ভারতে জুরাসিক যুগের জীবাশ্ম উদ্ধার, মিলতে পারে বিবর্তনের নতুন তথ্য

ছবির উৎস, ANI
- Author, মেরিল সেবাস্তিয়ান
- Role, বিবিসি নিউজ
ভারতের রাজস্থানের জয়সলমেরে কুমিরের মতো দেখতে একটি প্রাণীর বিরল প্রজাতির জীবাশ্মের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা।
এই জীবাশ্ম জুরাসিক যুগের, অর্থাৎ ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, যে প্রজাতির প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে সেটি 'ফাইটোসর' প্রজাতির। বিজ্ঞানীদের মতে পরে বিবর্তিত হয়ে ফাইটোসোর কুমিরের রূপ নেয়।
রাজস্থানের জল দফতরে কর্মরত প্রবীণ হাইড্রোজিওলজিস্ট ড. নারায়ণদাস ইনখিয়া এবং তার দল জয়সলমের জেলার মেঘা গ্রাম থেকে এই জীবাশ্মটি আবিষ্কার করেছেন।
ওই জীবাশ্মের দৈর্ঘ্য দেড় থেকে দুই মিটার অর্থাৎ প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় ফুট।
বিবিসিকে মি. ইনখিয়া জানিয়েছেন, ওই এলাকায় "আরও অনেক লুকানো জীবাশ্ম" থাকতে পারে বলে তার অনুমান। তার মতে ওই জীবাশ্মগুলো বিবর্তনের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় তথ্য দিতে পারে।
তিনি আরও বলেছেন, "ফসিল ট্যুরিজম (জীবাশ্ম পর্যটনের) জন্য এই এলাকাকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবেও গড়ে তোলা যেতে পারে।"

ছবির উৎস, ANI
রাজস্থানে যে প্রজাতির প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার হয়েছে, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভূতত্ত্ববিদ সিপি রাজেন্দ্রন বলেছেন, "ফাইটোসর এমন এক প্রজাতির জীব যারা নদীর পাশাপাশি স্থলেও বাস করত। পরে তা বিবর্তিত হয়ে বর্তমানে কুমিরে পরিণত হয়েছে।"
আসলে জয়সলমেরের ওই অঞ্চলে একটি হ্রদ খননের কাজ চলছিল। গত সপ্তাহে খননের সময় কয়েকজন গ্রামবাসী প্রথম ওই দেহাবশেষ লক্ষ্য করেন।
মাটিতে বড়-সড় কঙ্কালের মতো দেখতে কিছু পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে তারা জানান।
তারপর গবেষকেরা ওই অংশে খননের কাজ শুরু করেন। সেই সময় জীবাশ্ম অবস্থায় থাকা একটি ডিমও উদ্ধার করেন তারা। ডিমটি ওই ফাইটোসরের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর
ডাইনোসররা এই এলাকায় বাস করত
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
গবেষকদের ওই দলটির নেতৃত্বে ছিলেন প্যালিওন্টোলজিস্ট (জীবাশ্মবিজ্ঞানী) ভিএস পরিহার।
তিনি সংবাদ সংস্থা এনডিটিভিকে বলেন, "এই জীবাশ্মটি একটি মাঝারি আকারের ফাইটোসরের দিকে ইঙ্গিত করে। সম্ভবত এই প্রাণী লক্ষ লক্ষ বছর আগে তারা এই অঞ্চলের নদীর তীরে বাস করত। বেঁচে থাকতে নদীর মাছের ওপর নির্ভর করত তারা।"
সিপি রাজেন্দ্রনের মতে, মেঘা গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া ওই দেহাবশেষ "সম্ভবত একটি বিরল জীবাশ্মের নমুনা"। কারণ বিশ্বের অন্যান্য অংশে এখনো পর্যন্ত ফাইটোসরের মাত্র কয়েকটি অংশেরই সন্ধান মিলেছে।
তবে জয়সলমেরের এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা কিন্তু বিজ্ঞানীদের অবাক করেনি।
এর কারণ, একসময় এই এলাকার একদিকে ছিল নদী আর অন্যদিকে সমুদ্র। এটাই ছিল ডাইনোসরদের বিচরণ ক্ষেত্র।
গবেষক নারায়ণদাস ইনখিয়া ব্যাখ্যা করেছেন, লক্ষ লক্ষ বছর আগে, জুরাসিক যুগে জয়সলমের অঞ্চলে ডাইনোসরের বিকাশ ঘটেছিল।
মি. ইনখিয়া ও তার দল ২০২৩ সালে এই জেলাতেই জীবাশ্ম অবস্থায় থাকা একটি ডিম আবিষ্কার করেছিলেন। এই বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন ওই ডিমটি ডাইনোসরের ছিল।
এর আগেও এই অঞ্চল থেকে ডাইনোসরের জীবাশ্মের সন্ধান মিলিছে।
২০১৮ সালে, জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানীরা এই অঞ্চলে খনন কার্য চালান। সেই সময় যে জীবাশ্ম আবিষ্কার হয়েছিল, সেটাও ছিল ডাইনোসরের।
ওই জীবাশ্ম এখানে পাওয়া প্রাচীনতম তৃণভোজী ডাইনোসরের জীবাশ্ম বলে প্রমাণিত হয়।








