'রাস্তা বন্ধ করলে আপনাদের চলার রাস্তা বন্ধ করে দিবো'- ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঢাকার প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেছেন, "রাস্তা বন্ধ করতে আসবেন না। রাস্তা বন্ধ করলে আমরাও আপনাদের চলার রাস্তা বন্ধ করে দেবো"।
মি.কাদের ঢাকার বায়তুল মোকাররমে আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন। এ সমাবেশের কাছেই নয়াপল্টনে তখন বিএনপির মহসমাবেশ চলছিলো।
ওই সমাবেশেই বিএনপি মহাসচিব শনিবার ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
ওবায়দুল কাদের বিএনপির উদ্দেশ্যে বলেন, “চোখ রাঙ্গাবেন না। দেশী বিদেশী যারা চোখ রাঙ্গাচ্ছে তাদের বলতে চাই আমাদের শিকড় এ মাটির গভীরে। আমাদের চোখ রাঙ্গিয়ে উৎখাত করা যায় ন। কারও চোখ রাঙ্গানির পরোয়া বঙ্গবন্ধু কন্যা করেন না”।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো মূলত বিএনপির সমাবেশের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবেই এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিলো ২৪শে জুলাই।
পরে বিএনপি ২৭শে জুলাই বৃহস্পতিবার সমাবেশ ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগের সমাবেশটিও বৃহস্পতিবারে করার ঘোষণা দেয়া হয়।
কিন্তু পুলিশ প্রশাসন কাউকেই অনুমতি না দিলে বিএনপি কর্মসূচিটি শুক্রবারে সরিয়ে নেয়।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোও তাদের সমাবেশ সরিয়ে শুক্রবারে আগারগাঁওয়ে বানিজ্য মেলার মাঠে করার ঘোষণা দেয়।
পরে সে ঘোষণা থেকে সরে তারা বায়তুল মোকাররমে তাদের সমাবেশ করার কথা জানায়। সমাবেশে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা, কর্মী ও সমর্থক এসে অংশ নেয়।

ছবির উৎস, Bangladesh Awami Jubo League
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সমাবেশ নিয়ে এভাবে বিএনপিকে অনুসরন করার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমরা চুপ করে থাকলে বিএনপি কোন মূর্তিতে আবির্ভূত হয় সেটা ২০১৪ সালে দেখেননি ? আমরা শপথ নিয়েছি আগুন নিয়ে আসলে পুড়িয়ে দিবো হাত। শপথ নিয়েছি ভাংচুর করতে আসলে হাত ভেঙ্গে দিবো”।
মি. কাদের বলেন তারা সংঘাতের জন্য এ সমাবেশ করেননি তবে ২০১৪ সালে যারা আগুন সন্ত্রাস যারা করছে তাদের সংঘাতের মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ জনগনের সম্পদ ও জান মাল পাহারা দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও ওই নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতার জন্য আওয়ামী লীগ বিএনপিকেই দায়ী করে থাকে। যদিও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলে বিএনপি নেতারা যে বক্তব্য দেন তার জবাবে মি. কাদের বলেন রাজনীতির খেলায় আর আন্দোলনে আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারেনি।
“রাজনীতির খেলায় আওয়ামী লীগ চ্যম্পিয়ান। আন্দোলন করে হারানো যাবে না। চোখ রাঙ্গানির দিন শেষ হয়ে গেছে। শেখ হাসিনাকে গণভবন থেকে হটাবে আর আমরা ললিপপ খাবো ?”
ওবায়দুল কাদের বলেন বিএনপির এক দফা নয়াপল্টনের কাদাপানিতে আটকে গেছে এবং এই এক দফা কোনোদিন তাদের (বিএনপির) ক্ষমতার স্বাদ পূর্ণ করতে পারবে না।
আমেরিকান বারজন কংগ্রেসম্যান বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে সে বিষয়টি উল্লেখ করে মি. কাদের বলেন, “ আমেরিকার কিছু কংগ্রেসম্যানকে টাকা খাওয়ায় তারা(বিএনপি)। লবিস্ট নিয়োগ করে টাকা দিয়ে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের দুতের কাছে চিঠি লেখায় যে বাংলাদেশে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন করতে হবে। এ দু:সাহস তারা পেলো কোথায়”।











