আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মোহাম্মদ শামি কীভাবে বল হাতে ব্যাটারদের ওপর চড়াও হন?
এখনো পর্যন্ত এ বিশ্বকাপে দুইটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ভারতের ফাস্ট বোলার মোহাম্মাদ শামি, নিয়েছেন নয় উইকেট। ক্যারিয়ারে ১৩টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে মোট ৪০ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
তার সবচেয়ে বড় কীর্তি, বিশ্বকাপে মোট ১৩ ম্যাচে শামি ছয়বার চার উইকেট করে নিয়েছেন।
শামির অবিশ্বাস্য রেকর্ড এবারের বিশ্বকাপে আরও অবিশ্বাস্য হয়ে উঠছে, যখন দেখা যাচ্ছে তিনি দলের মূল একাদশে থাকছেন না।
কিন্তু সুযোগ পেয়েই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ উইনিং স্পেল করে শামি দলে নিজের জায়গা পাঁকা করেছেন বলেই মনে হচ্ছে।
জনপ্রিয় ক্যারিবিয়ান ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ মনে করেন, 'শামি চোখের জন্য তৃপ্তিদায়ক'।
তিনি বলছেন, "এই যুগে ক্রস সিম ও আড়াআড়ি সিমের ব্যবহারই বেশি, সেখানে সামির সোজা সিমের বল অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসে।"
সিমের ব্যবহার ফাস্ট বোলারদের আরও বেশি প্রভাবশালী করে তোল্যে, কে কত ভালো সিম ব্যবহার করতে পারেন - তার ওপর নির্ভর করে কে সুইং কতটা আদায় করতে পারবেন।
শামি গত রাতে লক্ষ্ণৌতে ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের ওপর রীতিমতো কর্তৃত্ব চালিয়ে খেলেছেন।
চারটা উইকেটের তিনটাই ছিল বোল্ড উইকেট - এর মধ্যে তার শিকার ছিলেন জনি বেয়ারস্টো, বেনো স্টোকসের মতো খেলোয়াড়।
মোহাম্মদ শামি বেন স্টোকসকে যে স্পেল করে নাস্তানাবুদ করেন তা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে।
এবারের বিশ্বকাপের সেরা স্পেল বলা হচ্ছে এটিকেই, শামির বলের সামনে স্টোকসকে মনে হচ্ছিল অসহায়।
মাত্র একটি বল কোনভাবে ব্যাটে কানেক্ট করতে পারেন বেন স্টোকস, বাকি বল গুলো ছিল ব্যাটার থেকে দূরে সরে যাওয়া আউট সুইং।
যে বলটায় শামি বোল্ড করেন সেটা তিনি স্ট্যাম্পের দিকে টেনে আনেন, অনেকটা ফাঁদ পেতেই যেন স্টোকসের উইকেট নিয়েছেন শামি।
জনপ্রিয় ক্রিকেট উপস্থাপক হারশা ভোগলের মতে, "ভারতের বোলিং এখন তাদের ইতিহাসের সেরা সময় কাটাচ্ছে।"
স্পোর্টসের আলোচনা অনুষ্ঠান 'দ্য প্যাভিলিয়নে' পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মঈন খান বলেন, "ব্যাটিংয়ে যেমন পার্টনারশিপ গুরুত্বপূর্ণ, বোলিং-এও তাই। বুমরাহ আর শামি দুইজন নিজেদের পূর্ণ করে তোলেন।"
তিনি বলেন, "এক প্রান্ত থেকে বোলার চাপ তৈরি করলে অন্য প্রান্ত উইকেট পাওয়া শুরু করে, ভারতের বোলিং কোয়ালিটি ছিল অসম্ভব ভালো, এই উইকেটে কীভাবে বল করতে হয় সেটা ভারতের বোলাররা জানেন।"
পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম বলেন, "আসল ব্যাপার হচ্ছে শামির সিমের কাজ, তিনি লেন্থও বোঝেন ঠিক কোথায় বল ফেলতে হবে"।
পাকিস্তানের আরেক সাবেক অধিনায়ক ও কোচ মিসবাহ উল হক বলেন, "শামির বল দেখে ওয়াসিম ভাইয়ের কথাই মনে হলো, পিচে বল পড়ার পরে গতি বেড়ে যায়। সিমের মুভমেন্ট তখন আপনি না বুঝতে পারলে এমনই হবে।"
ইংল্যান্ডের দৈন্যদশা কেন?
ইংল্যান্ড ২০১৬ সাল থেকে যে ক্রিকেট খেলছে তার সাথে এই ইংল্যান্ডকে অনেকেই মেলাতে পারছেন না।
এই প্রথম ইংল্যান্ড পুরুষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে হারের মুখ দেখলো।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড টানা তিন ওয়ানডেতে ১৭০, ১৫৬ ও ১২৯ রানে অলআউট হয়ে গেল।
ইংল্যান্ডের একাদশে ছয়জন বোল্ড আউট হয়েছেন গতরাতে।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন ক্রিকবাজের বিশ্লেষণে বলেছেন, "এটা হতাশাজনক! এই দলটাকে কেন্দ্র করেই ইংল্যান্ড সাদা বলের ক্রিকেটে ভালো একটা পরিচিতি পেয়েছে। এখন হুট করে এই অবস্থা।"
এর আগে ২০১৬ সালে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে, ২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড, এবং ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ড।
মাইকেল ভনের মতে, এই ক্রিকেটাররা ইংল্যান্ডকে দারুণ কিছু দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, "এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবাই বলছিল এরা সেমিফাইনাল খেলবে। এখন ইংল্যান্ড হারছে এটা সমস্যা না, কিন্তু তারা প্রতিযোগিতায় করতে পারছে না"।
এই ক্রিকেটারদের অনেকেরই সময় হয়ে গেছে বলে মনে করেন ভন, ৫০ ওভারের ক্রিকেটের জন্য একটা নতুন দল গঠন করতে হবে এখন।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার জহির খান মনে করেন কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে ইংল্যান্ডকে, ২০১৫ সালেও নিয়েছিল ইংল্যান্ড, হয়তো সেই দলের কেউ কেউ আরও দুই এক বছর খেলতেই পারতেন।
জহির খান বলেন, "আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলবেন, এটা ঠিক করে ফেললে আর সমস্যা হওয়ার কথা না"।
মাইকেল ভন ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "ইংল্যান্ডের ক্রিকেট কাঠামো বিশ্বের অন্যতম সেরা, এখান থেকেই ক্রিকেটার উঠে আসছে, এরাই আমাদের বিশ্বকাপ জিতিয়েছে ১৯ এ, এবার আমরা পারলাম না, এইটাই পার্থক্য।"
তবে গতরাতের শোচনীয় পরাজয়ের পর মিসবাহ উল হক বলেন, "ইংল্যান্ড পরিবেশ ও প্রতিপক্ষকে আরেকটু সম্মান দেখালে এই পরিস্থিতি হতো না হয়তো।"
"আপনি জানেন আপনার টার্গেট ২৩০ রান, আপনি কিছুক্ষণ উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকেন এতে কিন্তু চাপ কমে আসে"।
আফগানিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কা
আজ মুখোমুখি হচ্ছে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা, পুনের মাঠে এই ম্যাচ দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ কারণ দুই দলের জন্যই সেমিফাইনাল এখনও পর্যন্ত খুবই সম্ভব।
শ্রীলঙ্কা আছে পাঁচ নম্বরে ও আফগানিস্তান ৭ নম্বরে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর শ্রীলঙ্কা দলের মানসিক অবস্থা চাঙ্গা হয়েছে, ইনজুরি বিঘ্নিত শ্রীলঙ্কা স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন দুশ্মন্থ চামিরা।
ওদিকে আফগানিস্তান ছয়দিনের বিশ্রাম নিয়ে আজ খেলতে নামছে।