'আলামত ধ্বংস করলো কারা?'

পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা

মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম, 'আলামত ধ্বংস করলো কারা?'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকার আয়নাঘর নামের গোপন বন্দিশালাগুলোতে কী ঘটেছিল, সেটি দেখতে গিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আয়নাঘর ছিল নির্যাতন ও গুমের কেন্দ্র, যেখানে রাজনৈতিক বিরোধীদের বন্দি রাখা হতো বছরের পর বছর। ছোট, আলোহীন কক্ষগুলো ছিল এমনভাবে তৈরি যে, বন্দিরা বাইরের দুনিয়া সম্পর্কে কিছুই জানতে পারত না।

অনেকে এখান থেকে ফিরে আসেননি, তাদের শেষ গন্তব্য ছিল মৃত্যু।

পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে, বন্দিশালার অনেক আলামত মুছে ফেলা হয়েছে। দেয়াল রং করে মুছে দেওয়া হয়েছে বন্দিদের লেখা, ভেঙে ফেলা হয়েছে কক্ষের বিভাজন।

নির্যাতনের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামের অনেক কিছুই গায়েব হয়ে গেছে বা অকেজো করে ফেলা হয়েছে। এমনকি সিসি ক্যামেরার ফুটেজও হারিয়ে গেছে।

এতে প্রশ্ন উঠছে—কারা এই আলামত ধ্বংস করল, কেন করা হলো, আর এর জবাব কি পাওয়া যাবে?

গুম কমিশনও বলছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই তাদের বন্দি থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। কেউ গুম হয়ে কয়েক মাস কাটিয়েছেন, কেউ বছরের পর বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এমনকি কেউ কেউ তাদের নির্যাতনের সেই নির্দিষ্ট কক্ষও শনাক্ত করেছেন। সরকার বলছে, আয়নাঘর সিলগালা থাকবে এবং তদন্ত চলবে, তবে এর সত্যিকারের বিচার হবে কি না সেটাই বড় প্রশ্ন।

দৈনিক মানবজমিন
ছবির ক্যাপশান, দৈনিক মানবজমিন
আরও পড়তে পারেন
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।

অগাস্টের শুরু থেকে সহিংস মব থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যাদের মধ্যে পুলিশ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষও ছিলেন।

হিন্দু, আহমদিয়া মুসলিম ও পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর বাড়িঘর, মন্দির ও মাজারে হামলা হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতা ও প্রতিশোধের চক্রে রয়েছে। সরকার গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে দায়মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও সহিংসতার জন্য কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা, নারীদের যৌন নিপীড়ন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করে। তবে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় শতাধিক গ্রেপ্তার হলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয়ে রক্ষা না পায়।

পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, প্রথম আলো

সমকালের প্রথম পাতার খবর, 'নির্বাচন সামনে রেখে ইসির সঙ্গে বসছেন ডিসিরা'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।

এটি ডিসি সম্মেলনের অংশ, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং চার কমিশনার উপস্থিত থাকবেন। এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হচ্ছে না।

নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ডিসিরা ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেন এবং প্রশাসনের সার্বিক তদারকি করেন।

এ বৈঠকে ইসি তাদের সহযোগিতা চাইতে পারে এবং স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করবে।

ডিসি সম্মেলন ১৬ থেকে ১৮ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ১৮ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইসির সঙ্গে বৈঠক হবে।

এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা থাকবেন।

এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হচ্ছে না, তবে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করবেন।

সম্মেলনে সরকারের উপদেষ্টা, সচিব ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এটি নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, সমকাল

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর, 'এস আলম পরিবারের আরও ৫,১০৯ কোটির শেয়ার অবরুদ্ধ'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল আলম মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের আরও পাঁচ হাজার ১০৯ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন এই আদেশ দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।

দুদকের অভিযোগ, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যরা সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাসসহ বিভিন্ন দেশে এক বিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন।

তদন্তে দেখা গেছে, তারা ৪২টি কোম্পানির প্রায় ৪৩৭ কোটি ৮৫ লাখ শেয়ার হস্তান্তরের চেষ্টা করছিলেন, যার বাজারমূল্য পাঁচ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।

যদি এই শেয়ার হস্তান্তর করা হয়, তবে তদন্ত, মামলা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আদালত এসব শেয়ার ও এর মুনাফা অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে, ১৬ই জানুয়ারি আদালত এস আলম পরিবারের তিন হাজার ৫৬৩ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করেন। ১৪ই জানুয়ারি তাদের ২০০ কোটি টাকার সম্পদ ও ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।

গত ১৯ই ডিসেম্বরও ১২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। এছাড়া, গত বছরের ৭ই অক্টোবর সাইফুল আলম ও তার পরিবারের ১৩ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

আজকের পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, আজকের পত্রিকা

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'খোদ হাসিনাই হত্যার নির্দেশদাতা'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত বছরের জুলাই ও অগাস্টে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন দমন করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দমন অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার এবং আওয়ামী লীগের সমর্থিত বিভিন্ন বাহিনী আন্দোলনকারীদের কঠোরভাবে দমন করে। ১৮ই জুলাই বিটিভি ভবনে হামলার পর বিজিবিকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

১৯শে জুলাই শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও মরদেহ গোপন করার নির্দেশ দেন। এছাড়া, তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের 'দেখামাত্র গুলি'র নির্দেশ দিয়েছিলেন।

নারী ও শিশুদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয়। অনেককে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, নিরাপত্তা বাহিনী আহতদের চিকিৎসা নিতে বাধা দেয়।

৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জনগণ বিভিন্ন থানায় হামলা চালায়। জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাদ পড়তে পারে।

পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, কালের কণ্ঠ

দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার খবর, 'Proof won't be shared till trials meet int'l standard' অর্থাৎ, 'আন্তর্জাতিক মান পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তথ্য-প্রমাণ দেয়া হবে না'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জুলাই ‌আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিচার যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে না হয়, তাহলে তাএ বিষয়ে প্রাপ্ত কোনো প্রমাণ বাংলাদেশের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান ররি মাংগোভেন জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।

তিনি বলেন, তাদের প্রতিবেদনে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নেই, তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মৃত্যুদণ্ড একটি বড় বাধা।

জাতিসংঘের নীতি অনুযায়ী, যেখানে মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা থাকে, সেখানে তারা বিচারিক সহায়তা দিতে পারে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ এই বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে, কারণ এটি প্রতিশোধের চক্রকে চালু রাখে।

জাতিসংঘের ১১৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে "মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ" সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার টার্ক বলেন, এসব অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে হতে পারে।

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তদন্ত কঠিন, কারণ আগের সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এখনও প্রশাসনে রয়েছেন। ফলে পুলিশের ওপরই পুলিশের অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব পড়ছে, যা স্বচ্ছতার পথে বড় বাধা হতে পারে।

দ্য ডেইলি স্টার
ছবির ক্যাপশান, দ্য ডেইলি স্টার
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন

যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর, 'দেশে এনে হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও মানবাধিকারকর্মীদের দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা।

তারা বলছেন, জুলাই-অগাস্টের গণহত্যার জন্য তিনিই মূল দায়ী, কারণ তার নির্দেশেই দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনী ও দলীয় কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে। নির্বিচারে গুলি চালানো, গ্রেফতার, নির্যাতন ও চিকিৎসা না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, এতদিন তারা যে অভিযোগ করে আসছিলেন, জাতিসংঘের রিপোর্টের মাধ্যমে তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।

রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা উচিত। এতে ভবিষ্যতে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাহস পাবে না।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচার না হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না। ভারতের উচিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা, যাতে বিচার নিশ্চিত হয় এবং দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হয়।

পত্রিকা

নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর, 'ছেলের বাসায় ভালো আছেন খালেদা জিয়া'

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় আছেন এবং আগের চেয়ে অনেকটা ভালো অনুভব করছেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

গত ৮ই জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে লন্ডনে নেওয়া হয় এবং লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকার পর ২৫শে জানুয়ারি তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান এবং ছেলের বাসায় উঠেন।

এখন তিনি বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন, এবং তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও নাতনিরা তার দেখাশোনা করছেন।

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।

লন্ডনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

তিনি কবে দেশে ফিরবেন সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। চিকিৎসকরা যখন মনে করবেন যে তিনি ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত, তখনই তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক জাহিদ হোসেন।

নয়া দিগন্ত
ছবির ক্যাপশান, নয়া দিগন্ত

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, 'আয়ের আগেই কর ব্যবসার বড় বিড়ম্বনা'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো, অগ্রিম করের কারণে বড় সমস্যায় পড়ছে।

উদাহরণ হিসেবে, আরএকে সিরামিকস ২০২৪ সালে পাঁচ কোটি ১৬ লাখ টাকা করপূর্ব মুনাফা করলেও সাত কোটি ৮৯ লাখ টাকা কর পরিশোধ করতে হয়েছে, ফলে তাদের নিট লোকসান হয়েছে দুই কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

অগ্রিম কর রাজস্ব সংগ্রহের সহজ উপায় হলেও এটি ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসার মুনাফা হওয়ার আগেই রাজস্ব কর্তৃপক্ষ অগ্রিম কর কেটে নেয়।

নিয়ম অনুযায়ী, বছর শেষে এই কর সমন্বয়ের সুযোগ থাকলেও প্রক্রিয়াটি জটিল ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, অগ্রিম করের কারণে বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মুনাফার চেয়ে বেশি কর কেটে নেওয়া হয় এবং সমন্বয়ের ব্যবস্থা যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়।

এনবিআর দাবি করেছে, এটি করদাতাদের সুবিধার জন্য করা হয়েছে, তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রক্রিয়াটি সংস্কার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, রিফান্ড ও সমন্বয়ের নিয়ম সহজ না করলে এটি ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে এবং কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়তে পারে।

পত্রিকা