আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
ইউরোপীয় সংসদে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে আদালতে চার অভিযুক্ত
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দায়িত্বপালনের সময় দুর্নীতির অপরাধে অভিযুক্ত চার ব্যক্তিকে ব্রাসেলসের এক আদালতে হাজির করা হয়েছে।
এদের মধ্যে রয়েছেন ইইউ পার্লামেন্টের গ্রিক সদস্য বা এমইপি ইভা কাইলি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজনৈতিক সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে তিনি বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ কাতার থেকে এক লাখ ডলারেরও বেশি ঘুষ নিয়েছেন।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, বেলজিয়ামের রাজধানীর আশেপাশের বিভিন্ন সম্পত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে তারা দেড় মিলিয়ন ইউরোরও বেশি অর্থ জব্দ করেছেন।
তবে ইভা কাইলি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কাতার কোনও অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ১৪ জন ভাইস-প্রেসিডেন্টের একজন হলে ইভা কাইলি। এই অভিযোগ ওঠার পর এমইপিরা মিজ কাইলিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিজ কাইলির দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্য।
গত মাসে যখন তার সহকর্মীরা কাতারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, তখন তিনি সংসদে একটি জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য এবং "শ্রমিক অধিকারে অগ্রগামী" ভূমিকা রাখার জন্য কাতারের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
সংসদের নেতা রবার্টা মেটসোলা এই ঘটনাকে "ইউরোপীয় গণতন্ত্রের জন্য এক কঠিন দিন" বলে মন্তব্য করেছেন।
যেভাবে তদন্ত চলেছে
সরকারি কৌঁসুলিরা গত ক’দিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছে এবং জানিয়েছেন যে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়িতে প্রায় ছয় লক্ষ নগদ ইউরো পাওয়া গেছে, একজন এমইপির ফ্ল্যাট থেকে ১,৫০,০০০ ইউরো এবং ব্রাসেলসের এক হোটেলের রুম থেকে একটি সুটকেস ভর্তি ৭,৫০,০০০ ইউরো উদ্ধার করা হয়েছে।
বেলজিয়ামের পুলিশ মঙ্গলবার একটি ছবি প্রকাশ করেছে যেখানে ইউরোর বিভিন্ন নোটের স্তূপ দেখা যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, মিজ কাইলির ফ্ল্যাট থেকে নগদ দেড় লক্ষ ইউরো উদ্ধার করা হয়েছে। এটা সত্য কিনা জানতে চাইলে তার আইনজীবী বলেন: "কোন অর্থ পাওয়া গেছে কিনা বা কত পাওয়া গেছে তা আমার জানা নেই।"
এসব অভিযোগ ইউরোপীয় পার্লামেন্টে লবি গ্রুপগুলোর ভূমিকার ওপর কালো ছায়া ফেলেছে।
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:
কাতারিদের জন্য ইউরোপীয় অঞ্চলে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের অনুমতি দেয়ার একটি প্রস্তাবের ওপর চলতি সপ্তাহে এমইপিদের ভোট নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তা বাতিল করা হয়েছে।
ইতালির পাশাপাশি ব্রাসেলসেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। শুক্রবার থেকে ১০ জন সংসদীয় কর্মচারীর তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত জিনিসপত্র ‘জব্দ’ করা হয়েছে যাতে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা কেউ বিনষ্ট করতে না পারে।
স্ট্রাসবার্গের সংসদ ভবনে মিজ কাইলির অফিসের দরজা "প্রবেশ নিষিদ্ধ" লেখা একটি নোটিশ দিয়ে সিল করে দেয়া হয়েছিল।
তাকে পার্লামেন্টের সোশ্যালিস্ট অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস গ্রুপ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং গ্রীক মধ্য-বাম দল পাসোক পার্টিও থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গ্রীক কর্তৃপক্ষ তার, তার স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সম্পত্তিও জব্দ করেছে।
কাতার প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে ইইউ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছে এমন অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ছ’ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর দু’জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।
অভিযুক্ত অন্য তিন জনের সবাই ইতালির নাগরিক। মিজ কাইলির জীবনসঙ্গী ফ্রান্সেস্কো গিওরগে, যিনি নিজে একজন সংসদীয় সহকারী, অভিযুক্তদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন।
প্রাক্তন এমইপি পিয়ের আন্তোনিও প্যাঞ্জেরি, যিনি এখন মানবাধিকার গ্রুপ “ফাইট ইমিউনিটি” পরিচালনা করছেন, তিনিও চার অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছেন বলে সূত্রগুলো বলছে। তার স্ত্রী ও মেয়েকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মি. গিওরগে এর আগে মি. প্যাঞ্জেরির পক্ষে সংসদীয় সহকারী হিসাবে কাজ করেছিলেন।
ইতালির বার্তা সংস্থা আনসা খবর দিয়েছে, অন্য সন্দেহভাজন হলেন নিকোলো ফিগা-তালামানকা। তিনি লবি গ্রুপ “নো পিস উইদাউট জাস্টিস” পরিচালনা করেন।
বিবিসির ব্রাসেলস সংবাদদাতা জেসিকা পার্কার জানাচ্ছেন, বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ গত ক’দিনে তদন্তের যে বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেছে তাতে সবাই হা হয়ে গিয়েছে।
বিবিসির ঐ সংবাদদাতার সাথে যেসব এমইপি কথা বলেছেন, তারা এসব অভিযোগের মাত্রা এবং কঠোরতা - উভয় দেখেই হতবাক হয়েছেন।
ইউরোপীয় সংসদ ইইউ-এর একমাত্র সরাসরি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান। ইইউ গঠিত হয়েছে ২৭টি দেশের ভোটারদের দ্বারা নির্বাচিত প্রায় ৭০৫ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে। প্রস্তাবিত আইন যাচাই করা এবং ইউরোপীয় আইনের মাধ্যমে ভোট দেয়া এদের দায়িত্ব।
তবে এমইপিরা এমনিতে সাধারণ বিচার প্রক্রিয়া থেকে রেয়াত পেয়ে থাকেন। তবে যেখানে "কোন সদস্যকে অপরাধে যুক্ত পাওয়া যায়" সেখানে বিচার থেকে তাদের রেহাই নেই বলে সংসদ জানাচ্ছে।