'ঢাকায় ১০ই ডিসেম্বরের সমাবেশ নিয়ে সরকার ভয় পাচ্ছে'- বিএনপি মহাসচিব মীর্জা আলমগীর

    • Author, রাকিব হাসনাত
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, রাজশাহী

বাংলাদেশে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন সরকার ঢাকায় ১০ই ডিসেম্বরে তাদের ডাকা সমাবেশকে ভয় পাচ্ছে এবং এ কারণে সরকারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

“দশ তারিখ নিয়ে সরকার ভয় পেয়েছে। আমরা পরিষ্কার বলেছি নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চাই। এতেই ওদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নিজেরাই এখন বলাবলি করছে যে ওই দিন নাকি ওদের তখতে তাউস উল্টে যাবে,” রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন মি. আলমগীর।

দেশজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিএনপির ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে শনিবার এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আগামী ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে দলটির এ ধারাবাহিক কর্মসূচি শেষ হবে।

তবে ১০ই ডিসেম্বর কোথায় সমাবেশ হবে তা নিয়ে এখনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি সরকার ও বিএনপি।

বিএনপি তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অর্থাৎ ঢাকার নয়াপল্টনে এ সমাবেশ করতে চাইলেও পুলিশের পক্ষ থেকে ২৬টি শর্ত দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

মি. আলমগীর রাজশাহীর সমাবেশে আবারো বলেছেন যে তারা নয়াপল্টনেই তাদের সমাবেশ করতে চান। যদিও শনিবারই এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন নয়াপল্টনে সমাবেশের চেষ্টা করলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

'সমাবেশ দেখে সরকার ভয় পাচ্ছে'

সমাবেশে মি. আলমগীর বলেন সরকারের এখন তাদের নিজেদের ওপরই আস্থা নেই এবং মানুষের ওপরেও আস্থা নেই।

“কিছু হলেই তারা বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে। যখন তারা বিএনপিকে ধরবে মনে করে তখন তারা জঙ্গি তৈরি করে। নিজেরা বাস পোড়ায়, ককটেল মারে আর বলে বিএনপি অগ্নি-সন্ত্রাস করে। কিন্তু অগ্নি-সন্ত্রাস বিএনপি করে না। ইতিহাসে নাই। তারা করে বিএনপির ওপর দোষ চাপায়,” বলেন তিনি।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মি. আলমগীর বলেন সব সম্পদ লুট করা হচ্ছে এবং দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে মানুষের।

“ব্যাংক, রিজার্ভ সব নিয়ে গেছে। ডলার পর্যন্ত নেই। সিঙ্গাপুরে ও মালয়েশিয়ায় পাচার হয়ে গেছে। গত ১১ বছরে ১৯ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।”

তিনি বলেন তাদের আন্দোলন বিএনপিকে ক্ষমতায় নেয়ার জন্য নয় বরং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।

“আন্দোলন শুরু করেছি, এবার হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। তাদের অধীনে সব দল নির্বাচন করবে। সে নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ হবে এবং পরে জাতীয় সরকার হবে।”

বিএনপির এই আন্দোলন সফল করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান এবং বলেন, “১৪/১৫ বছর ধরে নির্যাতিত হচ্ছি। অনেকে গুম হয়ে গেছে। জেগে উঠতে হবে এর বিরুদ্ধে। জেগে উঠুন ও দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে দানব সরকারের পতন ঘটাতে হবে।”

যা বলছেন কর্মী সমর্থকরা

উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগীয় শহর রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন এই বিভাগের আটটি জেলার নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা।

বিএনপির বিভাগীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এটিই ছিলো ঢাকার বাইরের শেষ সমাবেশ।

এই সমাবেশে অংশ নেয়া নেতা কর্মীরা বিদেশে টাকা পাচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সীমাহীন বৃদ্ধিসহ নানা অভিযোগ তুলে বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং বিলম্ব না করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।

তারা বলেছেন রাজশাহীর পর তার ঢাকায় যাবেন এবং সেখানে চূড়ান্ত সমাবেশে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে যে নির্দেশনা আসবে সে অনুযায়ী কাজ করে, তাদের ভাষায়, সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবেন।

পাবনা থেকে আসা আব্দুল সালাম বলছেন ঢাকার সমাবেশেও তারা যোগ দেবেন এবং সফল হয়েই তারা ঘরে ফিরবেন।

“আমাদের আর পিছনে যাওয়ার সুযোগ নেই। দল যা বলে তাই করবো,” বলছিলেন তিনি।

মোসাম্মৎ সালেহা খাতুন বলেন ভালো নির্বাচন হলে তাদের দলই ক্ষমতায় যাবে আর সে কারণে আন্দোলনে সফলতা ছাড়া যে বিকল্প আর নেই সেটি তারা বুঝতে পারছেন।

“আমাদের তো সফল হতেই হবে। আমরা আর রাতে ভোট হতে দিবো না। ঢাকার সমাবেশ থেকে কর্মসূচি আসবে এবং আমরা তা সফল করবো।”

এর আগে দলীয় নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ঢাকার সমাবেশ থেকেই তাদের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

বাধার অভিযোগ, উৎসবের আমেজ

রাজশাহীর এ সমাবেশে যোগ দিতে গত কয়েকদিন ধরে নানা বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করে আসছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ব্যাপক জন-দুর্ভোগের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে এ অঞ্চল জুড়ে।

এ অবস্থায় মূলত তিন দিন আগে থেকেই রাজশাহীতে আসতে শুরু করেছিলেন কর্মী সমর্থকরা। কিন্তু রাজশাহীতে আসলেও সমাবেশ-স্থলে থাকার অনুমতি না পেয়ে ঈদগাহ মাঠে অবস্থান নিয়েছিলেন অনেকে।

শেষ পর্যন্ত আজ শনিবার ভোরে সমাবেশের মাঠ খুলে দেয়া হয়। এরপর কেউ হেঁটে আর কেউ মিছিলের অংশ হয়ে সমাবেশে যোগ দেন। এসময় অনেকের হাতে ছিলো জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি।

আবার কারও হাতে ছিলো নানা রঙের ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষও দেখা গেছে অনেকের হাতে।

সমাবেশে দেয়া ভাষণে দলের সিনিয়র নেতারা বলেছেন তাদের বিশ্বাস সরকারের বিরুদ্ধে গণজাগরণ তৈরি হয়েছে।

আর এটিকেই তারা, তাদের ভাষায়, চূড়ান্ত বিজয় অর্থাৎ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায়ের দিকে নিয়ে যাবেন।