শ্রীলংকা-বাংলাদেশ ম্যাচে যে বিষয়গুলো আলোচনায়

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, ফয়সাল তিতুমীর
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
বাংলাদেশের এশিয়া কাপ মিশন শুরু হচ্ছে আজ। টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক শ্রীলংকার সঙ্গে খেলাটি শুরু হবে বিকাল সাড়ে তিনটায়। আর এই ম্যাচের আগে ঘুরে ফিরেই আসছে সাম্প্রতিক সময়ে দুদলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনের একটা বড় অংশজুড়ে শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের অধিনায়ক দাসুন শানাকা ও সাকিব আল হাসানকে কথা বলতে হয়েছে এ প্রসঙ্গে।
এর বাইরেও শ্রীলংকার পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে আজ দুদলই খেলতে নামবে ক্রিকেটারদের ইনজুরি ও বেশকিছু বিষয় মাথায় নিয়ে।
‘নাগিন ডার্বি’
গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা মুখোমুখি হলেই ঘুরেফিরে আসে ‘নাগিন ডান্স’ প্রসঙ্গ। এবারও এশিয়া কাপে এ দুদলের লড়াইকে কেউ কেউ বলছেন ‘নাগিন ডার্বি’।
এর শুরুটা ২০১৮ সাল থেকে। সেবার বিপিএলে পারফরম্যান্স দিয়ে এবং উইকেট পাবার পর সাপের ভঙ্গিমায় বিশেষ উদযাপন করে নজর কাড়েন স্পিনার নাজমুল হোসেন অপু। যে উদযাপন তাকে একই বছর শ্রীলংকার সঙ্গে ম্যাচে করতে দেখা যায়।
এক পর্যায়ে বাংলাদেশের বিপক্ষেও পাল্টা একই রকম উদযাপন করতে দেখা যায় শ্রীলংকার ক্রিকেটারদের।

ছবির উৎস, Getty Images
সেই সঙ্গে মাঠের লড়াইও ছড়ায় নানা উত্তেজনা। ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে যা তুঙ্গে ওঠে যখন শ্রীলংকাকে ১ বল বাকি থাকতে ২ উইকেট হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে দু’দল মুখোমুখি হয়েছে মোট ৫১ বার। যেখানে শ্রীলংকার ৪০ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৯টি। কিন্তু এর মধ্যে চারটি জয় এসেছে সর্বশেষ মুখোমুখি হওয়া ১০ ম্যাচ থেকে এবং এগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে গত পাঁচ বছরে।
২০২১ সালে দুদলের মধ্যকার সবশেষ সিরিজেও জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। দু’বছরের বেশি সময় পর আবারো ওয়ানডেতে মুখোমুখি হচ্ছে দু’দল। যেখানে জয় দিয়ে নিজেদের এশিয়া কাপ মিশন শুরু করতে মুখিয়ে দুটি দলই।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post
যদিও সমস্ত উত্তাপ একপাশে রেখে শুধু মাঠের খেলায় মনোযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন দুদলের অধিনায়ক।
“আমাদের দুই দলের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। বাইরের শব্দ আমরা বন্ধ করতে পারবো না, কিন্তু আমাদের একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা আছে।” – বলেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা।
আর দুদলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, “এটাকে ঠিক বাড়তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলবো না, আমরা দুদল যখনই মুখোমুখি হই খুব ভালো ক্রিকেট খেলি। এটা তো দর্শক, ব্রডকাস্টার সবার জন্যই ভালো।”

ছবির উৎস, Getty Images
দু’দলের মিসিং ক্রিকেটার
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বিশ্বকাপের আগ দিয়ে এশিয়া কাপ দুই দলের জন্যই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই টুর্নামেন্টে দু'দলকেই মাঠে নামতে হচ্ছে তাদের একাদশের প্রধান কিছু ক্রিকেটার ছাড়াই। ইনজুরি ও অসুস্থতা আঘাত হেনেছে দুই শিবিরেই।
আঘাতটা শ্রীলংকার দিকেই বেশি। এশিয়া কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বকাপ কোয়ালিফার জিতে আসা শ্রীলংকান স্কোয়াডে নেই দলের চার গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার।
পেসার লাহিরু কুমারা, দুষ্মন্ত চামিরা ও দিলশান মাদুশানাকা দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ বোলার, তিনজনই ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন।
তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার না থাকাটা। থাই ইনজুরির জন্য তাকে খেলানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে তার জায়গায় বড় ভরসার নাম আরেক স্পিনার মহেশ থিকসানা।
এছাড়া লেগ স্পিনার দুশন হেমন্ত ও আরেক বাঁহাতি স্পিনার দুনিথ ওয়েলালাগের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করবে দল।
এছাড়া কোভিডের কারণে অনিশ্চিত ব্যাটসম্যান কুশল পেরারার খেলাও। তবে দারুণ ফর্মে আছেন ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা। সেই সাথে বাংলাদেশের চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারেন আসালঙ্কা ও কারুনারত্নে।

ছবির উৎস, Getty Images
অন্যদিকে শেষ মূহুর্তে অসুস্থতার জন্য বাংলাদেশ হারিয়েছে ওপেনিংয়ে দলের অন্যতম বড় ভরসা লিটন দাসকে। তার জায়গায় ডাক পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়।
তবে ইনজুরিতে আগে থেকেই তামিম ইকবাল না থাকায় ওপেনিং নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। সেক্ষেত্রে বেশ কিছুদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা নাঈম শেখের সাথে অভিষেক হয়ে যেতে পারে তরুণ তানজীদ হাসান তামিমের।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দলের ধারাবাহিক পারফরমার পেসার এবাদত হোসেনও ইনজুরিতে পড়ায় তাকে ছাড়াই দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
চান্দিকা হাতুরুসিংহে ফ্যাক্টর
দ্বিতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ দলের হেডকোচের দায়িত্ব নেবার পর প্রথমবার শ্রীলংকা সফরে যাচ্ছেন চন্দিকা হাতুরুসিংহে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছেড়ে শ্রীলংকার হেডকোচ নিযুক্ত হন তিনি। এরপর এ বছরের শুরুতে আবারো লাল সবুজের দায়িত্ব নিয়েছেন এই লংকান।
তার অধীনেই ২০১৭ সালে শ্রীলংকার সাথে একমাত্র টেস্ট জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বর্তমান দলের অনেক ক্রিকেটারের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে শ্রীলংকার কন্ডিশন ও মাঠ সম্পর্কে হাতুরুসিংহের জ্ঞান বাংলাদেশকে ম্যাচে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে।
এছাড়া দলের স্পিনিং কোচ রঙ্গনা হেরাথও শ্রীলংকান হওয়ায়, বাড়তি সুবিধা পাওয়ার আশা থাকবে বাংলাদেশের স্পিনারদেরও।

ছবির উৎস, Getty Images
লংকান প্রিমিয়ার লিগের প্রভাব
সদ্য শেষ হওয়া শ্রীলংকান প্রিমিয়ার লিগ বা এলপিএলে খেলেছেন বাংলাদেশের ৪ জন ক্রিকেটার। যাদের তিনজনই আছেন স্কোয়াডে।
এদের মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছেন ব্যাটসম্যান তৌহিদ হৃদয়। তার দল জাফনা কিংসের হয়ে ২য় সর্বোচ্চ রান করেন তিনি। ৬ ম্যাচে তার সংগ্রহ ১৫৫ রান, স্ট্রাইক রেট ১৩৫ এর উপর।
টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হলেও এখানে খেলার অভিজ্ঞতা এখন জাতীয় দলের হয়েও কাজে লাগবে তৌহিদ হৃদয়ের। এই মূহুর্তে দলের অন্যতম ইনফর্ম এই ব্যাটসম্যান খেলবেন চার নম্বরে।
এলপিএলে একই ড্রেসিং রুম শেয়ার করেছেন দুই দলের দুই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও দাসুন শানাকা। গল টাইটান্সে শানাকার নেতৃত্বে প্রায় সবগুলো ম্যাচেই খেলেছেন সাকিব আল হাসান। একই দলে খেলেছিলেন বাংলাদেশের লিটন দাসও।
এছাড়া কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে মাত্র ১ ম্যাচ মাঠে নামার সুযোগ পান পেসার শরীফুল ইসলাম।
তবে এশিয়া কাপের আগে লংকান প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নিশ্চিতভাবেই বাড়তি সুবিধা দেবে এই ক্রিকেটারদের।
বিশেষ করে তৌহিদ হৃদয়, সাকিবরা লংকান স্পিনারদের সামলানোর টোটকা দিতে পারবেন সতীর্থদের। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার অনুপস্থিতিতে যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠে পারেন মহেশ থিকসানা।

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের টিম কম্বিনেশন
বাংলাদেশ দল এখন ওয়ানডেতে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসছে। এশিয়া কাপের এই ফরম্যাটে দুবার ফাইনালও খেলেছে তারা। এছাড়া টি-টোয়েন্টির ফরম্যাটে একবার ফাইনাল খেললেও কখনো শিরোপা জেতা হয়নি দলটার।
এবার সে লক্ষ্য পূরণে দলটির বড় চ্যালেঞ্জ দুটি। যার একটা হল ওপেনিং। যেখানে পরীক্ষিত লিটন-তামিমের অভাব নতুন করে সুযোগ পাওয়া নাঈম শেখ-বিজয়রা কতটা পূরণ করতে পারেন সেটা হবে দেখার। এছাড়া অনুর্ধ্ব ১৯ থেকে উঠে আসা অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা তানজীদ তামিমের দিকেও নজর থাকবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে সাত নম্বর পজিশন। লোয়ার অর্ডারে এই গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে কে ব্যাট করবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। শেখ মাহেদী, শামীম পাটোয়ারি ও আফিফ হোসেন এই তিনজনই আছে তালিকায়।
শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তাই এই সাত নম্বর পজিশনের ক্রিকেটারও খুঁজে পেতে চাইবে বাংলাদেশ।











