মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে আওয়ামী লীগে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে?

শেখ হাসিনা

ছবির উৎস, Getty Images

    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতিকসহ কয়েকটি শ্রেণী পেশার ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

দলটির বিভিন্ন স্তরে যে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠছে, তাহলো- কতদূর যাবে আমেরিকা? নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতিই-বা কেমন হবে?

দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে এমন ধারণা পেয়েছে বিবিসি।

বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র সফররত থাকা অবস্থায় সে দেশের সরকারের ভিসা নীতি প্রয়োগের ঘোষণার বিষয়টি অনেকের মধ্যেই নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কেউ শক্ত ভাষায় আমেরিকার সমালোচনা করছেন, আবার কেউ হালকা চালে বিষয়টিকে গুরুত্বহীন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

কেউ আবার এটিকে ‘কয়েকজন ব্যক্তির বিষয়’ বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও দলীয় পরিমণ্ডলের প্রকৃত পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

শুক্রবার ২২শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি কিছু নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন দলটির নেতারা

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাতে ভিসা নীতি ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

নিজেদের মধ্যে আলোচনা কিংবা অনানুষ্ঠানিক আলোচনাগুলোতে যে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে তাহলো ভিসা নিষেধাজ্ঞা তালিকায় আওয়ামী লীগ, প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কারা আছেন?

সেই সাথে, এতে করে প্রশাসন বা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের মধ্যে নেতিবাচক কোন মনোভাব তৈরি হতে পারে কি-না?

তবে আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে দেয়ার পর, এখন আর আওয়ামী লীগের ‘হারাবার কিছু নেই’ বলেই মনে করেন তারা।

আওয়ামী লীগের একটি র‍্যালী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নানা সিদ্ধান্ত উদ্বেগ তৈরি করেছে আওয়ামী লীগের মধ্যে

সে কারণে নির্বাচন নিয়ে বিরোধ দল বিএনপির সাথে আর কোন সমঝোতার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তারা।

আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম সভাপতিমন্ডলী এবং জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বিভিন্ন স্তরের একাধিক নেতা বিবিসিকে বলছেন, এখন নির্বাচনে না এসে আর নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করতে পারবে না বিএনপি, 'এটিই বরং তাদের জন্য স্বস্তির বিষয়'।

দলের ভেতরের প্রতিক্রিয়া ঠিক কেমন?

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি নিয়ে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে ‘টেনশন, উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা’ কোন কিছুই নেই।

বরং তিনি মনে করেন, কেউ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চিন্তা করলে এটি তাদের জন্য চিন্তার বিষয় হতে পারে।

সভাপতিমন্ডলীর আরেকজন সদস্য শাজাহান খান অবশ্য বলছেন দলের মধ্যে কেউ কেউ বিচলিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই, কারণ নির্বাচন এলেই এমন কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, যা তার মতে 'নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আর থাকে না'।

দলটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বিবিসিকে বলছেন, “ভিসা নীতি আমাদের 'মাইনকা চিপায়' ফেলেনি। আমরা কেন উদ্বিগ্ন হবো? বরং নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যাতে সম্পন্ন করা যায় এ ঘোষণা সেই পরিবেশ তৈরি করেছে।”

তবে নেতারা প্রকাশ্যে যা-ই বলুন, ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ধারাবাহিক বেশ কয়েকটি ঘটনা দলের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের বিচলিত করে তুলেছে।

এর মধ্যে ২০২১ সালে র‍্যাব ও এর কয়েকজন সাবেক এবং বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি বছর মে মাসে ভিসা নীতির ঘোষণা দেয় দেশটি, যাতে বলা হয় 'যে কোন বাংলাদেশি ব্যক্তি যদি সেদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া ব্যাহত করার জন্য দায়ী হন বা এমন চেষ্টা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয় - তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ভিসা দেয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে'।

এরপর সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশকে নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হওয়া, নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক না পাঠানোর ঘোষণা এবং সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি প্রয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুর ঘোষণা - একের পর এক এসব সিদ্ধান্ত ক্ষমাতসীন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে এরপর প্রভাবশালী পশ্চিমারা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন নিয়ে সামনে আরও কোনও পদক্ষেপ নেয় কি-না এবং তা সামলাতে সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা কী পদক্ষেপ নেন তা নিয়েও উৎকণ্ঠাময় একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগের মধ্যে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলারের বিবৃতিতে ভিসা নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলারের বিবৃতিতে ভিসা নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্র কেন আওয়ামী লীগ সরকারকে এভাবে প্রকাশ্যে চাপ দিচ্ছে এবং এর প্রকৃত কারণই বা কী - এমন প্রশ্নও করছেন দলের অনেকে।

শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান অবশ্য মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ও শেখ হাসিনার প্রশাসনের মধ্যে এমন কোন বিরোধ হয়নি যে কারণে দলের মধ্যে এ নিয়ে খুব একটা প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

“দল ও দলের বাইরে কারও মধ্যে হয়তো কৌতূহল আছে যে কী হচ্ছে। প্রতিটি নির্বাচনের আগেই এমন কিছু বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এগুলো দেখতে দেখতে অভ্যস্ত এদেশের মানুষ। কিছুদিন পরেই দেখবেন সবাই নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত কার্যত আওয়ামী লীগ সরকারকে চাপে ফেলেছে বলে অনেকে যে মনে করেন সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ অনেক নেতাই একমত নন।

কাজী জাফর উল্লাহ দাবি করেছেন, “আওয়ামী লীগে এমন কেউ নেই যিনি এটাকে চাপ মনে করেন। এগুলো তাদের কিছু নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বিশ্বের সব দেশই এ ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাখে। এগুলো এখন সবাই জানে”।

প্রধানমন্ত্রী ও নেতাদের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি প্রয়োগের ঘোষণার পর শুক্রবার রাতেই ঢাকায় এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

তিনি বলেন, "নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া ব্যক্তিদের সংখ্যা খুব একটা বড় নয় এমন ধারণাই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন থেকে দেয়া হয়েছে"।

তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তারা কথা বলবেন বলেও জানান।

মি. আলম বলেন যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তারা (আওয়ামী লীগ) আশা করছেন সেটা সঠিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই নেওয়া হয়েছে।

“আমাদের সরকারের কেউ এটার আওতায় পড়লে আমরা এটা জানব। এতে সরকারের কাজে সমস্যা তৈরি হলে, পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসনের সাথে আমরা কথা বলব। এর আগেও, অন্তত তিনজনের বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। আমরা (সমাধানে) সাকসেসফুল হয়েছি”।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ পদক্ষেপের বিষয়ে যথারীতি কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই।

জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি বাংলাদেশের বাইরে থেকে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে এ দেশের জনগণ ওই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেবে ।

তিনি বলেন, "কে নিষেধাজ্ঞা দিল আর কে দিল না, তাতে কিছু যায়-আসে না।"

“আমার ছেলেও এখানে (যুক্তরাষ্ট্র) আছে। সে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, বিয়ে করেছে, তার মেয়ে আছে, সম্পত্তি আছে, বাড়িঘর আছে। যদি বাতিল করে, করবে। তাতে কিছু আসে-যায় না। আমাদের বাংলাদেশ তো আছেই।’

তবে 'ভিসা নীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে টার্গেট করলে কিছু বলার নেই' এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

ভিসা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি।

ছবির উৎস, US STATE DEPARTMENT

ছবির ক্যাপশান, ভিসা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতি।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা যে ধারণা দিচ্ছেন সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মূলত সারাদেশের নেতাকর্মী ছাড়াও প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের সাহস যোগানোর চেষ্টা করেছেন।

এজন্যই তিনি তার ছেলের প্রসঙ্গ উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে মনে করছেন নেতাদের কেউ কেউ।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় কী ছিলো

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে শুক্রবার যে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, তাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি কিছু নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞপ্তিতে কারও নাম ছিলো না।

সেখানে বলা হয়েছিলো, যাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেয়া হয়েছে তারা বাংলাদেশের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিচারবিভাগের সদস্য এবং নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য।

যাদের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে সেসব ব্যক্তি তা তাদের পরিবারের সদস্যরা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সেখানে আরো বলা হয়, ভবিষ্যতে আরো কোন ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ণ করা বা এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে তারাও একই ভিসা নীতির আওতায় পড়তে পারেন।

ঘোষণা পরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে আলোচনার ঝড় তোলে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলো ব্যাপক প্রচার শুরু করে যাতে ধারণা দেয়ার চেষ্টা ছিলো যে সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ অবশ্য বলছেন, তাদের দলের খুব বেশি লোক আমেরিকা ইউরোপে আসা যাওয়া করে না।

তাই এটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে জেলা পর্যায়ের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা নিজেদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন ‘আমেরিকা শক্তিশালী দেশ। তারা ঠিক কতটা যাবে কিংবা তারা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করছে কি-না’ তা পরিষ্কার হওয়া দরকার দ্রুত।

সহিংসতার দৃশ্য।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নির্বাচন নিয়ে প্রচণ্ড মতবিরোধী আছে বাংলাদেশের সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে।

দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন অবশ্য বলছেন যে প্রধানমন্ত্রী শক্ত ভাষায় কথা বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তার সরকারকে ‘চাপ দিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে দুর্বল করে নির্বাচন নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারবে না”।

“আমাদের নেতাকর্মীরা জানেন যে শেখ হাসিনা অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াবেন না। নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়ে যাবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ওদিকে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় ফিরে শনিবার বিষয়টি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন- যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা ভিসা নীতির পরোয়া আওয়ামী লীগ করে না।

অর্থাৎ প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির বিষয়টিকে কোনও গুরুত্বই দিতে রাজী নন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

বরং তারা নেতাকর্মীদের এমন ধারণা দিতে চাইছেন যে এটি যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাবই ফেলবে না।

দলের একজন নেতা জানিয়েছেন ইতোমধ্যেই দলের এমপি ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে- যাতে করে রাজনৈতিক আলোচনায় নির্বাচনী আবহ চলে আসে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর আরেকজন সদস্য আবদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন জনমনে কোন সংশয়, ভীতি কিংবা নেতিবাচক ধারণা যাতে কোন গোষ্ঠী তৈরি করতে না পারে সেজন্যই নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তারা।