আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
জনসভা পিছিয়ে দেয়া বিএনপির নমনীয়তা নাকি কৌশল
- Author, রাকিব হাসনাত
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপিকে ঢাকার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এর আগে দলটি বৃহস্পতিবার জনসভা করতে চাইলেও জনদুর্ভোগকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
এরপর বুধবার রাতেই দলটি তাদের জনসভা একদিন পিছিয়ে শুক্রবার ছুটির দিনে আয়োজনের ঘোষণা দেয়।
বিএনপির এ ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনও তাদের জনসভাও পিছিয়ে ওই একই দিনে করার ঘোষণা দিয়েছে এবং সমাবেশ স্থলও আগারওগাঁওয়ের পরিবর্তে বায়তুল মোকাররম নির্ধারণ করেছে তারা।
এর আগে বিএনপি প্রথমে বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করলেও পুলিশ জনদুর্ভোগের যুক্তি দেখিয়ে তাদের অনুমতি না দিয়ে জনসভার বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দেয়।
কিন্তু নয়াপল্টনেই জনসভা করতে অনড় দলটি বিকল্প স্থানের পরিবর্তে নয়াপল্টনকেই ভেন্যু রেখে জনসভাটি শুক্রবারে পিছিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে জনসভা হওয়ার কথা ছিলো ২৪শে জুলাই। বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণার পর তারাও সেটি পরিবর্তন করে বৃহস্পতিবারে করার ঘোষণা দেয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠে।
কিন্তু বিএনপি আবার জনসভা শুক্রবারে নেয়ার পর আওয়ামী লীগও শুক্রবারে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে আগারগাঁওয়ের পরিবর্তে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটকে নতুন ভেন্যু ঘোষণা দেয়।
ঢাকার পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন দলগুলোর সমাবেশের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা উভয় দলকেই সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। তবে দল দুটিকে তাদের জন্য বেধে দেয়া চৌহদ্দির মধ্যে থেকেই কর্মসূচি পালন করতে হবে।
একই সঙ্গে সমাবেশ থেকে 'রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো বক্তব্য দেয়া যাবেনা'সহ তেইশটি শর্ত উভয় দলকে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
“নাইটিংগেল মোড় থেকে পুলিশ হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত সব কিছু সীমাবদ্ধ রাখতে হবে বিএনপিকে। আর আওয়ামী লীগ মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে মুক্তাঙ্গন পর্যন্ত সমাবেশ ও মাইকিং সীমাবদ্ধ রাখতে পারবে। কেউ লাঠিসোঁটা আনতে পারবে না। রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য দেয়া যাবে না,” সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন ডিএমপি কমিশনার।
প্রসঙ্গত, বিএনপি সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে। যদিও আওয়ামী লীগ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
বিএনপির সভা পেছানো কি নমনীয়তা, নাকি কৌশল?
ঢাকায় বৃহস্পতিবার বিএনপির জনসভার কর্মসূচি দেয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনও ওই একই দিন পাল্টা সমাবেশ দেয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গন কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার অফিস, আদালত, ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- সব কিছু খোলা থাকে। সেই দিন সমাবেশ হলে এমনিতেই শহর অচল হয়ে পড়ার আশংকা থাকে এবং এতে জনদুর্ভোগ তৈরি হবে - পুলিশের দিক থেকে একথা বলার পর বিএনপি নেতারা বিকল্প চিন্তা শুরু করেন বলে দলীয় নেতারা আভাস দিয়েছেন।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগও ওই একই দিন সমাবেশ দেয়ায় বিএনপি নেতারা বিবেচনায় নেন যে তারা সমাবেশ পিছিয়ে শুক্রবার ছুটির দিনে নিয়ে গেলে জনদুর্ভোগের দায় যেমন তাদের হবে না তেমনি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কোনো ধরণের সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার আশংকাও থাকবে না।
দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অবশ্য বলেছেন যে এখানে নমনীয়তার কিছু নেই বরং তারা জনদুর্ভোগ এড়াতেই জনসভা শুক্রবারে সরিয়ে নিয়েছেন।
"এতে অন্য কোন বিষয় নেই। পুলিশ বলেছে ওয়ার্কিং ডে-তে জনসভা করলে জনদুর্ভোগ হবে । আমরাও দেখলাম মানুষের দুর্ভোগ হতে পারে। তাই ছুটির দিনে জনসভার ঘোষণা দিয়েছি যাতে করে সর্বস্তরের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।
যদিও দলের একাধিক নেতা বলেছেন সরকারি দল পাল্টা সমাবেশ আহবান করার পর থেকেই সতর্ক হয়ে ওঠেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
পুলিশের দিক থেকেও বিএনপিকে নয়াপল্টনের পরিবর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। যদিও বিএনপি তাতে সায় দেয়নি।
এর আগে গত ডিসেম্বরেও এই নয়াপল্টনে সমাবেশকে ঘিরেই ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিলো ঢাকায়। তবে বিএনপি গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশ করতে বাধ্য হয়েছিলো।
কিন্তু এবার ভেন্যু নিয়ে কোনো সমঝোতায় যেতে রাজী না হয়ে মূলত ‘জনদুর্ভোগ’ ইস্যুটিকে সামনে এনে তা এড়াতে শুক্রবারে ছুটির দিনে জনসভা পিছিয়ে নিয়ে যায়।
বিএনপি নেতাদের ধারণা ছিলো এর ফলে তাদের সমাবেশ ঘিরে জনমনে যেমন নেতিবাচক ধারণার সুযোগ থাকবে না - তেমনি ক্ষমতাসীনদের সাথেও তাদের কোনো সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকবে না।
যদিও বৃহস্পতিবার সকালেই আওয়াম লীগের তিন সহযোগী সংগঠন জানায় তারা শুক্রবারের সমাবেশ আগারগাঁওয়ের পরিবর্তে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটে আয়োজন করবে। যদিও আগারগাঁওয়ে সমাবেশের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করা হয়েছিলো।
রুহুল কবীর রিজভী বলছেন, তাদের ধারণা সরকার উস্কানি দিতে বা বিএনপিকে কোনো ফাঁদে ফেলতে চাইছে এভাবে পাল্টা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।
কেন বিএনপিকে অনুসরণ করছে আওয়ামী লীগ
আওয়ামী লীগের যে তিন সহযোগী সংগঠন শুক্রবারে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে তারা হলো যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্র লীগ।
অথচ বুধবারই তারা আগারগাঁওয়ে বাণিজ্য মেলার মাঠে সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলো।
আবার এর আগে এ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিলো ২৪শে জুলাই। সেটিও ২৭শে জুলাই নিয়ে আসা হয় বিএনপি ২৭শে জুলাই জনসভার কর্মসূচি দেয়ার পর।
এখন আবার বিএনপি শুক্রবারে নেয়ার পর আওয়ামী লীগের কর্মসূচিও শুক্রবারে নেয়া হলো - তাও আবার নয়াপল্টনের কাছেই।
ফলে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনগুলো কেন বিএনপির সমাবেশের আশেপাশে থাকতে চাইছে, বা তারা বিএনপিকে 'পাহারা দেয়ার' চেষ্টা করছে কি -না।
জবাবে যুবলীগের খান মাইনুল হোসেন নিখিল বিবিসি বাংলাকে বলছেন যে বিএনপি যদি কোনো অরাজকতা করার চেষ্টা করে তাহলে তারা চুপ থাকবেন না।
“আমরা বায়তুল মোকাররমেই আগে করতে চেয়েছিলাম । পুরে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আগারগাঁওয়ে নিয়েছিলাম কিন্তু সেখানকার মাঠ জনসভার উপযুক্ত নয়। তবে বিএনপির কর্মসূচি মানেই হলো নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্র। আমরা তো দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে চুপ থাকতে পারি না,” - বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।
যদিও আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে আগারগাঁওয়ে জনসভার ক্ষেত্রে এসএসএফ এর দিক থেকে বাধা এসেছে। কারণ ওই দিন বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির অনুষ্ঠান আছে।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন শুক্রবার তাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারায় থাকবে - যাতে করে কেউ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটাতে পারে।
“আগারগাঁওয়ে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমরা জনসভা করতে পারছি না মাঠের অবস্থা আর এসএসএফের অনুরোধের কারণে। আর তিনটি সংগঠনের সমাবেশ একটু বড় পরিসরে করার জন্যই বায়তুল মোকাররমকে চূড়ান্ত করা হয়েছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।
কিন্তু বিএনপির সমাবেশের দিন সমাবেশ ডেকে এবং তাদের ভেন্যুর কাছেই পাল্টা কর্মসূচি কেন আওয়ামী লীগকে দিতে হচ্ছে – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ঐতিহ্য আছে এবং তারা যে কোনো সময় যে কোন কিছু ঘটাতে পারে। সে কারণে বিএনপির অপকৌশলের বিরুদ্ধে আমরা সতর্ক পাহারায় থাকবো”।
তিনি বলেন তারা যথাযথ চেষ্টা করবেন যে বিশৃঙ্খলা মোকাবেলার । তবে এটি করবেন তারা শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক পন্থায়।