আর্জেন্টিনার সাথে বাংলাদেশ সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধির সুযোগ আসলে কতটা

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন দৃষ্টি কেড়েছে আর্জেন্টিনাতেও।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন দৃষ্টি কেড়েছে আর্জেন্টিনাতেও।

বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সমর্থনের আবেগ ছুঁয়েছে দেশটির সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক মহল পর্যন্ত।

বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশটির প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের পতাকার ছবিসহ টুইট করে পাল্টা ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষ ও প্রধানমন্ত্রীকে।

এমনকি বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা দল দেশে ফেরার পর যে অভাবনীয় সম্বর্ধনা পেয়েছে সেখানেও উড়তে দেখা গেছে বাংলাদেশের পতাকা।

প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজ তার টুইটে দু দেশের মানুষের মধ্যকার এ বন্ধনকে বর্ণনাতীত উল্লেখ করে বলেছেন, “আজ দুই দেশের পতাকা এখানেও উড়ছে। আসুন এ বন্ধন আরও গভীর করি”।

কিন্তু প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের সাথে আর্জেন্টিনার সম্পর্কের বন্ধন আরও গভীর হওয়ার সুযোগ কতটা আছে।

বাংলাদেশ আর্জেন্টিনা থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষি পণ্য যেমন, ভোজ্য তেল, শস্য, তৈল বীজ প্রভৃতি আমদানি করে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বলছে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে আর্জেন্টিনায় ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয় তার ৮৮ শতাংশের বেশি তৈরি পোশাক।

অন্যদিকে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে আর্জেন্টিনা ৯০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশে। মূলত সয়াবিন তেল, ভুট্টা ও তুলা বেশি আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের টুইট

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না

End of X post

অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।

৭৮ সালে দূতাবাস গুটিয়ে নিয়েছিলো আর্জেন্টিনা

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মূলত ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সময় থেকেই বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থক বাড়তে থাকে। পরে ক্রমশ প্রতিটি বিশ্বকাপে মূলত ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা শিবিরে ভাগ হয়েই বিশ্বকাপ উপভোগ করেছে এ দেশের মানুষ।

যদিও সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি নানা কার্যক্রমে বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসতে শুরু করে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সময় থেকে।

উভয় দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসেও নানা ধরণের প্রতিবেদন করেছেন যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উভয় দেশেই ব্যাপক প্রচার পেয়েছে।

তবে ব্রাজিলে বাংলাদেশের দূতাবাস থাকলেও আর্জেন্টিনায় কোনো দূতাবাস খোলেনি বাংলাদেশ। আবার বাংলাদেশ থেকে ১৯৭৮ সালে দূতাবাস গুটিয়ে নেয়ার পর দেশটি ঢাকায় মিশন আর খোলার উদ্যোগ নেয়নি।

এবারের বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের উন্মাদনার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে আর্জেন্টিনাতে।

এর মধ্যেই দেশটি বাংলাদেশে দূতাবাস খোলার একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছে যাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত জুলাই মাসেই ঢাকায় এসেছিলেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি টিম। ঢাকায় এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে তারা ঢাকায় দূতাবাস খোলার চিন্তার বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহ সভাপতি মোঃ আমিন হেলালী। মিস্টার হেলালী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে ওই বৈঠকে দু দেশের মধ্যে বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ বাড়ানো যায় সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

“আমরা ভিসা সহজীকরণের পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। দূতাবাস হলে সেটি সহজ হবে। কিন্তু সেটি না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে সহজে ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করতে পারে সে দিকে আমরা জোর দিয়েছি,” বলছিলেন তিনি।

মিস্টার হেলালী বলেন ফুটবল জগতে বাংলাদেশ আর্জেন্টিনার বন্ধু কারণ এদেশের বিরাট জনগোষ্ঠীর আবেগ রয়েছে ওই দেশটির ফুটবল দলকে নিয়ে এবং এটি দিয়েই সেখানকার মানুষ বাংলাদেশকে চিনছে এখন।

তার মতে এ সুযোগটাই বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে।

লিওনেল মেসি

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, লিওনেল মেসি বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়।

সম্পর্ক দৃঢ় বা আরও গভীর করার সুযোগ কতটা, বাধাই বা কী?

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলছেন সম্পর্ক আরও গভীর করার একমাত্র মাধ্যম যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ানো। আর দেশ দুটির মধ্যে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো দূরত্ব আর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি।

যদিও তার মতে আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক অবস্থা এখন খুব একটা সুখকর অবস্থায় নেই এবং মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি।

ফলে এ মূহুর্তে দেশটির বাজার থেকে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হতে পারবে তা নিয়ে আরও ভাবনা চিন্তার সুযোগ আছে বলেও মনে করেন তিনি।

“সেখানে মিশন খুলতে হলে বাংলাদেশকেও অনেক অর্থ ব্যয় করতে হবে। এটি করার আগে দেখতে হবে যে এতে দেশ কতটা লাভবান হবে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে দু দেশের মানুষের মধ্যে ভাবাবেগ তৈরি হলেও পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরুর আগে এমন অনেক কিছুই বিবেচনা করতে হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তবে এফবিসিসিআইয়ের সহ সভাপতি মোঃ আমিন হেলালী বলছেন উভয় দেশের মধ্যে যোগাযোগের সুবিধা তৈরি হলে অনেক ক্ষেত্রেই সুবিধার সুযোগ তৈরি হবে।

“আর্জেন্টিনা তার ৭০ ভাগ কনজ্যুমার প্রডাক্ট আমদানি করে। যার সুবিধা নেয় চীন। বাংলাদেশের এক্ষেত্রে সুযোগ আছে। আবার দেশটি মিনারেল সমৃদ্ধ দেশ। বেশ কিছু কাঁচামাল আমরা সেখান থেকেও নিতে পারি। এমন অনেক কিছু নিয়েই চিন্তার সুযোগ আছে,” বলছিলেন তিনি।

তার মতে ফুটবলকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার কাছে বাংলাদেশ এখন সুপরিচিত এবং এটিকেই ব্যবসা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত।

এর আগে আর্জেন্টিনার যে দলটি বাংলাদেশে এসেছিলো তারা তাদের দেশ থেকে কৃষি প্রযুক্তি আমদানির পরামর্শ দিয়েছিলো বাংলাদেশকে।

যদিও মিস্টার হেলালি বলছেন বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনা উভয়েই পরস্পরের কাছে কৃষি প্রযুক্তি বিনিময় করতে পারে।

মিস্টার হেলালীর মতে আইসিটি পণ্য আর ই কমার্সের জন্যও আর্জেন্টিনা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইউরেনিয়ামসহ নানা ধরণের মিনারেলস আছে দেশটিতে যা আমাদের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

জুলাইতে ঢাকায় আসা আর্জেন্টাইন সরকারি প্রতিনিধি দলটি তাদের দেশ থেকে তুলা, গুঁড়া দুধ ও রসুন আমদানির প্রস্তাব দিয়েছিলো বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে।

আবার বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ঔষধ, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক ও তৈরি পোশাক আমদানির জন্য আর্জেন্টিনার প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা।

“তবে এসব কিছুই করবে আসলে ব্যবসায়ীরা। দু দেশের সরকার যত দ্রুত যোগাযোগকে সহজ করবে বা ভিসা পাওয়ার বিষয়টি যত দ্রুত সহজ হবে ততই দু দেশের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির সুযোগ বেগবান হবে,” বলছিলেন মিস্টার হেলালী।

এর আগে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আর্জেন্টিনায় গিয়ে সেখানকার কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর আমদানি শুল্ক কমাতে বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দেয়ার আহবান জানিয়েছিলেন।

তখন এসব নিয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা সরকারের মন্ত্রীরা।