বসবাসের অযোগ্যতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভ শহরেরও পেছনে ঢাকার অবস্থান

ছবির উৎস, AFP
- Author, অর্চি অতন্দ্রিলা
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
বসবাসের অযোগ্যতার দিক দিয়ে ঢাকা আবারো সপ্তম অবস্থানে এসেছে লন্ডনভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। গত বছরও ১৭২ টি শহরের মধ্যে ১৬৬ অবস্থানে ছিল ঢাকা।
৪৩.৮ পয়েন্ট নিয়ে ঢাকা রয়েছে তলানির দিক দিয়ে সপ্তম। যদিও পয়েন্টে কিছুটা উন্নতি হয়েছে গত বছরের তুলনায়। গত বছর ১০০ তে ঢাকার পয়েন্ট ছিল ৩৯.২। অবশ্য সব দেশেরই গড়পড়তা উন্নতি হওয়ায় র্যাংকিং-এ তেমন একটা তফাৎ হয়নি। ঢাকা এবং জিম্বাবুয়ের হারারে একই পয়েন্ট পেয়ে ১৬৬ অবস্থানে রয়েছে।
এবারের সমীক্ষায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের কিয়েভ শহরকেও যুক্ত করা হয়েছে, যেটির অবস্থান ঢাকা শহরের একধাপ উপরে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানের করাচি শহরের অবস্থান ঢাকার নিচে।
শহর কতটা বসবাসের যোগ্য সেটা নির্ধারণে বেশ কয়েকটি দিক বিবেচনা করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামোর নানা দিক।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির উৎস, Getty Images
তলানিতে যে ১০ শহর
- ডুয়ালা, ক্যামেরুন (১৬৪)
- কিয়েভ, ইউক্রেন (১৬৫)
- হারারে জিম্বাবুয়ে (১৬৬)
- ঢাকা বাংলাদেশ (১৬৬)
- পোর্ট মোর্জবি, পাপুয়া নিউ গিনি (১৬৮)
- করাচি, পাকিস্তান (১৬৯)
- লেগোস, নাইজেরিয়া (১৭০)
- আলজিয়ার্স, আলজেরিয়া (১৭১)
- ত্রিপোলি, লিবিয়া (১৭২)
- দামেস্ক, সিরিয়া (১৭৩)
শীর্ষে যেসব শহর

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির উৎস, Getty Images
- ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া (১ম)
- কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক (২য়)
- মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া (৩য়)
- সিডনি, অস্ট্রেলিয়া (৪র্থ)
- ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা (৫ম)
- জুরিখ, সুইজারল্যান্ড (৬ঠ)
- ক্যালগারি, কানাডা (৭ম)
- জেনেভা, সুইজারল্যান্ড (৭ম)
- টরন্টো, কানাডা (৭ম)
- ওসাকা, জাপান (১০ম)
- অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড (১০ম)
এখানে অষ্টম ও নবম নেই কারণ একই পয়েন্ট পেয়ে দুটি করে শহর সপ্তম ও দশম অবস্থানে রয়েছে। এর বাইরে বেশ কিছু শহর রয়েছে যেগুলোর র্যাংকিং আগের তুলনায় বেশ পিছিয়েছে। যেমন যুক্তরাজ্যের এডিনবরা, ম্যানচেস্টার, লন্ডন, আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যান ডিয়েগো, সুইডেনের স্টকহোম, এমন বেশ কিছু শহর।
বিবেচনার দিক

ছবির উৎস, Getty Images
এই সমীক্ষায় যে ৫টি দিক বিবেচনা করা হয় তার ভেতরে অনেকগুলো নির্দিষ্ট খাত আছে।
- স্থিতিশীলতা – এখানে স্থিতিশীলতা বলতে বুঝানো হচ্ছে একটি শহর কতটা অপরাধপ্রবণ। সেখানে ছোটখাটো বা বড় ধরণের অপরাধ কতটা হয় সেটি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এছাড়া সামরিক সংঘাতের হুমকি আছে কি না এবং সন্ত্রাসের হুমকি কতটা আছে সেটিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
- স্বাস্থ্যসেবা- স্বাস্থ্যসেবার রেটিং-এ আছে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা, মান, সরকারি সেবা প্রাপ্যতা, জনস্বাস্থ্য সেবার মান, ওভার দ্য কাউন্টার ওষুধের প্রাপ্যতা ও সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা সূচক।
- সংস্কৃতি ও পরিবেশ – এক্ষেত্রে তিনটি দিক রয়েছে। জলবায়ু, সংস্কৃতি ও বিনোদন। জলবায়ুর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা, সাংস্কৃতিক সমস্যার মধ্যে আছে দুর্নীতি, সামাজিক/ধর্মীয় বিধি-নিষেধ, সেন্সরশিপের মাত্রা এমন কিছু দিক, বিনোদনের দিকে আছে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, খাদ্য ও পানাহারের মতো দিক। এছাড়াও আছে ভোগ্যপণ্য ও সেবার প্রাপ্যতার মতো দিক।
- শিক্ষা – শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষার প্রাপ্যতা, মান এবং সাধারণ সরকারি শিক্ষা সূচকের দিক।
- অবকাঠামো –এই খাতে রয়েছে পরিবহণ ব্যবস্থা যেমন সড়ক ও গনপরিবহনের মান, এবং নাগরিক সুযোগ সুবিধার দিক, যেমন আবাসন, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিযগাযোগ অবকাঠামো ও গুণগত মানের দিক।
এসব রেটিং-এ ঢাকাকে মূলত অস্বস্তিকর অবস্থায় ছিল আগে থেকেই। এখন রেটিং এ কিছুটা এগোলেও সামগ্রিকভাবে সব দিক দিয়ে স্বস্তি বাড়েনি যার ফল এই র্যাংকিং।
সমস্যা যখন জনঘনত্ব

ছবির উৎস, Getty Images
ঢাকার মতো এত জনঘনত্বের দেশ পৃথিবিতে বিরল। সম্পদের যে ঘনত্ব সেটাও অন্যান্য দেশের চেয়ে বিরল। স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে জনঘনত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।
নানা কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে। এর প্রধাণ কারণ হচ্ছে, কর্মসংস্থান।
মি. হাবিব মনে করেন, যেসব শহর তালিকায় উপরের দিকে আছে সেগুলোর সাথে ঢাকা শহরের তুলনা যথার্থ নয়। কারণ, সেসব শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব ঢাকার চেয়ে অনেক কম।
"ভিয়েনা বা মেলবোর্ন শহরে সেলফি তুললে মানুষজন খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু ঢাকায় সেলফি তুললে যে কোনো জায়গায় দাঁড়ালে ১০-১৫ জন চলে আসে," বলেন মি. হাবিব।
তবে সমস্যা যে রয়েছে সে দিকটাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। সেক্ষেত্রে পরিকল্পনার অভাব একটি বড় দিক। এজন্য বেশি প্রয়োজন ঢাকার উপর জনসংখ্যার চাপ কমানো।
ঢাকার আশেপাশের শহরগুলোর সাথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংযোগ করা গেলে রাজধানীর উপর বাচ কমবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে মনে করেন স্থপতি মি. হাবিব।








