্দি প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি ইরবিলের এই হামলাকে কুর্দি জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ বলেও নিন্দা জানিয়েছে।

ইরাকের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, হামলায় নিহতদের মধ্যে কুর্দি ব্যবসায়ী পেশরাউ দিজাই এবং তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন। তাদের বাড়িতে একটি রকেট বিধ্বস্তের ঘটনায় তারা নিহত হয়েছেন বলেও তথ্য দিচ্ছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।

ইরাকের নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, এই হামলার সময় ইরাবিল বিমানবন্দরের বিমান চলাচল বন্ধ ছিল।

ইরান এর আগেও বেশ কয়েকবার ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। দেশটির দাবি, ওই এলাকা ইরানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি চিরশত্রু ইসরায়েলের এজেন্টদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।