ইরানের সাথে ব্যবসা করলে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

ছবির উৎস, Getty Images
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে যুক্ত দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই পদক্ষেপ ইরানে তিন সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আরো বাড়তি মাত্রা যোগ করবে।
এই শুল্ক "তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর" হবে বলে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ইরানের সাথে 'ব্যবসা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে, এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন, এর পরেই রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।
চলমান আন্দোলনে তেহরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর নতুন করে শুল্ক আরোপের এই ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।
সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, বিমান হামলাসহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প সিদ্ধান্তগুলোও 'টেবিলে' রয়েছে।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, "ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র," ট্রাম্প সোমবার ট্রুথ সোশালে লিখেছেন।
"এই আদেশ চূড়ান্ত এবং তর্কাতীত," তিনি আরও বলেন।
এই সিদ্ধান্তের কারণে কোন দেশের আমদানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য জানায়নি হোয়াইট হাউস।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্য হ্রাসের কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে ডিসেম্বরের শেষের দিকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় দেশটিতে, যা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির বৈধতার সংকটে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ইরানের ভেতরে স্বাধীনভাবে কাজ করার অনুমতি নেই এবং তারা বেশিরভাগই দেশের বাইরে সক্রিয় ইরানি মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকারকর্মী সংবাদ সংস্থা, এইচআরএএনএ জানিয়েছে যে তারা ইরানে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করেছে।
সোমবার নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস বা আইএইচআরএনজিও জানিয়েছে যে ইরানে কমপক্ষে ৬৪৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নয়জন ১৮ বছরের কম বয়সী।
কিছু স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন শহরে নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকশ থেকে হাজার হাজার মানুষও রয়েছেন।
বিবিসি বর্তমানে স্বাধীনভাবে এই পরিসংখ্যান যাচাই করতে অক্ষম এবং এখন পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সরকারি বা স্বচ্ছ পরিসংখ্যান দেয়নি।
তবে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে যে বিক্ষোভের সময় ১০০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন, এবং বিক্ষোভকারীরা, যাদের তারা 'দাঙ্গাবাজ' বলে অভিহিত করে, তারা বিভিন্ন শহরের কয়েক ডজন মসজিদ এবং ব্যাংকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
End of বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Public domain
হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের একই রকম বিবরণ পেয়েছে বিবিসি।
এরপর থেকেই, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যার ফলে ইরান থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসি পার্সিয়ানকে ইরানের অভ্যন্তরে রিপোর্ট করা থেকেও নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার।
"আমি নিজের চোখে দেখেছি - তারা সরাসরি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে এবং লোকেরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানেই পড়ে গেছে," কথা বলার সময় কণ্ঠ কাঁপছিল চল্লিশ বছরের কাছাকাছি বয়সি ওমিদের। তার ভয় ছিল যে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে খুঁজে বের করতে পারে।
নিরাপত্তার জন্য তার নাম আমরা পরিবর্তন করেছি, গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ ইরানের একটি ছোট শহরের রাস্তায় অর্থনৈতিক দুর্দশার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন তিনি।
জানান, নিরাপত্তা বাহিনী তার শহরে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের উপর কালাশনিকভ স্টাইলের অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়েছে।
"আমরা খালি হাতে একটি নিষ্ঠুর শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছি," তিনি বলেন।
গত বৃহস্পতিবার 'বিচারের দিন' বলে মনে হয়েছিল বলে জানান তেহরানের এক তরুণী।
"তেহরানের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোও বিক্ষোভকারীদের দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল- এমন জায়গা যা আপনি বিশ্বাস করবেন না," তিনি বলেন।
"কিন্তু শুক্রবার, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল হত্যা, হত্যা এবং হত্যা করেছে। নিজের চোখে এটি দেখে আমি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম যে আমি সম্পূর্ণরূপে মনোবল হারিয়ে ফেলেছিলাম। শুক্রবার ছিল একটি রক্তাক্ত দিন"।

ছবির উৎস, Eyewitness image / Reuters
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ এবং পুরো ঘটনাকে 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' বলে এর নিন্দা জানিয়েছে।
গত রোববার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছে। যদিও "আমাদের বৈঠকের আগে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে," বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সরকারি অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির কারণেও দুর্বল হয়ে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি।
গত ২৮শে ডিসেম্বর, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্যে আরেকটি তীব্র পতনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে তেহরানের রাস্তায় নেমে আসেন ব্যবসায়ীরা।
গত এক বছরে ইরানের মুদ্রার মান রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যার ফলে রান্নার তেল এবং মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।








