নেপালের ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩৩, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ছবির উৎস, Getty Images
নেপালের পশ্চিমাঞ্চলের জাজারকোটে ভূমিকম্পে অন্তত ১৩৩ জন নিহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র কুবের কাদায়াত বিবিসিকে বলেন, শুক্রবার রাতের ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জাজারকোট ও রুকুম পশ্চিম জেলায়।
তিনি জানিয়েছেন, জাজারকোটে ৯৫ জন এবং রুকুম পশ্চিমে ৩৮ জন মারা গেছেন। দুই জেলায় ১৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্প আঘাত হানে শুক্রবার মাঝরাত নাগাদ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ছিল ৫ দশমিক ছয় মাত্রার একটি স্বল্প গভীরতার ভূমিকম্প। অর্থাৎ এটির উৎপত্তি স্থল ভূপষ্ঠ থেকে কম গভীরে ছিল।
নেপাল পুলিশ, নেপাল সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
নেপালকে একরকম ধ্বংস করে দিয়েছিল ২০১৫ সালের যে ভয়াবহ ভূমিকম্প, তারপর শুক্রবার রাতের ভূমিকম্পকে নেপালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন


ছবির উৎস, Bishnu Khadka

ছবির উৎস, Bishnu Khadka
কর্মকর্তারা যা বলছেন
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কৃষ্ণ প্রসাদ ভান্ডারি বলেন, “যেসব এলাকায় ভূমিকম্প হয়েছে সেখানে স্থানীয় ভাবে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সুরখেতে আট প্ল্যাটুন সেনা সহ হেলিকপ্টারও নামানো হয়েছে উদ্ধারকাজের জন্য।“
অন্যান্য এলাকাতেও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে বলে বাহিনী জানিয়েছে।
তিনি বলেন, 'জাজারকোট ও রুকুম পশ্চিমে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং নিহত ও আহতের সংখ্যাও বেশি। "
তিনি আরও জানান, সুরক্ষেতে ব্যাটালিয়ন থেকে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য-কর্মীদের একটি দল কেন্দ্রে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে রাজধানী কাঠমান্ডুতেও ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
এ ছাড়া প্রতিবেশী ভারতের দিল্লিসহ কয়েকটি শহরেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

ছবির উৎস, RSS

ছবির উৎস, Bishnu Khadka

ছবির উৎস, RSS
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান
রুকুম পশ্চিমের আথাবিসকোট পৌরসভা শুক্রবার মধ্যরাতের শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানা যাচ্ছে।
পৌরসভার মেয়র রবি কেসি ও স্থানীয় সাংবাদিক অর্জুন বিস্তা বিবিসিকে বলেন, ৪৩ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।
"মাঝরাতে প্রায় সাত সেকেন্ড ধরে কম্পন চলেছে। কয়েকবার আফটার শকও অনুভব করেছি আমরা,” জানিয়েছেন মি. কেসি।
তার কথায়, প্রায় ৩৫,০০০ জনসংখ্যার আথাবিসকোট পৌরসভায় শত শত বাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
"সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা হাজার হাজার। বিশেষ করে মাটির বাড়িগুলো ধসে পড়েছে। অন্যান্য বাড়িও ধসে পড়েছে,” বলছিলেন মেয়র।
আথাবিসকোটের সাংবাদিক অর্জুন বিস্তা বলেন, "বাড়িগুলির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার নিজের বাড়িও ধসে পড়েছে, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।“
End of বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর

ছবির উৎস, RSS

চিকিৎসার ব্যবস্থা
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
আহতদের চিকিৎসার জন্য রাঞ্ঝার নেপাল আর্মি হাসপাতাল, নেপালগঞ্জ পুলিশ হাসপাতাল ও ভেড়ি হাসপাতালে ১০৫টি শয্যা খালি রাখা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নেপালগঞ্জের সংবাদদাতা বিমলা চৌধুরী বলেন, রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করতে রক্তদানের জন্য নিরাপত্তা কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কর্ণালি প্রদেশের পুলিশ প্রধান ডিআইজি ভীম প্রসাদ ধাকাল জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরপরই পুলিশসহ নিরাপত্তা কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন।
তিনি জানান, উদ্ধারের জন্য কর্ণালি রাজ্য পুলিশ অফিস থেকে ৫৬ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে।
ডিআইজি ধাকাল বলেন, পুলিশ হাসপাতাল থেকে ওষুধসহ স্বাস্থ্য-কর্মীদের একটি দল ইতোমধ্যে ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় রওনা হয়েছে।
তিনি বলেন, "বিভিন্ন স্থানে শুকনো ভূমিধ্বসের কারণে উদ্ধার কাজ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। বিমান উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে। "
এদিকে প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডা ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে যোগ দেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সকালেই হেলিকপ্টারে করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পৌঁছেছেন আর মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন।








