পল্লী বিদ্যুতের শাটডাউন, অন্ধকারে ছিলেন কোটি গ্রাহক

শুক্রবার, ১৮ই অক্টোবরের পত্রিকা

ঘোষণা ছাড়াই দেশের বিভিন্ন জায়গায় পল্লী বিদ্যুৎ শাটডাউনের খবরটি উঠে এসেছে বেশ কিছু পত্রিকায়। আজকের পত্রিকার শিরোনাম ‘দাবি আদায়ে বিদ্যুৎ বন্ধ ভোগান্তিতে কোটি গ্রাহক। ’ সেখানে বলা হচ্ছে দুই দফা দাবিতে কয়েক মাস ধরে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ২০ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা ও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনরতরা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছেন ।

তবে বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে কোটি গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন । কোথাও কোথাও পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। কোথাও আবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনকে। এভাবে হুট করে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে জাতীয় গ্রিডও।

এবিষয়ে ইংরেজি দৈনিক স্টারের প্রতিবেদন, ‘ Rural electricity returns after govt assurance,’ অর্থাৎ সরকারি আশ্বাসে ফিরেছে পল্লী বিদ্যুৎ। সেখানে বলা হচ্ছে ১৩ জেলার ২২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) কর্মকর্তারা গতকাল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন। এতে করে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক সাত ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।

কর্মকর্তারা ‘অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত’দের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান না হলে ঢাকায় পদযাত্রার হুমকি দেন। পরবর্তীতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম সমাধানের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি স্থগিত হয়। বিক্ষোভের পর, বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হয়। অনেক জায়গায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব, জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়।

বিদ্যুৎ বন্ধের কারণে হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় ভোগান্তি দেখা দেয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটের আগে সাকিব আল হাসান দলে না থাকার খবরটি বেশ কিছু পত্রিকার প্রথম পাতায় উঠে এসেছে। ‘নিরাপত্তা সংকট সাকিব ঢাকায় আসলেন না’, খবরটি দৈনিক মানব জমিনের। বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সাকিব আল হাসানকে দেশে ফিরতে বারণ করা হয়েছে বলা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাকে দেশে না ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন।

লস অ্যানজেলেস থেকে দুবাই আসার পর এই বার্তা পান তিনি। তাকে জানানো হয়েছে তিনি এলে তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে না। ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে তিনি বলেছেন, ‘কোথায় (দুবাই) যাবো জানি না। তবে দেশে ফিরছি না।’

দৈনিক মানব জমিন
ছবির ক্যাপশান, দৈনিক মানব জমিন

‘Bangladesh paying Indian LoC instalments with projects still incomple’ অর্থাৎ প্রকল্প শেষ না হলেও বাংলাদেশ ভারতের ঋণের কিস্তি দিচ্ছে, খবরটি দা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের। খবরে বলা হচ্ছে ২০১০ সালে প্রথম ঋণের চুক্তি হওয়ার পর ১৫ বছরে মোট ৭৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের টাকা ব্যবহার করা হয়েছে।

কিন্তু ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার বা ১৩৪ কোটি ডলারের বেশি এখনও ব্যবহার করা বাকি। ৫ বছরের সময়সীমা পার হয়েছে, যদিও প্রথম ঋণের ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি এখনো শেষ হয়নি এবং বাংলাদেশকে ইতোমধ্যে ঋণের কিস্তি দিতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে রেলপথ, সড়ক, বিদ্যুৎ, স্থল বন্দর এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করতে ৭.৩ বিলিয়ন বা ৭৩০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ছিল যার পুরোটা দেয়া হয়নি। প্রথম লাইন অব ক্রেডিট বা ঋণ চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। সে হিসেবে বাংলাদেশকে ৮ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

আজকের পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, আজকের পত্রিকা
দা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
ছবির ক্যাপশান, দা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

‘২০১৪ সালের নির্বাচনের পর পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র’ খবরটি দৈনিক বণিক বার্তার। বলা হচ্ছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ১৯ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশের নজিরবিহীন হামলায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান।

পুলিশ ৭ পয়েন্ট ৬২ এমএম চায়না রাইফেল থেকে ১,৪৯৫ রাউন্ড গুলি চালায়, যা মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য ব্যবহৃত অস্ত্র। প্রতি মিনিটে নির্ভুলভাবে ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি চালানো যায় বলা হচ্ছে প্রতিবেদনে। ২০১৪ সালের পর থেকে পুলিশের আধুনিকায়নের নামে এই ধরনের যুদ্ধাস্ত্র পুলিশের হাতে তুলে দেয়া শুরু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পুলিশের আধুনিকায়নের নামে বাহিনীতে যুক্ত করা হয় ৭ পয়েন্ট ৬২ এমএম চায়না রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, বিডি-৮ অ্যাসল্ট রাইফেল, টরাস ৯ এমএমের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার্য অস্ত্র।

আন্দোলন দমাতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি সহ বিভিন্ন বাহিনী যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, কদমতলী, রামপুরা, ও চট্টগ্রামে স্পেশাল পারপাস অটোমেটিক শটগান এবং অন্যান্য মারণাস্ত্র থেকে বিপুল পরিমাণ গুলি ছোঁড়া হয়। পুলিশের প্রথাগত অস্ত্র ব্যবহারের নীতি লঙ্ঘন করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।

মানবাধিকার কর্মীরা এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দেখছেন।

দৈনিক বণিক বার্তা
ছবির ক্যাপশান, দৈনিক বণিক বার্তা

গণহত্যায় হাসিনাসহ ৪৬ জনের নামে গ্রাপ্তারি পরোয়ানার খবরটি প্রায় বেশির ভাগ পত্রিকার শীর্ষ খবর হিসেবে রয়েছে। দৈনিক যুগান্তরে বলা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগের বিচার কার্যক্রম শ্রুরু করেছে এবং প্রথম দিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তালিকায় পৃথক অভিযোগে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, দীপু মনি, আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ ৪৫ জন রয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে আদেশের পর চিফ প্রসিকউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তদন্তে গণহত্যার প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

চিফ প্রসিকিউটরের তরফ থেকে বলা হচ্ছে আসামীরা প্রভাবশালী ও তাদের লোকজন বিভিন্ন পজিশনে থাকায় আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যা মামলার তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এজন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা প্রয়োজন।

এই খবরের পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে শেখ হাসিনা দিল্লিতে রয়েছেন সে খবর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার শেখ হাসিনাকে এক মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টিও এসেছে।

দৈনিক যুগান্তর
ছবির ক্যাপশান, দৈনিক যুগান্তর

'ঢাকা উত্তর সিটিতে পারিবারিক সিন্ডিকেট গড়েন আতিকুল' খবরটি দৈনিক সমকালের। পাঁচ বছরে কিভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেনের (ডিএনসিসি) নগর ভবন দুর্নীতির আখড়া’ হয়ে উঠেছিল সেটি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

ভাগনে-ভাতিজাকে উপদেষ্টা বানানো, মেয়র থাকাকালে কমিশন নিয়ে ডিএনসিসির ঠিকাদারি কাজ দেয়া, নিয়োগ বাণিজ্য, অন্যায় কাজে সম্মতি না দিলে নগর ভবন ছাড়তে বাধ্য করা, এছাড়া পরিবারের সদস্যদের নানা কাজে সম্পৃক্ত করা, অর্থের ভাগ বাটোয়ারা, এমন নানা অভিযোগ বর্ণনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বলা হচ্ছে মেয়েকে চিফ হিট অফিসার করার পর আইল্যান্ডে গাছ লাগানো, কিছু সড়কে গাড়ি থেকে পানি ছিটানোর (কৃত্রিম বৃষ্টি) কাজে খরচ করা হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। সবুজায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় শ্যালিকার প্রতিষ্ঠান শক্তি ফাউন্ডেশনকে।

দৈনিক সমকাল
ছবির ক্যাপশান, দৈনিক সমকাল

অপর দিকে ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়রকে নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের খবর ‘তাপসের দুর্নীতির রাজত্ব।’

সেখানে বলা হচ্ছে ২০২০ সালে মেয়র পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়ার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা দেন শেখ ফজলে নূর তাপস। এরপর চার বছরে শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দুর্নীতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত করেন। তবে চাকরিচ্যুত করলেও তিনি নিজে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন।

টেন্ডার, ইজারা, ও নিয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তার আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকদের প্রভাব দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হচ্ছে। অভিযোগ তোলা হয়েছে তিনি তার পছন্দের লোক ও রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছেন।

চার বছরে ৮৭৯ জন নতুন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে আসেন। ইজারা ও টেন্ডারেও তাপসের অনুসারীদের প্রাধান্য ছিল।

যদিও তার “৯০০ লোকের চাকরি খেয়ে ফেলার” পেছনে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে আগের মেয়র সাঈদ খোকনের নিয়োগ। এছাড়া সাঈদ খোকনের নেওয়া উদ্যোগগুলো বন্ধ করে দেয়ায় অনেক উন্নয়ন প্রকল্প অসমাপ্ত রয়ে গেছে যাতে সিটি করপোরেশনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশ প্রতিদিন
আরও পড়তে পারেন