আবহাওয়া নিয়ে ভালো ও খারাপ খবর দুটোই আসছে

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টির আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টির আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

একই সাথে কোনো কোনো জায়গায় শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে দেশের অন্য জায়গাগুলোতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলে সবমিলিয়ে প্রধানত শুষ্কই থাকতে পারে। আর পরবর্তী বায়াত্তর ঘণ্টায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দাবদাহের শেষে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে, এমন পূর্বাভাস থাকলেও দুশ্চিন্তা তৈরি হচ্ছে ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির সাথে পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা নিয়ে।

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের আভাসের কারণে বাংলাদেশে হাওড় এলাকা পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা আছে।

বাংলাদেশে ২৩শে এপ্রিল বা তার পর থেকে বৃষ্টিপাত, ঝড়ো হওয়া বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানতে পারে দেশের বিভিন্ন জায়গায়, এমন আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাস অনুযায়ী দু'সপ্তাহেরও বেশি সময়ের দাবদাহের পর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে শুরু করবে দু'একদিনের মধ্যেই। অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত আবহাওয়া বর্তমান রূপে থাকলেও তারপর থেকে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আর এরপর হাওড় এলাকায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা কথা বলছেন আবহাওয়াবিদরা। তখন মেঘালয়েও ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ি ঢল বয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে বাংলাদেশে মার্চ, এপ্রিল ও মে এই তিনমাসকে বর্ষাপূর্ব মৌসুম হিসেবে ধরে থাকে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এই তিনমাস সাধারণত স্থানীয়ভাবে বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টি নামায়। কখনো কখনো দেশের বাইরে আশপাশ থেকেও বজ্রমেঘ তৈরি হয়ে এসে বাংলাদেশের আকাশে পরিপক্বতা লাভ করে। এরপর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।

কিন্তু আবহাওয়া অফিস বলছে, এবারে মার্চ মাসে বেশ ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রমেঘ তৈরি হয়েছে। যেটার ধরণ অন্যবারের চেয়ে আলাদা।

আর এই অস্বাভাবিকতার বড় উদাহরণ হলো প্রায় সতের দিনের দাবদাহ এবং এর মধ্যেই রেকর্ড ছুঁয়েছে তাপমাত্রা।

বাংলাদেশে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ বয়ে চলেছে। বিশেষ করে দেশের একটি জেলা চুয়াডাঙ্গায় গত দোসরা এপ্রিল থেকে ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১৪দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

দেশের বেশ কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রিও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গত ১১-১২ দিন ধরে দেশের কোথাও বৃষ্টিও নেই। যদিও মাঝে ৫ই এপ্রিল সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কয়েকদিনের মধ্যে কালবৈশাখীর প্রবণতা বেশি দেখা যেতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কয়েকদিনের মধ্যে কালবৈশাখীর প্রবণতা বেশি দেখা যেতে পারে।

তাপমাত্রা কমলেই ঝড়ের শঙ্কা

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ঢাকায় আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন দাবদাহের পর দেশের নানা জায়গায় বৃষ্টি হবে তবে এর বেশিরভাগই হয়ে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি।

“কালবৈশাখী ঝড়ও হবে অনেক জায়গায়। আর বৃষ্টি হলেও তা হবে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের,” বলছিলেন তিনি।

কিন্তু এই বৃষ্টির সাথে ঝড় কেমন হয় কিংবা একই সাথে ২৩শে এপ্রিলের পর ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ অঞ্চলে কেমন প্রভাব ফেলে তা নিয়েই মূলত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সুনামগঞ্জেই যেহেতু বড় হাওড় এলাকা সে কারণে সেখানে তাই নেয়া হচ্ছে আগাম সতর্কতা। বিশেষ করে ইতোমধ্যেই ধান পাকতে শুরু করায় দ্রুত পাকা ধান কেটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পাকা ধান কেটে ফেলার জন্য মাইকিং করে সেখানকার কৃষকদের বলা হচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে।

জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলছেন ২৩/২৪ এপ্রিলের মধ্যেই আশি ভাগ পাকা ধান কৃষকরা তুলে ফেলতে সক্ষম হবেন বলে তারা আশা করছেন।

“হাওড় এলাকায় কোনো কোনো উপজেলায় সত্তর ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি কেমন হবে আমরা জানি না। তবে প্রতিকূল হলেও ফসলহানির কোনো ঝুঁকি থাকবে না আশা করছি। সেভাবেই সবাই কাজ করছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তিনি জানান হাওড় এলাকার পানি কিছুটা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যদিও সেটা এই সময়ে স্বাভাবিক বলেই মনে করা হয়।

২৩শে এপ্রিলের পর দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২৩শে এপ্রিলের পর দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শামসুদ্দোহা বিবিসি বাংলাকে বলছেন পাহাড়ি ঢল আসলেও তা যেন ক্ষতির কারণ না হতে পারে সেজন্য সব ধরণের প্রস্তুতি তাদের আছে।

“বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত সারিয়ে তোলাসহ যে কোনো তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি আমরা নিয়ে রেখেছি। আবহাওয়া পরিস্থিতি কেমন হবে সেটা আসলে ১/২ দিন আগে টের পাওয়া যায়। তাই এখনি বলা যায় না যে ঠিক কেমন পরিস্থিতি হবে। তবে খারাপ হলেও আমরা যাতে ব্যবস্থা নিতে পারি তেমন সবকিছু আমাদের আছে, “ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এপ্রিল মাসকে কালবৈশাখীর সময় বলে মনে করা হয়। ১৯৮১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আবহাওয়া অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ১২ থেকে ১৩ দিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। একই সাথে তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পায়।

একটি কালবৈশাখী ঝড় তৈরি হয়ে পূর্ণতা লাভের পর ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এর তীব্রতা থাকে। পরে তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত শেষ বিকেলে এবং সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী হয়। কিন্তু পূর্বাঞ্চলে সন্ধ্যার পরে হয়।

এবার এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ এ ধরণের পরিস্থিতি থাকতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

চলমান দাবদাহ কিছু জেলায় আরও কয়েকদিন অনুভূত হতে পারে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চলমান দাবদাহ কিছু জেলায় আরও কয়েকদিন অনুভূত হতে পারে।

কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস আছে?

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, খুব অল্প সময় অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঝড়টি তৈরি হয় বলে কয়েকদিন দিন আগে এ সম্পর্কে ধারণা করা কঠিন।

কোন অঞ্চলে ব্যাপক গরম পড়লে তখন কেউ কেউ অনুমান করেন যে এ ধরণের ঝড় হতে পারে। তবে এটি নিতান্তই আবহাওয়ার অবস্থা দেখে অনুমান করা।

কালবৈশাখী কোথায় কতক্ষণ হবে সেটি আগে থেকেই জানিয়ে দেয়ার মতো বৈজ্ঞানিক কোন উপায় এখনো নেই।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে এটি তৈরি হয় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা আগে এবং শতভাগ বোঝা যায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে।

এই আবহাওয়াবিদের মতে কালবৈশাখী সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেয়া কঠিন কারণ ঝড়টি খুব অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হয়।

ঝড়ের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে এখন হাই ইমপ্যাক্ট ওয়েদার এসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নাসার মতো সংস্থাও এতে সহায়তা দিচ্ছে।