সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা গেছেন

খালেদা জিয়া

ছবির উৎস, Getty Images

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মারা গেছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩০শে ডিসেম্বর, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন খালেদা জিয়া।

কিডনি, হৃদরােগ এবং নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত প্রায় এক মাস যাবত তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের অর্ন্তবর্তী সরকার।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টা পর মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণা দিয়েছেন।

এছাড়া বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজা উপলক্ষ্যে সরকার একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে বলেও জানান তিনি।

দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাতদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার থেকে আগামী একসপ্তাহ দলটির সব কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। এই সময়ে কালো ব্যাজ ধারণ করবেন দলের নেতাকর্মীরা।

সুস্থতা কামনায় দোয়া

ছবির উৎস, Getty Images

পাশে ছিলেন স্বজন-কর্মী-সমর্থকরা

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

বিএনপি জানিয়েছে, মিসেস জিয়ার মৃত্যুর সময় সেখানে তার ছেলে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান, তাদের মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরাও ছিলেন সেখানে।

প্রসঙ্গত, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ২৩শে নভেম্বর জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়া হয় খালেদা জিয়াকে। এর আগে ২১শে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওনা দিয়ে গাড়িতে ওঠেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন তিনি।

বহু বছর ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

গত মাসের শেষ দিকে মিসেস জিয়ার অবস্থা 'সংকটময়' জানানোর পর থেকেই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে 'উৎকণ্ঠা' তৈরি হয়। তাদের অনেকেই সেময় কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের সামনে ভিড় করেছেন।

এরপর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে দলের সর্বস্তরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমেও তার সবশেষ অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন দেখা যায়।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে নিয়মিত ব্রিফিং করে বা লিখিতভাবে তার স্বাস্থ্যের অবস্থার আপডেট জানিয়েছে।

খালেদা জিয়াকে এর মধ্যেই আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তা আর করা যায়নি।

মধ্যেই আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তা আর করা যায়নি। দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত ২৫শে ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান দেশে ফেরেন।

হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড়
ছবির ক্যাপশান, হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড়

খালেদা জিয়া এর আগেও বিভিন্ন সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনো শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনো তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিলো।

এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো আদালত, তারপর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুর্নীতির আরেকটি মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন।

২০২৪ সালে অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৬ই অগাস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়া

ছবির উৎস, Getty Images

জানাজা ও দাফন

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বুধবার জোহরের নামাজ শেষে ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় বেলা দুইটায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিসেস জিয়ার জানাজা সম্পন্ন করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকাসংলগ্ন জিয়া উদ্যানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে মিসেস জিয়ার দাফন সম্পন্ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এক্ষেত্র সাধারণ জনগণ জানাজায় অংশ নিতে পারলেও দাফনের সময় তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এছাড়া জানাজায় অংশ নেওয়ার সময় কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন করা যাবে না বলেও সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বুধবার দুপুরে জানাজার আগে খালেদা জিয়ার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে নেওয়া হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

সেখানে নেওয়ার সময় মিসেস জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় ১০ হাজার পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মাঠে থাকবেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেনাবাহিনীর সদস্যও দায়িত্বে থাকবেন।

বিএনপির সহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, জানাজা ও দাফনকে সামনে রেখে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে ফার্মগেট ও মিরপুর রোডে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শান্তি-শৃঙ্খলা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখাতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।