আর্জেন্টিনার ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রায়হান মাসুদ
- Role, বিবিসি বাংলা
কাতার বিশ্বকাপ এখন লিওনেল মেসির। দেড় দশকের ক্যারিয়ারে মেসির একমাত্র অপ্রাপ্তি ঘুচে গেল আজ ১৮ই ডিসেম্বর কাতারের দোহায় লুসাইল স্টেডিয়ামে।
মেসির অপেক্ষার অবসান ঘটার সঙ্গে আর্জেন্টিনারও বিশ্বকাপের জন্য ৩৬ বছরের অপেক্ষার পালা শেষ হলো।
ফ্রান্সকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলো আজ।

ছবির উৎস, Getty Images
মেসির আরও একটি দুর্দান্ত ম্যাচ
ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় ডেম্বলে আনহেল দি মারিয়াকে ফ্রান্সের ডি বক্সের ভেতরেই ফেলে দেন।
ডেম্বলে অল্প একটু ছোঁয়া দেন কিন্তু সেখানে বল ছিল না এবং দি মারিয়া পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে রেফারি পেনাল্টির ইঙ্গিত করেন।
লিওনেল মেসি কোনও ভুল করেননি, বিবিসি ওয়ানের বিশ্লেষণে জারমেইন জেনাস বলেন, "লিওনেল মেসিকে দেখে মনে হয়েছে তিনি মাঠের সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাথার মানুষ।"
বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে মেসি গ্রুপ পর্বে, দ্বিতীয় রাউন্ডে, কোয়ার্টার ফাইনালে, সেমিফাইনালে এবং ফাইনালে গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।
এই গোলের আগ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাই ছিল মাঠের শ্রেয়তর দল।

ছবির উৎস, Getty Images
মনে হয়েছে ফ্রান্স বিশ্বকাপে দলটির সবচেয়ে বাজে ম্যাচ আজকেই খেলেছে।
প্রথমার্ধে এমন কোনও মুহূর্ত তৈরি করতে পারেননি কিলিয়ান এমবাপে বা অলিভিয়ের জিরু।
ফ্রান্স দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।
এই ম্যাচে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনার জন্য আরেক নতুন কৌশল নিয়ে আসেন।
আনহেল দি মারিয়াকে নামান তিনি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে, ফাইনাল ম্যাচে।
ম্যাচের শুরু থেকে ফ্রান্স ছিল ফ্যাকাসে, দি মারিয়া যেন সেই সুযোগই নিয়েছেন।
পেনাল্টি আদায় করেছেন, তার কিছুক্ষণ পরে নিজেই গোল করে ফ্রান্সের পরিস্থিতি আরও শোচনীয় করে তোলেন।
জারমেইন জেনাস এই দ্বিতীয় গোলটিকে যথাযথ টিম গোল বলে বর্ণনা করেন।
মেসির সাথে জুটি গড়ে ম্যাক অ্যালিস্টেয়ার বল নিয়ে দি মারিয়াকে সাহায্য করেন, ৩৬তম মিনিটে দি মারিয়া ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
দি মারিয়া হাত দিয়ে তার জনপ্রিয় লাভ চিহ্ন দেখিয়ে উদযাপন করেন।
আর্জেন্টিনা ২, ফ্রান্স ০।

ছবির উৎস, Getty Images
প্রথমার্ধ্বে দিশেহারা ফ্রান্স
ফ্রান্স একেবারেই বিক্ষিপ্ত ফুটবল খেলেছে প্রথমার্ধে, দিদিয়ের দেশম এতোটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে ৪১তম মিনিটেই অলিভিয়ের জিরু ও ওউসমান ডেম্বলেকে তিনি বদল করেন।
বিবিসি স্পোর্টে ক্রিস বেভান লিখেছেন, ফ্রান্স আজ রীতিমতো অপদস্থ হয়েছে।
আঁতোয়ান গ্রিজমান এমন কোনও বল পাননি যা এমবাপের দিকে বাড়াতে পারবেন তিনি।
ফ্রান্স প্রথমার্ধে কোনও শট নিতে পারেনি।
আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে শুরু করে।
কোনও খুঁত দেখা যায়নি আর্জেন্টিনার।
জারমেইন জেনাস বিবিসি ওয়ানে বলেছেন আর্জেন্টিনা চেষ্টা করেছে দ্বিতীয়ার্ধে বল রেখে খেলার।
সময়টা নব্বই মিনিটে নিয়ে যাওয়ার, লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার।
কোনও ঝুঁকি নেয়নি লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা।

ছবির উৎস, Getty Images
এরপর এমবাপে ঝড়
খেলার যখন প্রায় আর্জেন্টিনার দখলে ঠিক তখন দুই মিনিটে দুই গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে।
লিওনেল মেসি বনাম কিলিয়ান এমবাপে লড়াই সত্যিকার অর্থেই জমে উঠেছে তখন।
নির্ধারিত নব্বই মিনিটেই খেলা শেষ হওয়ার কথা এমবাপে নিয়ে গেলেন ১২০ মিনিটে।
অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে আবারও লিওনেল মেসির জাদু, ১০৯তম মিনিটে গোল দিলেন মেসি।
সেটা আবার পেনাল্টি পেয়ে ফেরত দিলেন কিলিয়ান এমবাপে, তিনি আট গোল দিয়ে নিশ্চিত করলেন গোল্ডেন বুট।
শেষ পর্যন্ত খেলা গড়ালো পেনাল্টি শুটআউটে।
এখানে আবারও নায়ক আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেনাল্টি শুট আউটের নায়ক আরো একবার নায়ক হয়ে উঠলেন।
ম্যাচের আগে বলেছিলেন, মেসির জন্য জীবন দিতে পারবেন।
তিনি মেসিকে বিশ্বকাপ উপহার দিলেন।
বিশ্বকাপের সেরা ফাইনালগুলোর একটি উপহার দিলো ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা।








