স্ত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স

ছবির উৎস, Jonathan Ernst-Pool/Getty Images
আরো একবার খবরের শিরোনামে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। স্ত্রী ঊষা ভান্স এবং খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার্লি কার্কের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন মি. ভান্স। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির পাশাপাশি এবং খ্রিস্টান মূল্যবোধ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মি. ভান্স। তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কেও কথা বলেছিলেন তিনি।
তারপরই সেখানে উপস্থিত এক নারী জেডি ভান্সকে তার আন্তঃধর্মীয় পরিবার এবং সেখানে কীভাবে তার সন্তানরা বেড়ে উঠছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে জেডি ভান্স বলেন, তার সন্তানরা খ্রিস্টান ধর্ম অনুসরণ করেই বেড়ে উঠছে।
তার সঙ্গে ঊষা ভান্সের প্রথম পরিচয় হয়েছিল তখন দু'জনেই 'অ্যাগ্নোইস্ট' (অজ্ঞেয়বাদে বিশ্বাসী) বা 'এথেইস্ট' (নাস্তিক) ছিলেন। কিন্তু এখন জেডি ভান্স গির্জায় যান, স্ত্রীও সঙ্গে থাকেন এবং তিনি আশা করেন, খ্রিস্টধর্ম তাকে যেভাবে প্রভাবিত করেছে তা ঊষা ভান্সকেও কোনোদিন সেই একইভাবে প্রভাবিত করবে।
প্রসঙ্গত, ঊষা ভান্স চিলুকুরি ভারতীয় বংশোদ্ভূত। হিন্দু পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে মি. ভান্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি বলেছেন, তার স্ত্রী ঊষা ভান্স "খ্রিস্টান নন এবং তার ধর্ম পরিবর্তন করার কোনো ইচ্ছা নেই।"
প্রসঙ্গত, এর আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় মি. ভান্সকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "খ্রিস্টান মূল্যবোধ এই দেশের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এমনটা বললে ভুল হবে বলে আমি মনে করি না"।
"যদি কেউ এটা বলে যে তার নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তাহলে সম্ভবত তার আপনাকে কিছু একটা বিক্রি করার এজেন্ডা রয়েছে। আমি অন্তত সততার সঙ্গে এটা স্বীকার করি নিই যে আমি বিশ্বাস করি খ্রিস্টান মূল্যবোধ এদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি"।
এর কিছুক্ষণ পরই ওই নারী মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন।
এদিকে, মি. ভান্সের মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এই নিয়ে ভারতেও প্রতিক্রিয়া মিলেছে।
এই প্রসঙ্গে তার পুরোনো মন্তব্য নিয়েও আলোচনা হচ্ছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন বাইরে না থাকলে তিনি প্রতি রোববার গির্জায় যান এবং সে সময় তার স্ত্রীর (যিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী) জন্য খারাপ লাগে।

ছবির উৎস, FOX
ভান্স কী বলেছিলেন?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ওই অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বের যে নারী জেডি ভান্সকে উদ্দেশ্য করে একের পর প্রশ্ন করে চলেছিলেন, তার নিশানায় মূলত ছিল ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি। শুরুতেই ওই মঞ্চেই যুক্তরাষ্ট্র এবং খিস্টান ধর্ম সম্পর্কে ভান্সের মন্তব্যকে ঘিরে প্রশ্ন করেন।
ওই নারী উল্লেখ করেন, ঊষা ভান্স হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং মি. ভান্স খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী। পরিবারের আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃবর্ণ (ইন্টাররেসিয়াল) প্রেক্ষাপটে কীভাবে মি. ভান্স তাদের তিন সন্তানকে বড় করছেন।
ওই নারীর কথায়, "আমি আগে জানতাম না, উইকিপিডিয়াতে পড়লাম আপনার স্ত্রী হিন্দু। আপনার স্ত্রী এখনো নিজেকে হিন্দু বলে দাবি করেন। আন্তঃধর্মীয়, আন্তঃবর্ণ এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক পরিবারে আপনারা তিন সন্তানকে বড় করছেন"।
বাবা না মা, কার ধর্মকে বাচ্চারা অগ্রাধিকার দেবে, সেই বিষয়ে সন্তানদের কী বলেছেন তিনি, সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন ওই নারী।
পাশাপাশি তিনি জানতে চান, "আপনি সন্তানদের এই বিষয়টা কীভাবে বোঝান যে আপনার পরিবার, মানে তাদের বাবার পরিবার যারা কয়েক দশক আগে এখানে (মার্কিন মুলুকে) এসেছে তারা অন্যরকম, বা আপনারা (ভান্সের পরিবার) তাদের চেয়ে ভালো যারা এক প্রজন্ম আগে এখানে এসেছে (ঊষা ভান্সের অভিভাবক বা তাদের মতো অন্যান্য অভিবাসীদের বোঝাতে)?"
স্পষ্টতই ওই নারীর নিশানায় ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত নীতি।
এর উত্তরে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স জানান, তার দুই বড় সন্তান খ্রিস্টান স্কুলে পড়ে এবং তার বছর আটের ছেলে গত বছর তার প্রথম কমিউনিয়নে অংশ নিয়েছিল।
নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রসঙ্গে মি. ভান্স আরো বলেন, "এখন বেশিরভাগ রোববারেই ঊষা আমার সঙ্গে গির্জায় যায়। আমি তাকে প্রকাশ্যে বলেছি এবং এখন আমি আমার দশ হাজার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সামনেও এটাই বলব যে আমি আশা করি চার্চ আমাকে যেভাবে প্রভাবিত করেছে, ও (ঊষা) সেভাবেই একদিন প্রভাবিত হবে"।
"হ্যাঁ, সত্যি বলতে, আমি সেটাই চাই। কারণ আমি খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাস করি এবং আমি আশা করি আমার স্ত্রীও একই দৃষ্টিভঙ্গি রাখবে। কিন্তু যদি তা না-ও করে তাহলেও কোনো সমস্যা নেই, কারণ ঈশ্বর বলেছেন যে প্রত্যেকেরই নিজস্ব ইচ্ছা রয়েছে"।

ছবির উৎস, Franco Origlia/Getty Images
ওই মঞ্চ থেকেই মি. ভান্স জানিয়েছেন, তার স্ত্রী ঊষা ভান্স হিন্দু পরিবারে বড় হয়েছেন বটে, তবে তার (ঊষা চিলুকুরির) পরিবার সে অর্থে ধার্মিক ছিল না।
"স্ত্রীর সঙ্গে আমার যখন পরিচয় হয় তখন আমি নিজেকে নাস্তিক বলে মনে করতাম এবং সেও নিজের সম্পর্কেও একই কথা ভাবত"।
মি. ভান্সের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে স্ত্রীর ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে এমন বক্তব্য রাখলেন মি. ভান্স।
তার এই মন্তব্যের সমালোচনা করে সাবেক কূটনীতিক এবং বিদেশ সচিব কানওয়াল সিব্বলও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, "তিনি (ভান্স) তাকে (উষা) নাস্তিক বলছেন। তিনি (ঊষা ভান্স) হিন্দু বলে মেনে নিতে ভয় পান। ধর্মীয় স্বাধীনতার সব কথা কোথায় গেল?"
মি. সিব্বল লিখেছেন, "তিনি যে দেশে বসে আছেন, সেখানে ইউএস কমিশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) এর মতো একটা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চ্যারিটি বিগিন্স অ্যাট হোম (নিজেকে দিয়েই সূচনা হোক বোঝাতে)"।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
সমালোচনার মুখে ভান্স কী বলেছেন?
সমালোচনার মুখে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স। পাশাপাশি তার বক্তব্যকে ঘিরে যে সমস্ত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে, তার পাল্টা সমালোচনা করে অভিযোগ তুলেছেন, এই সমালোচনার মূলে রয়েছে খ্রিস্টান ধর্ম বিরোধী চিন্তা।
তার বক্তব্যের সমালোচনা করে পোস্ট করা একটা মন্তব্যকে (যা এখন ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে) শেয়ার করে তিনি বলেছেন, "কী কুৎসিত মন্তব্য এবং এমন আরো অনেক (মন্তব্য) রয়েছে"।
"প্রথমত, প্রশ্নটা ছিল আমার আন্তঃধর্মীয় বিয়ে নিয়ে। আমি একজন পাবলিক ফিগার, লোকেরা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহলী এবং আমি এই প্রশ্ন এড়াতাম না"।
তিনি আরও বলেছিলেন যে তার খ্রিস্টান মূল্যবোধ তাকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে যে "গসপেল (খ্রিস্ট ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী যার দ্বারা 'ভালো গল্প' বা 'ভালো খবর'কে বোঝায়) সত্য এবং মানবতার পক্ষে" সেই বিশ্বাস থেকেই কথাগুলো বলেছিলেন তিনি।
মি. ভান্স লিখেছেন, "আমার স্ত্রী আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ, যেমনটা আমি আগেও বলেছি। অনেক বছর আগে, ও (ঊষা ভান্স) আমাকে আমার ধর্মের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল"।
"ও খ্রিস্টান নয় এবং তার ধর্ম পরিবর্তন করার কোনো ইচ্ছা নেই। কিন্তু আন্তঃধর্মীয় বিবাহ বন্ধনে বা আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কে থাকা অনেকরই মতো আমিও চাই যে ও আমার মতো করে বিষয়গুলোকে দেখুক"।
তবে তা না হলেও যে সমস্যা নেই তা তিনি উল্লেখ করেছেন।
জেডি ভান্স বলেছেন, "কিন্তু যাই হোক না কেন আমি তার সঙ্গে জীবন, (ধর্মীয়) বিশ্বাস এবং অন্যান্য সবকিছুই নিয়েই আলোচনা করি, কারণ ও আমার স্ত্রী"।
মি. ভান্স তার বিরুদ্ধে হওয়া সমালোচনাকে "খ্রিস্টান ধর্ম বিরোধী" চিন্তার প্রতিফলন বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ছবির উৎস, Kenny Holston - Pool/Getty Images
যে প্রশ্ন উঠেছে
কয়েক মাস আগে, মেগান ম্যাকেনের পডকাস্টে, ঊষা ভান্স জানিয়েছিলেন আন্তঃধর্মীয় পরিবারে কীভাবে তার তিন সন্তান বেড়ে উঠছে।
এই পডকাস্টে ঊষা বলেছিলেন যে তার সন্তানরা ক্যাথলিক স্কুলে যায়। তবে তারা হিন্দু ধর্ম ও তার ঐতিহ্য থেকেও বঞ্চিত নয়।
ওই পডকাস্টে ঊষা বলেছিলেন যে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জেডি ভান্সের সঙ্গে যখন তার পরিচয় হয়, তখন মি. ভান্সের ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন ছিল।
"যখন জেডি ভান্সের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় তখন ও ক্যাথলিক ছিল না, তিনি পরে ধর্মান্তরিত হয়েছিল। খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চলে আসে"।
"যেমন সন্তানদের সেই বিশ্বাস মেনে বড় করে তোলা। এই সমস্ত কিছু কীভাবে করা যেতে পারে সে বিষয়ে আমাদের অনেক গুরুতর আলোচনা করতে হয়েছিল। কারণ আমি ক্যাথলিক নই এবং ধর্মান্তরিত হওয়া বা সে জাতীয় কিছু করার আমার কোনো ইচ্ছা নেই"।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জেডি ভান্স নিজের ও তার স্ত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে একাধিকবার তার মতামত প্রকাশ করেছেন।
অভিবাসন নিয়ে জেডি ভান্সের বক্তব্য
ওই অনুষ্ঠানে যে নারী মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে এই প্রশ্নগুলো করেছিলেন, তাকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত নীতি নিয়েও কড়া প্রশ্ন করতে দেখা গিয়েছিল।
অন্য দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের সম্পর্কে সম্প্রতি বেশ কয়েকটা কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প সরকার। তার মধ্যে এইচ-ওয়ান বি ভিসার জন্য ফি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান অনুমোদনের নথির স্বয়ংক্রিয় আপডেট বন্ধ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত বেশ কিছু বিধিনিষেধ জারিও রয়েছে।
সেদিকে ইঙ্গিত করেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ওই নারী মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করেন, "আমেরিকায় প্রচুর অভিবাসী রয়েছে বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন? এই সংখ্যার বিষয়ে আপনারা কখন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?"
"আপনারা আমাদের মার্কিন স্বপ্ন বিক্রি করেছেন। কেন আমাদের সেই স্বপ্ন বিক্রি করলেন? আমাদের কোনো উপকার করেননি আপনারা, আমরা এখানে থাকার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। অর্থ দিয়েছি"।
"ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে, এখানে এখন অনেক অভিবাসী রয়েছে এবং আমরা তাদের বহিষ্কার করব?"
এর উত্তরে মি. ভান্স ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
মি. ভান্স বলেছেন, "আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো আইন পাশ করে থাকে এবং কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি সম্মান করা উচিত"।
"আমি এমন ব্যক্তিদের কথা বলছিলাম যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে এবং আমি ভবিষ্যতে অভিবাসীর সংখ্যা কমানোর কথা বলছিলাম"।
কথার মাঝেই ওই নারী তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, "আপনি বলছেন যে যারা আইনগতভাবে এসেছেন তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। কিন্তু আপনারা এমন নীতিমালা চাপিয়ে দিচ্ছেন যা আমাদের ক্ষতি করছে। এই নীতিগুলো সমস্যার সমাধান করছে না, বরং তা বাড়িয়ে তুলছে"।
এর জবাবও দিয়েছেন জেডি ভান্স। তার যুক্তি, "যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ভবিষ্যতে অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনা। যারা বৈধভাবে এসেছেন, তাদেরও সম্মান করতে হবে। একজন ব্যক্তি, বা ১০ বা ১০০ জন, বৈধভাবে এসেছেন এবং আমেরিকা গঠনে নিজেদের অবদান রাখছেন… কিন্তু তার মানে এই নয় যে এই জন্য ভবিষ্যতে ১০ মিলিয়ন বা ১০০ মিলিয়ন লোককে বসতি স্থাপন করার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ! না, এটা ঠিক নয়"।
"সারা বিশ্ব থেকে বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চায় এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার কাজ বিশ্ব নিয়ে চিন্তা করা নয়, মার্কিন জনগণের কথা ভাবা আমার কাজ"।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images
ভান্স দম্পতি
জেডি ভান্স ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঊষা চিলুকুরিকে বিয়ে করেছিলেন ২০১৪ সালে। এই যুগলের পরিচয় হয়েছিল ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঊষা ভান্স ও জেডির তিনজন সন্তান রয়েছে- ইভান, বিবেক এবং মিরাবেল।
ভান্স দম্পতির ব্যাকগ্রাউন্ড আলাদা। ঊষা চিলুকুরির বাবা-মা দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা ছিলেন, পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন তারা। সান দিয়েগোতে বড় হয়েছেন ঊষা ভান্স।
ইয়েল থেকে স্নাতক এবং পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ঊষা ভান্স।
তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের ক্লার্ক হিসেবেও কাজ করেছেন।








