মার্চ থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, সমন্বয় হবে তেলের দামও

ছবির উৎস, Getty Images
রোজা এবং একই সাথে গ্রীষ্মকাল আসার আগেই বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সচিবালয়ে এ ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিদ্যুতের দামের বিষয়টি কার্যকর করা হবে। মূলত, ভর্তুকি থেকে ধীরে ধীরে বের হওয়ার জন্যই বিদ্যুতের ‘দাম সমন্বয়’ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে শুধু বিদ্যুৎ নাম, গ্যাসের দামও সমন্বয় করার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তবে সেটি আবাসিক বা শিল্প খাতে এখনি বাড়বে না। যে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, সেটির দাম কিছুটা বাড়বে।
তিনি বলেন, বিশ্ব বাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। আর, বিশ্ব বাজারে দাম কমলে দেশেও গ্যাসের দাম কমে যাবে। এটিও মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জ্বালানি তেলের দামও মার্চের প্রথম সপ্তাহে সমন্বয় হবে।
এখন থেকে ‘ডায়নামিক প্রাইস' নীতি অনুসরণ করা হবে। যখন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে অথবা কমলে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ কিছুদিন পরপর তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
যে কারণে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিবছর শুধুমাত্র বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয় এবং জ্বালানির ক্ষেত্রে দিতে হয় ছয় হাজার কোটি টাকা।
“আগামী কয়েক বছর ধরে আমরা এই দামটা সমন্বয় করবো…বিদ্যুতের ক্ষেত্রে উৎপাদনে অতিরিক্ত খরচ দিতে হচ্ছে, সেখানে সমন্বয় করতে হবে,” বলেন তিনি।
“আগামী বছর আমাদের নিউক্লিয়ার চলে আসবে। ভারত থেকে কম দামে বিদ্যুৎ আসছে। দুই বছরের মাঝে দুই হাজার মেগাওয়াট সোলার এটার সাথে যোগ হবে। কিন্তু তারপরও যে ভর্তুকিটা রয়ে যাবে, তা ডলারের দামের পার্থক্যের কারণে। সেই কারণেই এই দামটা আমাদের সমন্বয় করা দরকার।”
ডলারের দাম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, “আমরা যখন কয়লার পাওয়ার প্লান্টগুলো নিয়ে আসছি, সেই সময়ে ডলারের যে ভ্যালু এবং কয়লার যে দাম ছিলো, তা অনেক পরিবর্তন হয়েছে। প্রতি ডলারে প্রায় ৪০ টাকা পার্থক্য হয়ে গেছে।”

ছবির উৎস, Getty Images
“যখন কয়লা পাওয়ার প্লান্ট ছিলো, তখন ৭০-৮০ টাকা ধরে ডলারের ভ্যালু করছিলাম। এখন আমাদেরকে সরকারিটার ভ্যালু ধরতে হয় ১১০ টাকা। বেসরকারিটা আরও বেশি দাম। সুতরাং, এই যে দামের তারতম্য, এটিকে আমাদের সমন্বয় করতে হবে।”
বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি দাম বেড়ে যাওয়াকে ‘দাম বৃদ্ধি’ না বলে বারবার ‘দাম সমন্বয়’ বলছিলেন প্রতিমন্ত্রী।
“পৃথিবীর সব দেশেই জ্বালানির দামের ওপর বিদ্যুতের দাম ওঠা-নামা করে। সুতরাং, এটার সাথে আমাদের সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া আর কোনও উপায় নাই,” যোগ করেন তিনি।
“আমরা এখন খুবই অল্প পরিমাণে…(বাড়াচ্ছি)। কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট ৩৪ পয়সা এবং উপরের লেভেলের (সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী) জন্য হয়তো ৭০ পয়সা…(বাড়ানো হবে)।”

ছবির উৎস, Getty Images
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লাইফলাইন গ্রাহক আছে প্রায় এক কোটি ৪০ লক্ষ, তারা প্রতি ইউনিটে চার টাকা করে বিল দেয়। উপরের দিকে যারা, তাদের সাত টাকা করে চার্জ হয়। কিন্তু আমাদের গড় উৎপাদন খরচ ১২ টাকা। তাই, সরকারের একটা বড় অংশ এখানে ভর্তুকি হিসেবে যোগ হচ্ছে। এই ভর্তুকির পরিমাণ আরও বেশি বাড়ছে ডলারের দামের পার্থক্যের কারণে।”
একবারে দাম বাড়ালে গ্রাহকরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, তাই বিদ্যুতের দাম ধীরে ধীরে সমন্বয় করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা যদি সময়মতো, আস্তে-আস্তে, ধীরে-ধীরে এটার এডজাস্টমেন্টে না যাই…আমাদের টার্গেট হলো, আমরা আগামী তিন বছর এটিকে সমন্বয় করবো। যাতে সহনীয় পর্যায়ে থেকে সমন্বয় হয়, সেটার একটা ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। প্রাইসিংটাকে আমরা রি-এডজাস্টমেন্ট করতেছি।”
মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিদ্যুতের দামের ক্ষেত্রে সমন্বয় শুরু হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “গ্যাসের দামের এডজাস্টমেন্ট গ্রাহক পর্যায়ে হচ্ছে না, বিদ্যুতের পর্যায়ে হচ্ছে। অর্থাৎ আবাসিক খাতেও গ্যাস ব্যবহারে দাম বাড়ছে না, ইন্ডাস্ট্রিতেও হচ্ছে না…বিদ্যুতের গ্যাসের দাম ৭৫ পয়সা বাড়বে।”











