ইয়েমেনে হুথিদের তিন ডজন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ হামলা

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হুথিদের উপর তৃতীয় দফার যৌথ হামলা চালিয়েছে। লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে।

এই হামলায় সমর্থন দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, কানাডা, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ড।

একটি যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইয়েমেনের ১৩ টি লোকেশনের ৩৬ টি টার্গেটে এই হামলা চালানো হয়। এর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে "অস্ত্র মজুদ কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং লঞ্চার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার" এ হামলা চালানো হয়েছে ।

হুথি বিরোধী জোটের মতে, তারা উপকূলীয় ড্রোন কন্ট্রোল কেন্দ্রও এতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি গ্রান্ট শ্যাপস বলেছেন, নতুন এই হামলা ‘তীব্রতা বৃদ্ধি নয়’ এবং হুথিদের ক্ষমতাকে “আরো অবনমিত করার বিদ্যমান মিশনেরই একটা অংশ”।

গত রোববার ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গ্রুপের জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ছাউনিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়া ও ইরাকের বিভিন্ন টার্গেটে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা করছে। একদিন পর শনিবার রাতে ইয়েমেনে হুথি স্থাপনায় এই হামলা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি ডেভিড শ্যাঙ্কার ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলার বিষয়ে বিবিসির সাথে কথা বলেছেন।

এই অঞ্চলের বর্তমান ল্যান্ডস্কেপের কথা উল্লেখ করে শ্যাঙ্কার বলেছেন, সুয়েজ খালে জাহাজের ট্রাফিক ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “হুথিদের বিষয়ে অবশ্যই কিছু করতে হবে। এটা শুরু মাত্র।”

কিন্তু ইরানকে উল্লেখ করে শেঙ্কার আরো বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র "শুধু প্রক্সির পিছনে যেতে পারে না এবং এমনকি পৃষ্ঠপোষকদের পিছনেও যেতে পারে না"।

এখন পর্যন্ত সিরিয়া, ইরাক এবং ইয়েমেনে মিলিশিয়া এবং এর সহযোগী গ্রুপগুলোর উপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের কোন এলাকায় হামলা চালানো হয়।

এর আগে, শুক্রবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের পাল্টা জবাব আজ শুরু হয়েছে। এটা সময় ও স্থান পছন্দের ভিত্তিতে চলমান থাকবে”।

যদিও এর আগে ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছে এবং বলেছে “ তারা রেজিস্ট্যান্স গ্রুপগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত নয়”।

এর আগে গত ২৮ শে জানুয়ারি সিরিয়ায় জর্ডান সীমান্তের কাছে এক মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিনজন সেনা নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ১২ জন।

সে সময়ই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, ইরান সমর্থিত কট্টর জঙ্গি গোষ্ঠী এ হামলা চালিয়েছে এবং এর জবাব দেয়া হবে।

সিরিয়া সীমান্তের কাছে উত্তর -পূর্ব জর্ডানের রুকবানে এই ড্রোন হামলা হয়েছে। পরে এই বেইজের নামকরণ টাওয়ার ২২ করে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ।

প্রতিক্রিয়ায় ৩রা ফেব্রুয়ারি সিরিয়া এবং ইরাকের ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জর্ডানে তাদের এক সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

কন্টেইনার ঘাঁটিতে মনুষ্যবিহীন এই ড্রোন হামলায় ৪০ জনের বেশি সামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।

হামলার সময় ‘টাওয়ার ২২’ তে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিলো বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। যখন একটি মার্কিন ড্রোন সেনাঘাঁটির দিকে ফিরে আসছিল তখনই হামলাকারী ড্রোনটিও আঘাত হানে।

তারা আরো জানিয়েছেন, কোনো সতর্কতা ছাড়াই যখন ড্রোন হামলা হয় সৈনিকেরা তখন তাদের বিমান ছাউনিতে ঘুমানোর কোয়ার্টারে ছিল।

এ হামলায় সন্দেহভাজন গোষ্ঠীগুলোর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি জানিয়েছেন যে, “প্রতিরোধ দলগুলো কীভাবে ফিলিস্তিনিদের বা নিজেদের ভূ-খণ্ডকে রক্ষা করবে সে সিদ্ধান্তের গ্রহণের সাথে তারা যুক্ত নয়।

ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স এই হামলা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে।

২০২৩ সালে ইরাকভিত্তিক এই সশস্ত্র আমব্রেলা গ্রুপের আবির্ভাব ঘটে, যার সাথে ইরানি মিলিশিয়াদের সম্পৃক্ততার আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো দায় তারা স্বীকার করেছে।

এক বিবৃতিতে এই গ্রুপ জানিয়েছে যে, তারা সিরিয়াতে শাদ্দাদি, তানফ এবং রুকবানে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ঘাঁটি টার্গেট করেছিলো। যদিও রুকবান সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী জর্ডান সীমান্তে পড়েছে। এই গ্রুপটি আরো বলেছে যে, তারা ভূমধ্যসাগরে একটি ইসরায়েলি তেলের স্থাপনাকে ও টার্গেট করেছিলো।

গত সাতই অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর ওই অঞ্চলে এই প্রথম কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মতে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আরো হামলা হয়েছে কিন্তু রোববারের আগে কোনো প্রাণহানি হয়নি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭ই অক্টোবর থেকে ইরাক এবং সিরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সাইটগুলোতে ১৬৫ বার হামলা হয়েছে।

গত মাসে উত্তর ইরাকের একটি ঘাঁটিতে তাদের তিন সেনা আহত ও একজন গুরুতর আহত হওয়ার পর ইরান সমর্থিত এই দলগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

জানুয়ারির শুরুতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বাগদাদে এক মিলিশিয়া নেতা নিহত হন যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন।